কক্সবাজারে শাহাবুদ্দিনের ‘ওয়াটারক্রাফট’ সাগরে চলবে-আকাশেও উড়বে

কক্সবাজারে শাহাবুদ্দিনের ‘ওয়াটারক্রাফট’ সাগরে চলবে-আকাশেও উড়বে

কক্সবাজার প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০১:৩৭ ১৫ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৬:২৫ ১৫ জুলাই ২০২০

টয়োটার ইঞ্জিনে তৈরি শাহাবুদ্দিনের ‘ওয়াটারক্রাফট’

টয়োটার ইঞ্জিনে তৈরি শাহাবুদ্দিনের ‘ওয়াটারক্রাফট’

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার সৌদিফেরত শাহাবুদ্দিন টয়োটা গাড়ির ইঞ্জিন ব্যবহার করে তৈরি করছেন ‘ওয়াটারক্রাফট’। এটি সাগরে চলবে ঘণ্টায় ৭৫-৮০ কিলোমিটার বেগে। এমনকি শক্তিশালী ইঞ্জিন ও ভালো মানের পাখা পেলে এটি আকাশেও উড়বে।

শাহাবুদ্দিন জানান, এখন ক্রাফটির গতি কমানো হয়েছে। ভালোমানের পাখা লাগালে এর গতি হবে ঘণ্টায় ১০০-১১০ কিলোমিটার।

তিনি আরো জানান, এ ওয়াটারক্রাফটে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় চলাচলের সব ব্যবস্থা থাকবে। সাগরের উত্তাল ঢেউ এটির কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।

২০০৩ সালে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন শাহাবুদ্দিন। সেখানে গাড়ির ইঞ্জিন মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন। পরে নিজেই একটি ওয়ার্কশপ দিয়েছিলেন। গত বছরের জুলাইয়ে তিনি দেশে ফিরে আসেন। কুতুবদিয়ায় ট্রলার ও গাড়ি মেরামত করার ওয়ার্কশপ দেন। কিন্তু ভালো কাজের লোক না পাওয়ায় তা বন্ধ করে দেন। এরপর নিজের মতো কিছু একটা করার চিন্তা করেন। তখনই ‘ওয়াটারক্রাফট’ বানানোর পরিকল্পনা মাথায় আসে তার।

শাহাবুদ্দিন বলেন, আমি পাঁচ বছর আগেও এটা বানানোর চিন্তা করেছিলাম। প্র্যাকটিক্যাল কাজ করলে বিভিন্ন ধরনের আইডিয়া মাথায় আসে। সেই ভাবনা থেকেই এ ক্রাফট বানানো শুরু করি।

তিনি বলেন, সৌদি আরবে গাড়ি মেরামতের কাজ করার পর এক লেবানিজ এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়ারের অধীনে দুই বছর এয়ারক্রাফটের যন্ত্রাংশ নিয়ে কাজ করেছি। কিন্তু বেতন কম ছিল বলে তা বেশি দিন করিনি। বিদেশ থেকে ফিরে আসার কারণও ছিল এটা।

শাহাবুদ্দিনের এ ওয়াটারক্রাফট পানির উপর দিয়ে চলবে। তিনি বলেন, এটা প্রথমে ওড়ানোর চেষ্টা করেছিলাম। ওড়ানোর জন্যে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্জিন ও শক্তিশালী পাখা প্রয়োজন। সেগুলো এখানে পাইনি। এ কারণে ওড়ার অংশটা আপাতত বন্ধ রেখেছি।

তিনি আরো বলেন, এ ক্রাফটটি স্পিডবোটের মতো চলবে। তবে প্লেনের মতো দুইপাশে পাখা থাকবে। পাখা দুটি বাতাসের সাহায্যে চলবে। এর প্রাথমিক জ্বালানি হবে ডিজেল। ক্রাফটটির এখনো কোনো নাম দেইনি। স্থানীয়রা নাম দিয়েছে ‘ওয়াটার হেলিকপ্টার’ নাম দিয়েছেন। যেদিন এটা উদ্বোধন করবো সেদিন এলাকাবাসীর পছন্দ মতো নাম দেব।

সবশেষে শাহাবুদ্দিন বলেন, কোরবানি ঈদের পর সরকারি অনুমতি নিয়ে ক্রাফটটি সাগরে চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এখনো প্রায় ২০ ভাগ কাজ বাকি। বৃষ্টির কারণে কয়েকদিন নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। সপ্তাহখানেকের মধ্যে তা শেষ করা যাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর/জেডএম