Alexa টাঙ্গুয়ার হাওর ট্যুর প্ল্যান (দুই দিন ১ রাত)

টাঙ্গুয়ার হাওর ট্যুর প্ল্যান (দুই দিন ১ রাত)

ভ্রমণ প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৩৮ ৩০ জুন ২০১৯   আপডেট: ১২:৪১ ৩০ জুন ২০১৯

টাঙ্গুয়ার হাওর

টাঙ্গুয়ার হাওর

টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো বর্ষাকাল। বছরের অন্য সময় সাধারণত এর পানি অনেক কম থাকে। তাই বর্ষায় হাওরের জলরাশি দেখতে হাজারো পর্যটক ছুটে যান টাঙ্গুয়ায়। চাইলে আপনিও ২ দিন ১ রাতের ছোট্ট একটি পরিকল্পনা করে চলে যেতে পারেন ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলায়।

সুবিধামত যেকোনো দিন উঠে যান সুনামগঞ্জের বাসে। রাতে রওনা করলে সকাল ৭ টার মধ্যে পৌঁছে যাবেন। শহরে সকালের নাস্তা সেরে তারিপুর ঘাটে যাওয়ার জন্য সিএনজি ভাড়া করে নিন। যেতে সময় লাগবে প্রায় ১ ঘণ্টার মতো। এরপর ঘাট থেকে নৌকা ঠিক করে ২ দিন ১ রাতের জন্য মাছ ছাড়া অন্য প্রয়োজনীয় বাজার করে নিন। সকাল ৯ থেকে ১০ টার মধ্যে নৌকায় যাত্রা শুরু করার চেষ্টা করুন। প্রথমেই নৌকা নিয়ে চলে আসুন ওয়াচ টাওয়ার এলাকায়।

নৌকাতেই কাটাতে হবে বেশিরভাগ সময়

এদিকে জলাবনের সৌন্দর্য্যের পাশাপাশি ছোট ছোট নৌকা নিয়ে কিশোর-কিশোরিদের ঘুরতে দেখবেন। যা দেখেই মুগ্ধ হয়ে যাবেন আপনি! চাইলে ওয়াচ টাওয়ারে রান্নার কাজ সেরে ফেলতে পারেন। ওয়াচ টাওয়ার দেখা শেষে চলে যেতে পারেন হাওরের মাঝখানে। দিগন্তজোড়া জলরাশি দেখে দুপুরের পর পরই টেকেরঘাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করুন। এই দিকে নৌকা যতই এগুতে থাকবে পানি ততই স্বচ্ছ দেখতে পাবেন। এক সময় হাওরের তলা পর্যন্ত দেখা যাবে।

হাওরে গোসল না করে থাকলে টেকের ঘাটের নীলাদ্রি লেকে এসে গা ভেজাতে পারেন। আর এখানেই হাওরে নৌকা বেধে নৌকার মধ্যে রাত কাটিয়ে দিতে পারেন। ভোরে ঘুম থেকে উঠে যাদুকাটা নদী ও বারিক্কাটিলা দেখতে রওনা দিন। টেকেরঘাট থেকে মটরসাইকেল নিয়ে যেতে পারবেন। নৌকা নিয়ে যাওয়া যায় তবে একটু দূর হওয়ায় মাঝি আপত্তি করতে পারে অথবা আরো ২০০০ থেকে ৪০০০ টাকা অতিরিক্ত চাইতে পারে। সবচেয়ে ভালো হয় তাহিরপুর ঘাট থেকে নৌকা ভাড়া করার সময় মাঝিকে যাদুকাটা নিয়ে যাবার কথা উল্লেখ করলে।

যাদুকাটা নদী ও বারিক্কাটিলা দেখে দুপুরের মধ্যে টেকেরঘাট ফিরে আসুন। তারপর আরেকটু সময় হাওর ঘুরে সন্ধ্যার আগেই তাহিরপুর চলে আসুন। সেখান থেকে সিএনজি ভাড়া করে অথবা লোকাল লেগুনাতে সরাসরি সুনামগঞ্জ চলে আসতে পারেন।

টাঙ্গুয়ার হাওরের স্বচ্ছ জল

পরামর্শ

ভাড়া করার আগে নৌকার বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা জেনে নেবেন। নৌকায় বাথরুম আছে কিনা, মোবাইল চার্জ দেয়া, লাইট ও ফ্যানের ব্যবস্থা আছে কি-না ইত্যাদি জেনে নেবেন। ভাড়া করতে দরদাম করে নিন। নৌকা ভাড়া মূলত ৩টি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। নৌকায় ধারণ ক্ষমতা, নৌকার সুযোগ সুবিধা এবং মৌসুমের উপর। ১ রাত নৌকায় কাটাতে চাইলে ছোট নৌকার ভাড়া পড়বে ৩৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা। এছাড়া বড় নৌকা ভাড়া করতে ৭০০০ থেকে ১০ হাজার টাকার মতো প্রয়োজন হবে। রান্নার জন্য নৌকার মাঝিকে খরচের টাকা দিলে সে বাবুর্চি নিয়ে যাবে কিংবা নিজেই রান্নার ব্যবস্থা করবে।

টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে যাওয়ার আগে কিছু জিনিস ব্যাগে অবশ্যই রাখবেন। সেগুলো হলো- টর্চ ব্যাকআপ ব্যাটারিসহ, পাওয়ার ব্যাংক, ক্যাম্পিং মগ, চাদর, রেইনকোর্ট বা ছাতা, টয়লেট পেপার, ব্যাগ ঢেকে ফেলার মতো বড় পলিথিন, প্লাস্টিকের স্যান্ডেল, সানগ্লাস, ক্যাপ বা হ্যাট, ২টি গামছা ও খাবার পানি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে