টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে চার মাদক ব্যবসায়ী নিহত

টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে চার মাদক ব্যবসায়ী নিহত

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি    ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৩২ ২৮ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১২:৪১ ২৮ মার্চ ২০২০

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

কক্সবাজারের টেকনাফে বিজিবি ও পুলিশের সঙ্গে পৃথক বন্দুকযুদ্ধে চার মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিজিবির তিন সদস্য ও পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন।

শনিবার ভোরে উপজেলার লেদা ছ্যুরিখাল এলাকা ও হোয়াইক্যং তুলাতুলি এ বন্দুকযুদ্ধ হয়।

আহত বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা হলেন, নায়েক মঞ্জুর রহমান, সিপাহী খোরশেদ ও মাহমুদুল হাসান ও এএসআই আরিফ হোসেন, কনস্টেবল রুমন ও এডিসন চাকমা।

টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান জানান, হ্নীলা ইউপি লেদা ছ্যুরিখাল এলাকা দিয়ে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার বড় চালান প্রবেশ করবে। এমন তথ্যে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ টহলদল ছ্যুরিখাল বিজিবি পোস্টের দক্ষিণে অবস্থান করেন।

কিছুক্ষণ পর ৪-৫ জন ব্যক্তি নৌকা নিয়ে নাফনদী পার হয়ে ছ্যুরিখালের দিকে আসার সঙ্গে সঙ্গে টহলদলের উপস্থিতি লক্ষ্য করা মাত্রই ইয়াবা পাচারকারীরা গুলি ছোড়ে। এতে বিজিবি তিন সদস্য আহত হন। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে ৪-৫মিনিট গোলাগুলি চলতে থাকে।

একপযার্য়ে ইয়াবা পাচারকারীরা গুলি করতে করতে কেওড়া বাগানের দিকে পালিয়ে যায়। গোলাগুলি থামার পর টহলদল ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার ইয়াবা, দুটি দেশীয় তৈরি বন্দুক, দুই রাউন্ড তাজা কার্তুজ, একটি কার্তুজের খোসা ও একটি ধারালো কিরিচসহ গুলিবিদ্ধ তিন ব্যক্তিকে উদ্ধার করে। 

প্রথমে তাদের টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিলে সেখানে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহগুলো কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, নিহতদের সহযোগীরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। আহত বিজিবির তিন সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

অপর দিকে টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটিদল হোয়াইক্যং ইউপি তুলাতলি এলাকায় অভিযানে গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলিবর্ষণ করে।

এ সময় পুলিশের এএসআই আরিফ হোসেন, কনস্টেবল রুমন ও এডিসন চাকমা আহত হন। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে মাদক ব্যবসায়ীরা কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ১টি দেশীয় অস্ত্র, ৬ হাজার ইয়াবা, ৩ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও কার্তুজের ৬টি খোসাসহ গুলিবিদ্ধ মুসা আকবরকে উদ্ধার করা হয়। মুসা আকবরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

পরে সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।  তার মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। মুসা আকবর হোয়াইক্যং ইউপি তুলাতলি এলাকার আবুল বশরের ছেলে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ