ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমে একক নামে ১০ লাখ টাকার বেশি নয়

ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমে একক নামে ১০ লাখ টাকার বেশি নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৫১ ২৮ মে ২০২০   আপডেট: ১৯:৫৭ ২৮ মে ২০২০

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমে একক নামে ১০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ করা যাবে না। এতদিন এই সীমা ছিল ৩০ লাখ টাকা। আর যুগ্ম-নামে বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা ৬০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে করা হয়েছে ২০ লাখ টাকা।

গত ২০ মে স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন বৃহস্পতিবার জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে অবশ্য এই সীমা কমানোর কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এ আদেশ জারির দিন থেকে কার্যকর হবে।

সঞ্চয়পত্রের বিক্রির চাপ কমাতে গত বছরের ১ জুলাই থেকে মুনাফার উপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। একইসঙ্গে এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে টিআইএন (কর শনাক্তকরণ নম্বর) বাধ্যতামূলক করা হয়। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকলে কোনো সঞ্চয়পত্র কেনা যাবে না মর্মে শর্ত আরোপ করা হয়।

তারই ধারাবাহিকতায় গত ফেব্রুয়ারিতে ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের সুদের হার কমানোর ঘোষণা দেয় অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ।

তিন বছর মেয়াদি ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের সুদের হার ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬ শতাংশ করার ঘোষণা দেয়া হয়। সমালোচনার মুখে পরে অবশ্য সে ঘোষণা প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। এখন এই সঞ্চয় স্কিমে বিনিয়োগের সীমা তিন ভাগের দুই ভাগই কমিয়ে দেয়া হল।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই বিভাগের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমে বলেন, ব্যাংক আমানতে সুদহার এখন ৬ শতাংশ। আর ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের কিংবা সঞ্চয়পত্রে সুদহার সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ।

সুদের হার অনেক বেশি হওয়ায় সামাজিক নিরাপত্তার খাত হিসেবে বিবেচিত এ খাতে অনেক ধনী ব্যক্তিরা বিনিয়োগ করছে। পাশাপশি এ খাত থেকে ঋণ নিলে সরকারকে বেশি পরিমাণ সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে করে সরকারের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। তাই ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমে বিনিয়োগের সীমা কমিয়ে দিয়েছে সরকার।

উল্লেখ্য এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের সুদহার প্রায় অর্ধেক কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। তবে সংসদের ভেতরে, বাইরে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে তখন ব্যাপক সমালোচনা হয়। সমালোচনার মুখে গত ১৭ মার্চ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে আগের সুদ হার বহাল রাখা হয়।

ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের সাধারণ হিসাবের ক্ষেত্রে সুদহার হবে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া, তিন বছর মেয়াদি ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের সুদের হার হবে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। মেয়াদ পূর্তির আগে ভাঙানোর ক্ষেত্রে এক বছরের জন্য সুদ পাওয়া যাবে ১০ দশমিক ২০ শতাংশ। দুই বছরের ক্ষেত্রে ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে