ট্রেন যাত্রীদের দুর্ভোগ

ট্রেন যাত্রীদের দুর্ভোগ

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০২:১৩ ৫ মার্চ ২০২০   আপডেট: ০২:১৬ ৫ মার্চ ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দেশের পূর্বাঞ্চল রেলপথের আখাউড়া-সিলেট, কুমিল্লা-আখাউড়া-ঢাকা, চাঁদপুর-আখাউড়া-ভৈরব ও শায়েস্তাগঞ্জ- আখাউড়া-ভৈরব রেলপথে চলাচলকারী যাত্রীবাহী জালালাবাদ, ডেমু , বাল্লা ও চাঁদপুর লোকালসহ পাঁচটি ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। 

ইঞ্জিন সংকটসহ নানা কারণে দীর্ঘ দিন ধরে ওইসব ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। ওইসব  রেলপথে একের পর এক যাত্রীবাহী লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় প্রতিনিয়ত সাধারণ ট্রেন যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে ওইসব পথে পুনরায় ট্রেনগুলো কখন চলবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কেউ কিছু বলতে পারছেনা। 

আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা-আখাউড়া-ঢাকা ও আখাউড়া-সিলেট রেলপথে চলাচলকারী যাত্রীবাহী দুটি ডেমু ট্রেন গত ২০১৮ সালে চলাচল বন্ধ হয়। এর কিছু দিন পর বন্ধ হয় শায়েস্তাগঞ্জ- আখাউড়া-ভৈরব পথে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাল্লা লোকাল, এর তিন বছর আগে বন্ধ হয়ে যায় চাঁদপুর-আখাউড়া-ভৈরব রেলপথে  চলাচলকারী যাত্রীবাহী চাঁদপুর লোকাল ট্রেন। 

সম্প্রতি বন্ধ হয় জালালাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেন। ওইসব পথে ট্রেনের প্রচুর যাত্রী থাকা সত্বেও দীর্ঘ দিন ধরে পাঁচটি ট্রেন আকস্মিক কারণে বন্ধ থাকায় সাধারণ ট্রেন যাত্রীরা যাতায়াতে চরম ভোগান্তি বাড়ছে।
 
এদিকে জালালাবাদ ডেমু, চাঁদপুর লোকাল ও বাল্লা ট্রেন দিয়ে প্রতিদিন শতশত শিক্ষার্থী কুমিল্লা-আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া,আশুগঞ্জ ও ভৈরব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পড়াশুনা করতো। সেই সঙ্গে চাকরিজীবী ,ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন নানান প্রয়োজনে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করতো প্রতিদিন। ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় এখন সড়ক পথে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে তাদের ভ্রমণ করতে হচ্ছে।

ওইসব রেলপথে চলাচলকারী যাত্রীবাহী পাঁচটি ট্রেন বন্ধ হওয়ার ফলে রেলওয়ে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত ট্রেনগুলো ওইসব পথে চালু করতে সাধারণ যাত্রীরা সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানায়। 

উপজেলার উত্তর ইউপির চানপুর গ্রাম থেকে আসা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, সকালে লোকাল ট্রেনের মাধ্যমে ব্রাক্ষণবাড়িয়া গিয়ে প্রাইভেট পড়াসহ কলেজে ক্লাস করা যেতো। 

লোকাল ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কলেজে যেতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। কারণ সড়ক পথে কলেজে আসা যাওয়া করতে প্রতিদিন ১শ টাকার বেশি খরচ হয়। এতো টাকা খরচ করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ছে। 

কলেজ ছাত্র সুজন বলেন, সড়ক পথে কলেজে যেতে অনেক টাকা খরচ হয়। তাই টাকার অভাবে নিয়মিত কলেজে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।  

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মো. ইমরান হোসেন বলেন, সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত থাকতে হয়। লোকাল ট্রেন না থাকায় সড়ক পথে যেতে হচ্ছে তার। বাড়ি থেকে অফিসে আসা যাওয়ায় সড়ক পথে প্রতিদিন দেড়শ টাকার বেশি লাগছে। 

পৌর শহরের ব্যবসায়ী আলম মিয়া বলেন, রেলপথে ট্রেন দিয়ে ভৈরব থেকে মালামাল কিনে দুপুরের মধ্যে আসা যেতো। এখন আসা যাওয়ায় সারা দিন লেগে যায়।  

আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন সুপার মো. কামরুল হাসান তালুকদার বলেন ডেমু, বাল্লা ও চাঁদপুর লোকালসহ ৫টি ট্রেন বন্ধ হওয়ার বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ইঞ্জিন সংকটসহ নানা কারণে সাময়িক ওইসব ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।  
 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে