Alexa ট্যানারি মালিকদের কারণেই চামড়ার দামে বিপর্যয়!

ট্যানারি মালিকদের কারণেই চামড়ার দামে বিপর্যয়!

মীর সাখাওয়াত সোহেল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:২৯ ১৮ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ১৭:৩০ ১৮ আগস্ট ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

চামড়াজাত দ্রব্য তৈরিতে ট্যানারিগুলোতে চামড়ার যে চাহিদা, তার বড় অংশই পূরণ হয় ঈদুল আজহায় কোরবানি হওয়া পশু থেকে। বিগত কয়েক বছরের চেয়ে চামড়ার দামের ব্যপক দরপতন হয়েছে এবার। আড়তদার ব্যবসায়ীরা এর জন্য ট্যানারি মালিকদের দায়ী করেছেন। তবে ট্যানারি মালিকরা তাদের এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

আকার অনুযায়ী গরুর চামড়া ২০০-৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেকেই আশানুরূপ দাম না পেয়ে পশুর চামড়া বিভিন্ন মসজিদ মাদরাসায় দান করে দিয়েছেন।

পাইকারি ক্রেতারা বলছেন, আড়তদাররা কম দামে চামড়া ক্রয় করছেন। অন্যদিকে আড়তদাররা বলছেন, ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশন থেকে বকেয়া পরিশোধ না করায় অর্থ সংকটে রয়েছেন তারা। তাই চামড়া কিনতে পারছেন না। অনেকেই আবার সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর অভিযোগ করেছেন।

চামড়া ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাজি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ট্যানারি মালিকদের কাছে কাঁচা চামড়া যে বকেয়া টাকা পায় তাই পরিশোধ করেনি।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র পোস্তার ব্যবসায়ীরাই ১০০ কোটি টাকা পায় ট্যানারি মালিকদের কাছে। তারা আমাদের ঈদের আগে বকেয়া পরিশোধ করলে এমন পরিস্থিতি হতো না। আমরা প্রকৃত চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়া না কিনতে পাড়ার কারণে মাঝখান থেকে একটি চক্র টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাবে।

দেলোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ট্যানারি মালিকরা ব্যাংক ঋণ ও সরকারের কাছ থেকে নানা প্রণোদনা পান। তারপরেও তারা আমাদের টাকা বকেয়া রাখেন। আমরা তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছি। সরকারের কাছে একটি টাস্কফোর্স গঠন করার দাবি জানান তিনি।

বিদেশে কাঁচা চামড়া রফতানির বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি কখনো দেখিনি বাংলাদেশ থেকে কাঁচা চামড়া রফতানি হয়েছে।

বরাবরের মতো সরকারের পক্ষ থেকে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেয়া হলেও মাঠের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর কাঁচা চামড়া ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় কেনার কথা ট্যানারি মালিকদের। আর ছাগলের কাঁচা চামড়া সারাদেশে প্রতি বর্গফুট ১৮-২০ টাকা। বকরির চামড়া বর্গফুট প্রতি ১৩-১৫ টাকা দরে কেনা-বেচা হওয়ার কথা।

কিন্তু এবার এতই দরপতন হয়েছে যে, দাম না পেয়ে রাস্তায় লাখ লাখ চামড়া ফেলে চলে যান চট্টগ্রাম, কুষ্টিয়া, যশোর, সিলেট, দিনাজপুরসহ অন্যান্য এলাকার ফড়িয়ারা।

অন্যদিকে, গত ১৪ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রি টিপু মুনশি বলেন, চামড়ার কম দাম ব্যবসায়ীদের কারসাজি। সে সময় তিনি বলেন, চামড়া নিয়ে যখনই ভালো উদ্যোগ নেয়া হয় তখনই এর বিরুদ্ধাচরণ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ট্যানারি মালিকরা শুধু লবণযুক্ত চামড়া কেনে। তিনি বলেন, সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর অভিযোগ তো পুরনো। গত বিশ বছর ধরে একই অভিযোগ করা হচ্ছে আমাদের বিরুদ্ধে। ঢাকা শহরে এক লাখ লোক চামড়া কেনেন। এ এক লাখ লোককে কে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন? এটা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহমেদ বলেন, চামড়ার দরপতনে ট্যানারি মালিকদের কোনো ভূমিকা নেই। আড়তদার-মৌসুমি ব্যবসায়ীরা মিলে প্রান্তিক পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের ঠকিয়েছে। বড় আড়তদাররা ব্যাপারীদের টাকায় ব্যবসা করেন। কিন্তু তারা ব্যাপারীদের সময়মতো টাকা দেন না। এটা বড় সমস্যা।

ডেইলি বাংলাদেশ/মীর/এসআই