টাঙ্গাইলে পদবী পরিবর্তনের দাবিতে কর্মবিরতি, চরম ভোগান্তি 

টাঙ্গাইলে পদবী পরিবর্তনের দাবিতে কর্মবিরতি, চরম ভোগান্তি 

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:১২ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সারা দেশে সরকারি তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা পদবী পরিবর্তনের দাবিতে দিনব্যাপী কর্মবিরতি পালন শুরু করেছে। এ আন্দোলন চলবে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। 

গত সোমবার থেকে বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতির (বাকাসস) ডাকে টাঙ্গাইল জেলার সরকারি কর্মচারীরাও এ কর্মবিরতিতে অংশ নেন। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছে সেবা গ্রহীতারা। 

আন্দোলনকারীরা জানান, ২০০১ সাল থেকে কালেক্টরেটে কর্মরত তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের পদবী পরিবর্তন এবং বেতন গ্রেড উন্নীতকরণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। 

২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী এ পদবী পরিবর্তন সংক্রান্ত সার সংক্ষেপ অনুমোদন দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এর প্রেক্ষিতে সারা দেশের ন্যায় টাঙ্গাইলেও মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আন্দোলনের এ কর্মসূচি দিয়েছেন তারা। 

এর আগেও কর্মবিরতি পালন করেছেন তারা। এরপরও দাবি আদায় না হলে আন্দোলন অব্যাহত রেখে টানা পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।  

শহরের আকুর টাকুর পাড়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শহরের লৌহজং নদী উদ্ধারের কাজ চলছে। আমিও নদীর পাড়ের মানুষ। যে জায়গায় ভাঙচুর করা হচ্ছে সেই জায়গায় আমার জমিও পড়েছে। সে বিষয়ে ডিসির সঙ্গে কথা বলতে এসেছি। কর্মচারীদের আন্দোলনের কারণে ডিসির সঙ্গে কথা বলতে পারছি না। আমার অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। 

হালিমা বেগম বলেন, আমি গরিব মানুষ। ডিসির কাছে এসেছিলাম কথা বলতে। কয়েক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তার সঙ্গে কথা বলতে পারলাম না।

ঢাকা থেকে আসা এক সেবাগ্রহীতা রুমা আক্তার বলেন, ডিসি ও এডিসির সঙ্গে কথা বলা খুব প্রয়োজন। আন্দোলনের কারণে আমাদের কেন ভোগান্তি পোহাতে হবে। 

আফজাল হোসেন বলেন, মাদকসেবীদের বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে এসেছিলাম। জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে আন্দোলন চলছে। কার কাছে অভিযোগ দেব বুঝতে পারছি না। 

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থেকে আসা বিথী আক্তার বলেন, নার্সিং শেষ করে বেকার আছি। ডিসি কার্যালয়ে দরখাস্ত করেছি। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষা। তাই ডিসির কাছে সাক্ষাৎ করতে এসেছি। কর্মবিরতি চলায় তার কাছে কোনো সাক্ষাৎ করতে পারিনি। অনেকেই ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন। অনেক টাকা গাড়ি ভাড়া দিয়ে এসেও কোনো সুফল পেলাম না। 

আন্দোলনকারী বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতির (বাকাসস) টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোতালেব সিদ্দিকী ও সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন বলেন, গত দেড় যুগে একাধিকবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সচিব কমিটির মাধ্যমে একাধিকবার আশ্বাস দিলেও এখনও তা বাস্তবায়ন হয়নি। 

সারাদেশে ৫০টি ডিপার্টমেন্টের পদ পদবী পরিবর্তন করা হয়েছে। সেখানে কোনো প্রকার কমিটি লাগেনি। এখন কেন এতো তালবাহানা। আন্দোলনের জন্য সাধারণ জনগণের ভোগান্তি হচ্ছে। মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলার জন্য আসিনি। মানুষকে সেবা দিতে এসেছি।

বক্তারা আরো বলেন, পদবী পরিবর্তনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি মেনে নিতে হবে। অন্যথায় লাগাতার কর্মসূচি দেয়া হবে।

এ বিষয়ে ডিসি মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, আন্দোলনের কারণে অস্বস্তিকর অবস্থায় রয়েছি। অনেক দূর থেকে অনেক সেবা প্রার্থীরা এখানে এসে ফেরত যাচ্ছেন। কারণ কার্যালয়ের যারা ফাইল ওয়ার্ক করেন তারা আন্দোলন করেছেন।  

ডিসি আরো বলেন, এ বিষয়ে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। দাবির বিষয়ে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে পত্রও লিখেছি। মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এরইমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছেন। আশা করি শিগগিরই এ দাবিও বাস্তবায়িত হবে।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে