দূরবীনপ্রথম প্রহর

ঠান্ডা লাগলে করণীয়

ফাতিমাতুজ্জোহরাডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
ছবি: সংগৃহীত

আপনার কি সকাল হলেই নাক বন্ধ হয়ে আসে? হাঁচি হচ্ছে? খুসখুসে কাশিতে রাতে ঘুমাতে পারছেন না? অনেক সর্দি লেগেছে। শীতকালে আসলে এগুলো খুবই সাধারণ রোগ। কারণ বাইরে ঠান্ডা বাতাস আর ঘরের ভেতরে গরম। এ সমস্যার জন্য অসুস্থ হয়ে পড়ছেন দিনে দিনে। জেনে নিন ঘরোয়া পদ্ধতিতে কীভাবে ঠান্ডাকে প্রতিরোধ করবেন-

গোল মরিচ: গোল মরিচ সর্দি-ঠান্ডা রোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এ জন্য প্রথমে এক গ্লাস হালকা পানি নিতে হবে। তারপর মধ্যে এক চা চামচ গোল মরিচগুড়োর সঙ্গে দুই চা চামচ মধু মিশিয়ে ১৫ মিনিটের মতো রেখে দিতে হবে। গোল মরিচের দানাগুলো গ্লাসের নিচে জমা হলে ঐ পানি ধীরে ধীরে পান করতে হবে। এতে খুব তাড়াতাড়িই ঠান্ডা থেকে মুক্তি পাবেন। অর্থাৎ সর্দি, কাশি ও হাঁচি এসকল সমস্যা থেকেই খুব সহজে মুক্তি মেলবে।

লবঙ্গ: শীতের হাওয়া শরীরে ও মনে নাচন ধরিয়ে দিচ্ছে বলা যেতেই পারে। শীত মানেই পিকনিক, ঘুরে বেড়ানো সেই সঙ্গে শীত মানেই ঠান্ডা লাগা, গলা ব্যথা খুসখুসে কাশি হওয়া। এ ঠান্ডা লাগার হাত থেকে লবঙ্গ বাঁচাতে পারে। এ জন্য কয়েক টুকরো লবঙ্গ নিতে হবে। সেগুলো পানিতে লবণসহ জ্বাল দিতে হবে। এ পানি হালকা গরম থাকতেই খেয়ে নিন। এছাড়াও আরেকটি পদ্ধতি রয়েছে। কিছু লবঙ্গ ও আদা পানিতে মিশিয়ে গারগল করতে পারেন। যারা গারগল করতে পারেন না তারা লবঙ্গ ও আদা মিশ্রিত পানি হালকা গরম থাকা অবস্থায় খেয়ে নিতে পারেন। কারণ এ পানিতে কোনো পার্শ্ব পতিক্রিয়া নেই।

আদা: এখন রাস্তায় বের হলেই হালকা ঠান্ডা হাওয়া গায়ে লাগে। একটু হালকা শীত শীতও করে। ঘরের মধ্যে ফ্যান চালালে ঠান্ডা লাগে ও ফ্যান বন্ধ করে দিলে গরম লাগে। এ ধরণের সমস্যা প্রত্যেকেরই হচ্ছে। এ কারণেই এ সময় ঠান্ডা লাগে, গলার মধ্যে চুলকানির ভাব হয়, কাশি ও সর্দি হয়ে থাকে। তাই এ ঠান্ডা থেকে রক্ষা পেতে। এছাড়াও আদা শরীরের জন্য খুবই উপকারি। ঠান্ডা লাগলে একটু আদা চা খেলে ভালোই লাগে। এতে গলার খুশখুশে ভাব অনেকটাই কেটে যায়। প্রচীন কাল থেকে ঠান্ডা, জ্বর , কাঁসি ও মাথা ব্যথার জন্য আদার ব্যবহার হয়ে আসছে। আদা চা গলার কফ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। গলার মধ্যে কফ জমে থাকলে অনেক সময় শ্বাসকষ্টও হয়। এর হাত থেকে রক্ষা করতে আদা চা ভীষণভাবে সাহায্য করে। এর সঙ্গে গলার খুসখুসে ভাবও কমে যায়। এছাড়াও আদার রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে দিনে তিন বার খেলে খুবই উপকার পাবেন। খুশখুশে কাঁসি খুব তাড়াতাড়ি কমে যাবে। আমরা অনেক সময় ঠান্ডা লাগলে আদা লবণ দিয়ে কুচি কুচি করেও খেয়ে থাকি।

মধু: ত্বকের পাশাপাশি শরীরের জন্যও এ মধু খুবই উপকারি। গলার খুশখুশে ভাব কমিয়ে খুব সহজে আরাম দিতে পারে মধু। মধু নিজেই যেহেতু গরম তাই এটি ঠাণ্ডা দূর করতেও খুবই কার্যকরী। হালকা গরম পানিতে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন বা আঙ্গুরের রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন, এছাড়াও চায়ের চিনির বদলেও মধু মিশিয়েও খেতে পারেন। বয়ষ্করা মধুর সঙ্গে দারুচিনির গুঁড়ো মিশিয়েও খেতে পারেন। যা ঠান্ডা লাগা প্রতিরোধে খুবই ভালো কাজ করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস

daily-bd-hrch_cat_news-11-10