Alexa টিকেট কালোবাজারি করেই কোটিপতি

দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশন

টিকেট কালোবাজারি করেই কোটিপতি

সুলতান মাহমুদ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২২:১৩ ২৯ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ২২:২৫ ২৯ অক্টোবর ২০১৯

সংগৃহীত

সংগৃহীত

দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনে একসময় ঘুরে ঘুরে পত্রিকা বিক্রি করতেন মিলন। এরপর জড়িয়ে পড়েন টিকেট কালোবাজারিতে। রাতারাতি বনে যান কোটিপতি। এখন তাকে সবাই চেনে মিলন চৌধুরী নামে। আরেকজন ছিলেন হকার আলম। এখন তাকে স্টেশনেচত্বরে মন্ত্রী আলম নামে সবাই চেনে। শুধু মিলন বা আলম নয়; এমন অনেকেই টিকেট কালোবাজারি করে কোটিপতি বনে গেছেন; যারা এক সময় ওই স্টেশনে হকারি করতেন।

জসিম ওই স্টেশনে হকারি করেন পাঁচ বছরেরও বেশি। তিনি বলেন, চোখের সামনে কত হকার কোটিপতি হয়ে গেল। শুধু টিকেট কালোবাজারি করে। এর মধ্যে রয়েছে প্লাটফর্মের ফাস্ট ফুড দোকানী সুজন ও কুলির সর্দার রুস্তমও। বর্তমানে তাদের নিয়ন্ত্রণেই চলে দিনাজপুরে রেলের টিকেট কালোবাজারি। আলমের নেতৃত্বে তারা নিয়ন্ত্রণ করে টিকেট কালোবাজারি।

মাহমুদুল হাসান নামে এক যাত্রী জানান, কাউন্টারে গেলে কখনোই টিকেট পাওয়া যায় না। তিনি টিকেটের প্রয়োজন হলে আনিস নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনিই একটু বেশি দামে টিকেটের ব্যবস্থা করে দেন। রেলওয়ে স্টেশনের সামনের একটি ফ্লেক্সিলোডের দোকানেও পাওয়া যায় ঢাকাগামী পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনের টিকেট।

ওই যাত্রী বলেন, আমরা নিরুপায় হয়ে এভাবে টিকেট কিনি। সমাধান তো হয় না। আমরা কী করবো? মাঝে মধ্যে দুই একজন কালোবাজারিকে গ্রেফতার করলেও দুই-চারদিন পরই জামিনে বের হয়ে আসে। এরপর আবার টিকেট কালোবাজারি শুরু করে।

সোমবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে স্টেশনের তথ্যকেন্দ্রটি বন্ধ ছিল। ট্রেন আসার আগ মুহূর্তে হঠাৎই সক্রিয় হয়ে তথ্যকেন্দ্রটি। তবে যাত্রীসেবার জন্য নয়। কিছু কালোবাজারি খুলে বসেন তাদের বাণিজ্যের জন্য।

এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রেলওয়ে শ্রমিক নেতা, রেলওয়ে পুলিশ আর কিছু স্থানীয় বখাটে যুবকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। দিনাজপুর থেকেই চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করছে চিরিরবন্দর, পার্বতীপুর, দিনাজপুর ও পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনের টিকেট।

কাউন্টারে টিকেট না মিললেও তিন থেকে চারগুণ বেশি দামে মিলছে ঢাকাগামী তিনটি আন্তঃনগর ট্রেনের টিকেট। এতে বিপাকে পড়েন কর্মস্থল কিংবা চিকিৎসা সেবা নিতে যাওয়া অথবা চাকরির পরীক্ষায় জন্য ঢাকায় যাওয়া যাত্রীরা।

এ বিষয়ে এক কালোবাজারি জানান, রেলের টিকেট শোভন চেয়ার ৪৬৫ টাকা হলেও নেয়া হয় ৬০০ থেকে এক হাজার টাকা আর এসি চেয়ার ৮৯২ টাকা হলেও নিতে হচ্ছে ১৫০০ থেকে দুই হাজার টাকায়।

সম্প্রতি আমিনুল ইসলাম নামে কালোবাজারির এক সদস্যকে দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনের ১ নম্বর প্লাটফর্মের প্রধান গেট থেকে আটক করে রেলওয়ে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস ও একতা এক্সপ্রেসের ছয়টি টিকেট উদ্ধার করা হয়। আটক আমিনুল ইসলাম দিনাজপুর শহরের লালবাগ মহল্লার কফিল উদ্দীনের ছেলে।

দিনাজপুর রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) থানার ওসি গুলজার হোসেন বলেন, রেলের টিকেট কালোবাজারি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে কিছু আটক করা হলেও দমন করা সম্ভব হচ্ছে না। চক্রটি খুবই শক্তিশালি।

দিনাজপুর স্টেশন মাস্টার নার্গিস জানান, ঢাকাগামী তিনটি আন্তঃনগর ট্রেনের প্রতিটিতে অতিরিক্ত বগিসহ মোট ১৪টি করে বগি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রতিটি বগিতে আসন রয়েছে ৯২টি করে। কিন্তু দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনে প্রতিটি ট্রেনের মাত্র ১২৫ থেকে ১৫৭টি করে আসন বরাদ্দ রয়েছে। এজন্য দিনাজপুরে যাত্রীদের কাছে ট্রেনের টিকেট বিক্রি করতে তাদের হিমশিম খেতে হয়েছে। টিকেট কালোবাজারি সম্পর্কে তিনি বলেন, যদি কেউ কালোবাজারিতে ট্রেনের টিকেট বিক্রি করে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস