Alexa টাইটানিককে হার মানায় যে জাহাজ  

টাইটানিককে হার মানায় যে জাহাজ  

খাদিজা তুল কুবরা  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:৩৩ ১৭ জুলাই ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ইতিহাস বিখ্যাত টাইটানিক জাহাজের কথা নিশ্চয়ই আমাদের সবার মনে আছে। মনে থাকবেই বা না কেন? টাইটানিক নিজে একটি ইতিহাস তৈরি করেছিলো। বিংশ শতাব্দীর শুরুর অর্ধাংশের সময়ে তৈরি এই জাহাজ সে সময়ে ব্যয়বহুলতা ও চাকচিক্যের দিক থেকে তখনকার সকল জাহাজকেই ছাড়িয়ে গিয়েছিল। টাইটানিকের অভ্যন্তরে ছিল সুদৃশ্য সুইমিং পুল, জিমনেশিয়াম, স্কোয়াস খেলার কোর্ট (এক ধরণের রেকেট খেলা), ব্যয়বহুল তুর্কিস বাথ, বিশাল এবং ব্যয়বহুল ক্যাফে এবং ফার্স্ট ও সেকেন্ড ক্লাস উভয় যাত্রীদের জন্য আলাদা বিশাল লাইব্রেরী। তখনকার সকল আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটেছিল টাইটানিক জাহাজটিতে। 

১৫ বছরের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন তখনকার ইংল্যান্ডের রাজকীয় কমান্ডার অ্যাডওয়ার্ড জন স্মিথের নেতৃত্বে টাইটানিক ১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন থেকে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু যাত্রা শুরুর মাত্র চার দিনের মাথায় ইতিহাস বিখ্যাত এই জাঁকজমক বহুল জাহাজটির ঘটে এক করুণ পরিণতি। তবে এ গল্পটি নিশ্চয়ই সবার জানা। সবাই আজো দুঃখ করে সবচেয়ে ব্যয়বহুল সে জাহাজটির সে করুণ কাহিনীর জন্য। কিন্তু আজ আমরা জানবো এমন একটি জাহাজের গল্প যেটি কি না ছাড়িয়ে গেছে টাইটানিকের মতো আভিজাত্যও।
 
সিম্ফনী অফ দ্য সিজ নামের এ জাহাজটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমোদকারী। যদি টাইটানিকের মতো জাহাজের এক অনুভূতি পেতে চান তাহলে এ হতে পারে এক উপযুক্ত জাহাজ। যেমন আভিজাত্যে তেমনি জাঁকজমকতায়। ২০১৮ সালের ৩১ শে মার্চ সমুদ্র যাত্রা শুরু করে দ্বিতীয় ব্যয়বহুল জাহাজ সিম্ফনি অফ দ্য সিজ। সর্বকালের সেরা আভিজাত্যপূর্ণ জাহাজ হিসেবে এই জাহাজটি খ্যাতি অর্জন করে নেয় ইতোমধ্যেই। ১৯০৯ সালের দিকে সর্বপ্রথম টাইটানিকের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিলো, যেটি নির্মাণ করতে লেগেছিলো সে সময়ে ৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন যেটি বর্তমানে দাঁড়াবে প্রায় ১৬৫ মিলিয়ন ডলারে। বর্তমানের এই সিম্ফনি অফ দ্য সিজ জাহাজটির নির্মাণ ব্যয় ১ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। 

বাংলাদেশি অর্থমূল্যে এই খরচ হবে ১১ হাজার ৪০২ কোটি টাকা। যেটি টাইটানিক নির্মাণ ব্যয় থেকে কয়েক হাজার গুণ বেশি। এরকম মাত্র তিনটি জাহাজের মূল্য দিয়ে একটি পদ্মা সেতুর পুরো কাজের সমাপ্তি করা সম্ভব। অর্থাৎ এর নির্মাণ ব্যয় একটি পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের সমান। এই জাঁকজমক পূর্ণ ব্যয়বহুল জাহাজটির উচ্চতা ৭২ দশমিক ৫ মিটার এবং দৈর্ঘ্যে প্রায় ৩৬১ মিটার। ঠিক একই রকম তিনটি জাহাজ মিলে প্রায় ১ কিলোমিটারের মত দীর্ঘ পথ হতে পারে এটি। জাহাজটি যেনো একটি বিশাল পাঁচ তারকা বিশিষ্ট হোটেল। যেখানে আছে প্রাসাদসম রেস্টুরেন্ট, খেলার মাঠ, চিকিৎসা ব্যবস্থা, আলিশান রুমসহ ইত্যাদি। জাহাজটি একবারেই ছয় হাজার ছয়শত আশি জন যাত্রী নিয়ে ভ্রমণ করতে পারে। 

যাত্রীদের যেকোনো ধরণের নানা রকম সেবা দিতে আছে প্রায় দুই হাজার ২০০ জন স্পেশাল ক্রু। দুই হাজার ৭৫৯ টি বিলাসবহুল কেবিনে রয়েছে যাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা। অত্যন্ত বিস্ময়কর অথচ সত্য হলো জাহাজটির ভেতরে রয়েছে প্রায় ২২ টি নামী দামী বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট। যেখানে সারাক্ষণ যাত্রীদের নানান সুবিধা বিবেচনায় বিভিন্ন দেশীয় খাবার তৈরি করা হয়। রয়েছে বেশ কয়েকটি বার যেখানে রয়েছে রোবোটিক ওয়েটার। জাহাজটির মধ্যবর্তী স্থান জুড়ে রয়েছে ছোট বড় ২৪ টির মতো সুইমিংপুল। শুধুমাত্র সুইমিং পুলেই নয় সীমাবদ্ধতা, রয়েছে ওয়াটার পার্ক, থিম পার্ক। যদি সিনামা হলে মুভি দেখতে মনে চায় তবুও চিন্তা নেই। আছে অত্যন্ত আধুনিক থিয়েটার, আইস স্কেটিং, সুসজ্জিত আধুনিক জিমনেশিয়াম। 

প্রায় বিশ হাজারের মতো গাছের বাগান আছে এই জাহাজটি জুড়ে। গেমিং জোন, লাইব্রেরি কি নেই এতে! পুরো পৃথিবীটাই যেনো এক ছাদের নিচে। সব মিলিয়ে অত্যাধুনিক একটি ভাসমান শহর যেনো এই জাহাজটি। এটি অতিক্রম করে ঘণ্টায় ২২ নটিক্যাল মাইল বা ২৫ মেইল বেগে। এই অনিন্দ্য সুন্দর এবং অত্যাধুনিক জাহাজটির সাত দিন ভ্রমণের খরচ ৯৯ হাজার থেকে ২ লাখ ১৮ হাজার টাকা! তবে কে বলবে এটি বিখ্যাত আরএমএস টাইটানিক কে ছাড়িয়ে যায় নি? 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস