Alexa ট্রুডোতেই আস্থা কানাডীয়দের

ট্রুডোতেই আস্থা কানাডীয়দের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:০৮ ২২ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৬:১০ ২২ অক্টোবর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

কানাডার ৪৩ তম সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভের মধ্য দিয়ে ফের দেশটির ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছেন জাস্টিন ট্রুডো। প্রধান প্রতিদ্বন্দী কনজারভেটিভ পার্টিকে হারিয়ে তার লিবারেল পার্টিই জয়লাভ করতে যাচ্ছে বলে দেশটির গণমাধ্যমসমূহ জানিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হলে তাকে হয়তো একটি সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে হবে।

সোমবার কানাডায় জাতীয় নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের (সিবিসি) প্রদর্শিত ফলাফলেও এমন ধারণাই পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

তবে হাতে ব্যালট গণনার কারণে চূড়ান্ত ফল প্রকাশে কিছুটা সময় লাগতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, স্থানীয় সময় সোমবার রাতে বা মঙ্গলবার সকালের মধ্যে ফল জানা যাবে। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণার আগে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে ট্রুডোকেই এগিয়ে রাখা হয়েছে।

কানাডার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত আসা ফলাফলে দেশটির ৩০৪টি ইলেক্টোরাল ডিস্ট্রিক্টের মধ্যে ১৪৬টিতে লিবারেলরা হয় এগিয়ে আছে অথবা নির্বাচিত হয়েছে বলে সিবিসি জানিয়েছে।

দ্বিতীয়বারের মতো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ট্রুডোর দলকে ১৭০টি আসনে জয় পেতে হবে। অন্যথায় ট্রুডোকে একটি সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে হবে। সেক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কোনো আইন পাস করতে তাকে বামপন্থি বিরোধীদলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হবে। এতে ৩৩৮ আসনের হাউস অব কমন্সে ট্রুডোর অবস্থান গত মেয়াদের চেয়ে দুর্বল হবে।

তবে সংখ্যালঘু সরকার গঠিত হলে সুবিধা পাবে বামপন্থী রাজনৈতিক দল নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এনডিপি)। সেক্ষেত্রে কিংমেকারে পরিণত হবেন দলটির নেতা জগমিত সিং।

চার বছর আগে সত্যিকারের পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে বিশাল এক বিজয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন জাস্টিন ট্রুডো। চলতি বছরের নির্বাচনেও তার দলকেই পরবর্তী সরকারে দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

২০১৫ সালে ট্রুডো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের সময় তার মন্ত্রিসভায় নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণের কারণে বিশ্বের সংবাদ মাধ্যমে শিরোনাম হয়েছিলেন। যা তার দলের প্রধান গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য বলে তিনি প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন।

এবারের ভোটের আগে চূড়ান্ত প্রচারণার সময় লিবারেল পার্টির নেতা ৪৭ বছর বয়সী ট্রুডোর প্রতি সমর্থন জানান যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ট্রুডোকে বিশ্বের প্রভাবশালী গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে অবশিষ্ট শেষ প্রগতিশীল নেতা বলে বিবেচনা করা হয়।

কিন্তু নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রকাশিত ‘ব্ল্যাকফেস’ কেলেঙ্কারির কারণে এবং শীর্ষ একটি কানাডীয় কোম্পানির দুর্নীতি নিয়ে শক্ত হতে না পারায় ওঠা সমালোচনায় কিছুটা কোনঠাসা হন ট্রুডো।

লিবারেল দলীয় কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে ট্রুডোর ছেলে জাস্টিন ট্রুডো সোমবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে মন্ট্রিয়েলে ভোট দেন। অপরদিকে রক্ষণশলী নেতা শেয়ার তার নিজের নির্বাচনী এলাকা সেসকাচুয়েনে নিজের ভোটটি দেন।

কানাডার অপর দলগুলোর মধ্যে কুইবেক প্রদেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী জোট কিবেকুয়া ওই প্রদেশটিতে ৩৩ আসনে এগিয়ে আছে অথবা জয়ী হয়েছে। গ্রিন পার্টি একটি আসনে এগিয়ে আছে অথবা জয় পেয়েছে বলে জানা গেছে।

১০টি প্রদেশ নিয়ে গঠিত কানাডা আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। প্রায় চার কোটি মানুষের দেশটিতে এবারের নির্বাচনে মোট ছয়টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। দলগুলো হচ্ছে−লিবারেল, কনজারভেটিভ, নিউ ডেমোক্র্যাটিক, ব্লক কুবেকুয়া, গ্রিন ও পিপলস পার্টি অব কানাডা।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী