ডাস্টবিন ঘেঁটে পেট চলে তিন ভাইয়ের

ডাস্টবিন ঘেঁটে পেট চলে তিন ভাইয়ের

সুলতান মাহমুদ চৌধুরী, দিনাজপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৫২ ৭ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৪:৫৫ ৭ জুলাই ২০২০

ডাস্টবিনে ছেঁড়া জুতা, ভাঙা বোতল, প্লাস্টিক খুঁজছে তিন ভাই

ডাস্টবিনে ছেঁড়া জুতা, ভাঙা বোতল, প্লাস্টিক খুঁজছে তিন ভাই

কাক ডাকা ভোরে কয়েকটি প্লাস্টিকের বস্তা আর একটি পুরোনো ভ্যান নিয়ে বেরিয়ে পড়ে রফিক, জনি ও রনি। ওরা তিন ভাই। বিভিন্ন ডাস্টবিন থেকে খাবার-ফলমূলের উচ্ছিষ্ট, ছেঁড়া জুতা, নোংরা কাপড় খুঁজে বের করে। সেসব নিয়ে ভাঙারির দোকানে বিক্রি করেই দু’বেলা দু’মুঠো খাবার জোটে তাদের।

সোমবার ভোরে দিনাজপুর শহরের সরদার পাড়ার তিন রাস্তার মোড়ের ডাস্টবিনে নিত্যদিনের মতো ছেঁড়া জুতা, ভাঙা বোতল খুঁজতে দেখা গেল তিন ভাইকে। দুর্গন্ধে আশপাশের মানুষ মাস্কে নাক-মুখ ঢেকে চলে গেলেও এতে একফোঁটা ভ্রুক্ষেপ নেই তাদের। ডাস্টবিনের ভেতর ঢুকে গভীর মনযোগের সঙ্গে প্রয়োজনীয় জিনিস খুঁজছে তারা। কিছু পাওয়া গেলে তা প্লাসিকের বস্তার ভেতর ঢুকাচ্ছে। একটি বস্তা ভরে গেলে, সেটি ভ্যানে রেখে আরেকটি খালি বস্তা নিয়ে আসছে। এভাবেই তারা এক ডাস্টবিন থেকে অন্য ডাস্টবিনে ঘুরে পরিবারের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করছে।

রফিক, জনি ও রনি দিনাজপুর শহরের হঠাৎপাড়ার আব্দুল মফিজের ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে রফিক বড়। সে জানায়, মা-বাবা আর চার ভাই-বোনের সংসার তাদের। বাবা আগে ঝালমুড়ি বিক্রি করতো। এতে সংসার চালানো সম্ভব হতো না। দুই বছর আগে বাবা অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ায় সংসারের বোঝা কাঁধে নিতে হয় তিন ভাইকে।

ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়ে পাওয়া ছেঁড়া জুতা, ভাঙা বোতল, প্লাস্টিক বস্তায় ভরে ভ্যানে তুলছে রফিক-জনি-রনি

রফিক আরো জানায়, তার মা ছাত্রাবাসে কাজ করতো। এখন ছাত্রাবাস বন্ধ থাকায় পুরো পরিবার আরো অসহায় হয়ে পড়েছে। এ কারণে ছোট ভাইদের নিয়ে চার বছর ধরে টোকাই-এর কাজ করছে রফিক। করোনাভাইরাসের আগে প্রতিদিন তিনশ টাকা আয় হতো। এখন আয় অনেক কমে গেছে। এতে পেট চালানো যায় না।

জনি-রনি জানায়, ডাস্টবিনের গন্ধ তারা পায় না। চার বছর ধরে এ কাজ করতে করতে নাকে সয়ে গেছে।

তারা আরো জানায়, তাদের মতো আরো টোকাই রয়েছে দিনাজপুর শহরে। খুব সকালে বের না হলে অন্য টোকাইরা ডাস্টবিন খুঁজে সব কিছু নিয়ে যায়। এ কারণে পরিবারের সবার কথা চিন্তা করে আগে বের হতে হয়। দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস শহরের ষষ্ঠীতলায় ভাঙারির দোকানে বিক্রি করে যে টাকা হয় তা দিয়ে বাড়িতে চাল, ডাল, তরকারি কিনে নিয়ে যেতে হয়। একদিন বের না হলেই না খেয়ে থাকতে হয়।

রফিক, জনি ও রনির মতো আরো অনেক টোকাই আছে দিনাজপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায়। যাদের সংসার চলে নোংরা ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়ে পাওয়া ছেঁড়া জুতা, ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল কিংবা খাবারের উচ্ছিষ্টে।

দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম জানান, পৌর এলাকায় নিম্ন আয়ের অনেক পরিবার রয়েছে। অভাবের কারণে এসব পরিবারের সদস্যরা ছেঁড়া জুতা, ভাঙা বোতল, প্লাস্টিক কুড়িয়ে রোজগার করে। কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে তারা এসব কাজ করতো না।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর