টাকা দিয়ে কেনা যায় বিএনপির দলীয় পদ

টাকা দিয়ে কেনা যায় বিএনপির দলীয় পদ

শেরপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৫৪ ৯ জুলাই ২০২০  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

শেরপুরে টাকার জোরেই বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন হযরত আলী। শুধু তাই নয় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই রুবেল-হযরত আলীর নেতৃত্বে দেয়া হয়েছে ১৫১ সদস্যের কমিটি। এই কমিটির অনুমোদন নিতে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উপঢৌকন দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ম্যানেজ করা হয় ময়মনসিংহের নেতা প্রিন্স, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্পাদক পঁচা আলম (পঁচা সাবান কোম্পানীর মালিক) ও জামালপুর জেলা বিএনপির সম্পাদক মামুনকে।

হযরত আলী প্যানেল ঠিক রাখতে বকশিস বাবদ গাড়ি কিনতে প্রিন্স এবং পঁচা আলমকে দেন ৪০ লাখ টাকা। আর মামুনকে দেন ৬০ লাখ টাকা। এসব ঘটনার প্রতিবাদে বিএনপি কর্মীরা রাস্তায় জুতা মিছিলও করে।   

দলের বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে হাটে হাঁড়ি ভেঙে দেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম স্বপন। তিনি বলেন, হযরত আলী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। টাকার জোরে উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন। হযরত আলী দুই নম্বর লোক। ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে কয়েকশো কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন তিনি। এখন দুদকের মামলায় কাশিমপুর কারাগারে আছেন।

তবে হযরত আলীর কাছ থেকে গাড়ি কেনার জন্য টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে জামালপুর জেলা বিএনপির সম্পাদক মামুন বলেন, অনেক আগে থেকেই ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করি। তার কাছ থেকে টাকা নেয়ার প্রশ্নই আসে না। এছাড়া শফিকুল আলম (পঁচা আলম) সে ধনী মানুষ তারও টাকা নেয়ার দরকার নেই।

তার দাবি করেন, দলীয় সদস্যদের ভোটের মাধ্যমেই সভাপতি এবং সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। হাইকমান্ডের নির্দেশে খালেদা জিয়া ও মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিতিতে ব্যালট বাক্স খুলে ভোট গণনা করা হয়। ২০১৭ সালে ওই ভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে ২০১৯ সালে পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়।

জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রশীদ পলাশ বলেন, দলের ভিতর মতবিরোধ আছে তবে কোন্দল নেই।

জেলা বিএনপির রাজনীতি সম্পর্কে অ্যাডভোকেট রেদুয়ানুল হক আবীর বলেন, এখন করোনা পরিস্থিতি চলমান থাকায় বিএনপির রাজনীতি ঝিমিয়ে পড়েছে। করোনা শেষ হলে বুঝা যাবে রাজনীতির মাঠে তারা কতটা সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে।

জেলা শহরের পুস্তক ব্যবসায়ী আফজাল বলেন, নকলার নেতা জাহেদ আলী চৌধুরীর মৃত্যুর পর জেলা বিএনপির রাজনীতিতে নিস্ক্রিয়তা চলে আসে। এরপর হযরত আলীর আর্বিভাব হয়। এমপি হওয়ার মনোবাসনা নিয়ে নেতাকর্মীদের টাকার লোভ দেখিয়ে কাছে টেনে নেন তিনি।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে হযরত আলী কারাগারে থাকায় তার মেয়ে প্রিয়াঙ্কাকে এমপি প্রার্থী করা হয়। যে মেয়ে কখনো দলের কোনো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেনি। দলের কোনো সদস্যও না তাকে দেয়া হলো নমিনেশন। হঠাৎ জানা গেল তাকে দল নমিনেশন দিয়েছে। পরে জানতে পারি চার কোটি টাকা খরচ করে নমিনেশন কেনা হয়েছে। দলের পদ পদবী আর নমিনেশন এখন মনোহারী দোকানের পণ্যের মতো কেনা বেচা হয়। যোগ্যতার এখানে কোনো বিচার নাই।

চার কোটি টাকা দিয়ে নমিনেশন কেনার বিষয়টি হাস্যকর উল্লেখ করে হযরত আলীর মেয়ে প্রিয়াঙ্কা বলেন, যারা এ কথা বলছে তারা বিএনপির শত্রু।

হযরত আলীর ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারি সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, সাধারণ সম্পাদকের এ বিষয়টি দলীয় হাইকমান্ড অবগত আছে। তিনি সাজাপ্রাপ্ত হলে দল তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। টাকার বিনিময়ে দলীয় পদ ও নমিনেশন বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন রুবেল।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস