টাঙ্গাইলে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে ধানক্ষেত!

টাঙ্গাইলে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে ধানক্ষেত!

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৫৫ ৩১ মে ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

টাঙ্গাইলে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে পাকা বোরো ধানক্ষেত। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। 

একদিকে মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণের থাবা অপর দিকে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ও বৃষ্টিতে বোরো ধান চাষি হাজারো কৃষক বিপাকে পড়েছেন। আবার এক মণ ধানের দামে পাওয়া যাচ্ছে না একজন শ্রমিক। ধানক্ষেতে পানি থাকায় অন্য সময়ের তুলনায় অর্ধেক কাজও করতে পারছেন না একজন শ্রমিক। ফলে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।

জেলা কৃষিসম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় এক লক্ষ ৭১ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো। উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিলো ছয় লক্ষ ৫৮ হাজার ৮৫৬ মেট্রিক টন। সেখানে জেলায় বোরো আবাদ হয়েছে এক লক্ষ ৬৯ হাজার ৫২৯ হেক্টর জমিতে। তার মধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ১৩ হাজার ৭৮০ হেক্টর, বাসাইল উপজেলায় ১১ হাজার ১২০ হেক্টর, কালিহাতী উপজেলায় ১৮ হাজার ২৫২ হেক্টর, ঘাটাইল উপজেলায় ২০ হাজার ৯৭৪ হেক্টর, নাগরপুর উপজেলায় ১৬ হাজার ৬৮ হেক্টর, মির্জাপুর উপজেলায় ২০ হাজার ৮১০ হেক্টর, মধুপুর উপজেলায় ১২ হাজার ৪২০ হেক্টর, ভূঞাপুর উপজেলায় ৬ হাজার ৯০০ হেক্টর, গোপালপুর উপজেলায় ১৩ হাজার ৭০০ হেক্টর, সখীপুর উপজেলায় ১৫ হাজার ৭৩৫ হেক্টর, দেলদুয়ার উপজেলায় ৯ হাজার ৬২০ হেক্টর, ধনবাড়ী উপজেলায় ১০ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে।

সরেজমিনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাগমারা, এনায়েতপুর, বাইমাইল, ধরেরবাড়ী, কোনাবাড়ি, লাউজানা, বানিবাড়ী, পিচুরিয়া, গালা, কুইজবাড়ী ও বড় বাসালিয়া এলাকায় দেখা যায়, ধানক্ষেতে হাঁটু থেকে প্রায় কোমড় পর্যন্ত পানি। সেই পানিতে দাঁড়িয়ে শ্রমিকেরা ধান কাটছে। ধান কাটা শেষে ধানের আটি পানিতে রশি দিয়ে টেনে বাড়ি নিচ্ছেন। কেউ আবার ধান ক্ষেতের পাশেই পানির মধ্যে খড় বিছিয়ে নেট অথবা প্লাস্টিকের মাদুর বিছিয়ে ধান মাড়াই করছে। পানি থাকার কারণে আগের নির্ধারিত জায়গায় কৃষকেরা ধান শুকাতে পারছেন না। অন্যত্র শুকনা জায়গায় নিয়ে ধান শুকাতে হচ্ছে। ক্ষেতে পানি থাকার কারণে শ্রমিক ও সময় এবং মজুরি বেশি লাগছে। 

কাগমারা এলাকার রুপচান মিয়া বলেন, বৃষ্টির কারণে ধানক্ষেতে পানি থাকায় শ্রমিকের দাম বেড়ে গেছে। অন্যদিকে ধান কাটা থেকে শুরু করে মাড়াই এবং শুকানো পর্যন্ত সময়ও লাগে বেশি। বৃষ্টির আগে যেখানে ধান মাড়াই ও শুকানো পরিকল্পনা করেছিলাম সেখানে পানিতে ডুবে গেছে। তাই পার্শ্ববর্তী বাইমাইল এলাকার এক আত্মীয় বাড়ি নিয়ে ধান শুকাতে হচ্ছে। সব মিলে খরচও কয়েকগুণ বেশি হচ্ছে।

একই এলাকার সরোয়ার হোসেন বলেন, চার বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলাম। এর মধ্যে দুই বিঘা জমির ধান কাটতে পেরেছি। বাকি দুই বিঘা জমির ধান বৃষ্টির কারণে পানিতে ডুবে গেছে। ধানকাটতে শ্রমিকের সংখ্যা বেশি লাগছে।

তিনি বলেন, শুধু আমার নয়। আমার স্কীমে প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে ধান চাষ হয়েছিল। সেখান থেকে আংশিক ধান কৃষক কাটতে পেরেছে আর বেশিরভাগ পানিতে ডুবে গেছে।

মো. মামুন মিয়া বলেন, টাকা ধার করে ধান চাষ করেছিলাম। ভেবেছিলাম ধান বিক্রি করে ধারের টাকা পরিশোধ করতে পারবো। কিন্তু পানিতে ধানক্ষেত তলিয়ে গেছে। তাই শ্রমিক ও সময় বেশি লাগায় খরচও বেশি হচ্ছে। খরচের তুলনায় ধানের দাম খুবই কম। পানির কারণে পাকা ধান ঘরে তোলা ও দেনা পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি।

কৃষক আলীম মিয়া বলেন, ধান কাটা শ্রমিকের দাম খুবই বেশি। আবার তিন বেলা খাবার দিতে হয়। প্রতিজনকে তিনবেলা খাবারে ১৫০ থেকে শুরু করে ২০০ টাকা খরচ হয়। সব মিলে ধান চাষ করে এ বছর খরচের টাকাও উঠবে না। ভাবছি আগামিতে আর ধান চাষ করবো না।

টাঙ্গাইলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, টাঙ্গাইলে ৯২ হেক্টর ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানতে পেরেছি। ক্ষতির পরিমাণ কয়েকদিন পর জানা যাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ