Alexa টানা চারবার গিনেস বুক রেকর্ডে বাংলাদেশের পণ্ডিত সুদর্শন

টানা চারবার গিনেস বুক রেকর্ডে বাংলাদেশের পণ্ডিত সুদর্শন

বিনোদন ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৫৭ ১৬ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৭:০৬ ১৬ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

পণ্ডিত সুদর্শন দাশ। তাল যন্ত্রের বিস্ময় এ মানবের সঙ্গে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড শব্দটির যেন আত্মিক সম্পর্ক। যন্ত্র সংগীতে হাতেখড়ি চট্টগ্রামে হলেও কলকাতার শান্তিনিকেতনে শিক্ষাটির পূর্ণতা পায়। ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত টানা চারবার তবলা, ঢোল ও ড্রাম ভিন্ন আঙ্গিকে বাজিয়ে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে টানা চারবার নাম উঠান তিনি।

১৪০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ড্রামসেট বাজিয়ে চতুর্থবারের মতো গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডে রেকর্ড গড়লেন তিনি। এর আগে টানা ৫৫৭ ঘণ্টা ১১ মিনিট লংগেস্ট তবলা ম্যারাথন’ বাজিয়ে প্রথম রেকর্ড করেন। পরের বার টানা ২৭ ঘণ্টা ‘লংগেস্ট ঢোল ম্যারাথন’ ঢোল বাজিয়ে দ্বিতীয় রেকর্ডটি নিজের করে নেন পণ্ডিত সুদর্শন। এরপর টানা ১৪ ঘণ্টা ‘লংগেস্ট ইনডিভিজুয়্যাল ড্রামরোল’ বাজিয়ে তৃতীয় রেকর্ডটির মালিক হন তিনি।

দীর্ঘসময় ধরে একই স্থানে বসে তবলা বাজানোর কাজটি সহজ ছিল না তার। তিনি বলেন, অবিশ্বাস্য কাজটি করতে গিয়ে নানা অম্লমধুর ঘটনা ঘটেছে। ব্রিটিশ নাগরিকত্ব থাকলেও বাংলাদেশকে সব সময় হৃদয়ে ধারণ করেন সুদর্শন। ইচ্ছা রয়েছে, বাংলাদেশের আগ্রহী তরুণদের বিনামূল্যে বাদ্যযন্ত্র শেখাবেন। 

তবে তার অর্জন নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন সংগঠন আর ব্যক্তিরা মেতেছেন উঠেছেন। কিন্তু জন্মভূমিতে একেবারেই অবহেলিত তিনি। 

পণ্ডিত সুদর্শন দাশ পূর্ব লন্ডনের তবলা অ্যান্ড ঢোল একাডেমির অধ্যক্ষ। পৃথিবী জুড়ে এ একাডেমির পাঁচটি শাখা রয়েছে। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা তার কাছ থেকে বাদ্যযন্ত্রের শিক্ষা নেন।

পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস, নিউহ্যাম এবং রেড ব্রিজ কাউন্সিলের অধীনে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাগুলোর ‘মিউজিক ইন্সপেক্টর’ হিসেবে কাজ করছেন তিনি। পণ্ডিত সুদর্শন এবারের চ্যালেঞ্জটি উৎসর্গ করেছেন শরণার্থী শিশুদের। তিনি অনাথ শিশুদের জন্য তিন হাজার পাউন্ড (প্রায় তিন লাখ টাকা) সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। সংগৃহীত অর্থ ইউনিসেফকে দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

পণ্ডিত সুদর্শন দাশ তার সাফল্যের মূলমন্ত্র হিসেবে বলেন, কঠোর পরিশ্রম ছাড়া কোনো দিন লক্ষ্যে পৌঁছানো যায় না। তাই সাধনা আর চর্চা চালিয়ে যেতেই হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ