টিউশনি ছাড়া ভালো নেই সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা

টিউশনি ছাড়া ভালো নেই সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা

শাহাদাত নিশাদ, তিতুমীর কলেজ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৩৩ ২৪ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ১৫:২২ ২৪ এপ্রিল ২০২০

ছবি: সংগৃহিত

ছবি: সংগৃহিত

‘পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে ঢাকায় এসে পড়াশোনার খরচ নিয়ে বেশ টেনশনে ছিলাম। শেষ পর্যন্ত তিনটি টিউশনি বেছে নিলাম। সেখান থেকে মাস শেষে আসতো নয় হাজার টাকা। এখন করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে পুরো রাজধানী লকডাউনে।’

বলছিলেন সরকারি তিতুমীর কলেজের অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র কামরুল হাসান। লকডাউনের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেছে তার টিউশনি।

এরইমধ্যে গত ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের পর থেকে সবগুলো টিউশনির অভিভাবকরা বলে দেয় আর না আসতে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার তাদের বাচ্চাদের পড়াবে তারা।

কামরুল বলেন, দেখতে দেখতে একমাস চলে গেলো। করোনা পরিস্থিতির ক্রমন্বয়ে অবনতি হচ্ছে। এদিকে টানা একমাস টিউশনি না থাকায় পকেটও যে খালি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার টিউশনি করবো ভেবে গ্রামের বাড়িতেও যাওয়া হলো না। কিভাবে দিবো মেসের টাকা। বেশ কষ্টেই দিন পার করছি।  

শুধু কামরুল নয়। সরকারি সাত কলেজের এমন অনেক শিক্ষার্থী আছেন যারা নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের। যাদের খরচ চালানোর জন্য একমাত্র সম্বল ছিল এই টিউশনি। যা বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়ছে তারা।

তেমন আরেক শিক্ষার্থী দেলোয়ার হোসেন রায়হান। ঢাকা কলেজের অনার্স ২য় বর্ষে অধ্যয়নরত সে। এমন পরিস্থিতিতে টিউশনি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত ১২ মার্চ গ্রামের বাড়িতে চলে যায় রায়হান।

মুঠোফোনে রায়হান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে টিউশনি করে নিজের হাত খরচ চালাতাম। পরিস্থিতির কারণে বাড়ি চলে আসি। কিন্তু চিন্তার শেষ নেই। কিভাবে মেস ভাড়া দেয়া হবে সেই চিন্তায় আছি। পকেটে টাকা নেই। লজ্জায় চাইতে পারি না। কিভাবেই বা চাইবো? নিজের চোখে দেখছি বাবার পকেটের অবস্থা কেমন। ছোট্ট একটা দোকান করে বাবা। লকডাউনের কারণে সেটিও বন্ধ। বাবার এখন সংসার চালাতেই কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

কথা হয় সরকারি তিতুমীর কলেজের অনার্স ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী নাজমূল হুদার সঙ্গে। আবেগাপ্লুত হয়ে নাজমূল বলেন, অনার্সে পড়াশোনা করি। নিজের খরচ নিজেই চালাই। পারলে বাসায়ও কিছু দেই। তবে এখনতো এই মহামারির কারণে টিউশনি বন্ধ হয়ে গেছে। পড়ানোর কোনো গতি নেই। কবে এই মহামারি শেষ হবে তাও জানি না। ততদিন কিভাবে চলব, কিভাবে সামনে পড়াশোনার টাকা জমে আছে তা পরিশোধ করব? পার্ট টাইম একটা জব করি। সেখান থেকেও টাকা দিতে পারছে না। সব মিলিয়ে বেশ চিন্তায় সময় কাটছে।

সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্র তাওসিফ হাসান মাহবুব বলেন, টিউশনি করে পড়ালেখার খরচ চালাই। বাসা ভাড়া দিই। কিন্ত এবার আর তা পারিনি। অনেক লজ্জা নিয়ে বাড়ি থেকে টাকা চেয়েছি। জানিনা কিভাবে দিয়েছে তবুও উপায় ছিলো না। কারণ চলতে তো হবে।

সরকারি বাঙলা কলেজের অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র সাইফুল ইসলাম। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে সে। সাইফুলের সঙ্গে কথা বললে সে জানায়, মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে টিউশনি নেই। টানা ১ মাস ধরে খুবই কষ্টে দিনাতিপাত করছি। গতকাল বাবাকে কল দিয়েছিলাম কিছু টাকার জন্য। বাবাও জানিয়ে দিলো টাকা-পয়সা নেই।  ঋণ আর ধার-দেনা করে চলছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইডেন কলেজের অনার্স ২য় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমার বাবা রিকশা চালিয়ে আমাদের তিন ভাই-বোনের পড়ালেখা করাচ্ছে। গত বছর থেকে টিউশনি করে আমি আমার পড়ালেখার খরচ চালানো শুরু করি। কিন্তু এই মহামারিতে টিউশনি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড্ড বিপাকে পড়েছি। বাবার কাছেও লজ্জায় চাইতে পারছি না। কারণ মায়ের কাছে শুনেছি লকডাউনের কারণে মানুষ এখন আর বাইরে বের হয় না। তাই বাবার কোনো আয় নেই।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম