ট্রাক-পিকআপে ঢাকায় ফিরছে মানুষ

ট্রাক-পিকআপে ঢাকায় ফিরছে মানুষ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:০৬ ৩০ মে ২০২০  

কর্মস্থল ঢাকায় ফিরছেন হাজার হাজার মানুষ

কর্মস্থল ঢাকায় ফিরছেন হাজার হাজার মানুষ

মহাসড়কে গণপরিবহন বন্ধ তাই ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার মানুষ কর্মস্থল ঢাকায় ফিরছেন। এতে ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু (পূর্ব) মহাসড়কে পিকআপ, প্রাইভেটকার, মাইক্রো ও মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেড়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে ২২ হাজার গাড়ি পারাপার হয়েছে। এতে সেতুতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার অধিক। 

বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে প্রাইভেটকার, মাইক্রো, পিকআপ, মোটরসাইকেল, পণ্যবাহী ট্রাকসহ ছোট ছোট ট্রাক মিলিয়ে সেতু পারাপার হয়েছে ২২ হাজারের অধিক গাড়ি। এর মধ্যে মাইক্রো-প্রাইভেটকার ৮ হাজার, মোটরসাইকেল ৭ হাজার এবং পিকআপ, পণ্যবাহী ট্রাকসহ ছোট ট্রাক পারাপার হয়েছে ৭ হাজার।  

শনিবার সরেজমিনে ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু (পূর্ব) মহাসড়কের সেতু গোলচত্বর ও এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড গিয়ে দেখে গেছে, শত শত মানুষ কর্মস্থলে যেতে সেখানে ভিড় করছেন। মানুষজন কর্মস্থলে পৌঁছাতে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রো ও পিকআপে করে যাচ্ছে। এর মধ্যে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে মোটরসাইকেল ভাড়া নিয়ে অনেককে যেতে দেখা গেছে। 

অন্যদিকে মহাসড়কে অনুমোদনহীন সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা যোগে মানুষ গন্তব্যে যাচ্ছেন। তবে কারো মধ্যেই সামাজিক দূরত্ব নেই। গাদাগাদি করে পিকআপ, মাইক্রোতে যাচ্ছেন তারা। তবে মহাসড়কের ভূঞাপুর লিংক রোডে হাইওয়ে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে কাজ করছে। ঝুঁকি নিয়ে পিকআপে করে যাওয়া মানুষজনকে নামিয়ে দেয়া হচ্ছে পথেমধ্যেই। 

জানা গেছে, সরকার ঘোষিত দীর্ঘ দুই মাসের সাধারণ ছুটি শেষ হচ্ছে আগামীকাল। ছুটি শেষ হওয়ায় বিভিন্ন মাধ্যমে করোনাভাইরাসের ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে পরিবার পরিজন নিয়ে হাজার হাজার মানুষ ছুটছে ঢাকায়। 

একদিকে গণপরিবহন বন্ধ অন্যদিকে চাকরি বাঁচাতে ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে ফিরতে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। এছাড়া বাড়তি ভাড়ার ভোগান্তি তো রয়েছেই। যে যেমন পারছেন অসহায় মানুষজনের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নিয়ে তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছেন। 

এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী যাবেন ফরহাদ হোসেন নামের এক গার্মেন্টকর্মী। অপেক্ষায় আছেন কম ভাড়ায় গন্তব্যে পৌঁছাতে। তাতে তার সময় কেটে যায় দুই ঘণ্টা। ততক্ষণে কোনো যান পাননি তিনি। 

এ সময় তিনি বলেন, ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরছি। যে টাকা হাতে ছিল সেটা বাড়িতেই খরচ হয়ে গেছে। অন্যের কাছ থেকে ধার-দেনা করে অল্প টাকা নিয়ে বের হয়েছি কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য। কিন্তু এখানে এসে দেখি অনেক বেশি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু এতো টাকা আমার কাছে নেই। 

কর্মস্থলে যেতে অপেক্ষারত অনেকেই বলেন, ধারণ ক্ষমতার অধিক যাত্রী বহন করায় চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকি মাথায় নিয়েই জীবন-জীবিকার তাগিদে ঢাকায় ফিরতে হচ্ছে। যেকোনো মাধ্যমেই হোক কর্মস্থলে পৌঁছাতে হবে। নইলে চাকরি ঠেকানো খুব কঠিন হয়ে পড়বে। ঝুঁকি নিয়ে কম ভাড়ায় পিকআপে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। অনেকেই দুইজনে মিলে একটা মোটরসাইকেল ভাড়া করে যাচ্ছেন। 

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কামাল হোসেন বলেন, শনিবার সকাল থেকেই মহাসড়কে ছোট ছোট যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ ছাড়াও টাঙ্গাইলের আশপাশের জেলার মানুষজন এই মহাসড়ক ব্যবহার করে কর্মস্থলে যাচ্ছেন বিভিন্ন মাধ্যমে। এতে মহাসড়কে প্রাইভেটকার, পিকআপ, পণ্যবাহী ট্রাক, মোটরসাইকেল ও মাইক্রোর সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে মহাসড়কের ভূঞাপুর লিংঙ্করোড এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছে মানুষের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে