জ্বলছে ইটভাটা, পুড়ছে কাঠ 

জ্বলছে ইটভাটা, পুড়ছে কাঠ 

বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৩৩ ৯ এপ্রিল ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নওগাঁর বদলগাছীতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইটভাটা চালাচ্ছেন মালিকরা। প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কাঠ। ফলে একদিকে যেমন করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, পাশাপাশি দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। হুমকির মুখে পড়ছে ফসলি জমি। 

উপজেলায় ইটভাটা রয়েছে ২৭টি। এরমধ্যে লাইসেন্স রয়েছে মাত্র তিনটির। বন্ধ রয়েছে পাঁচটি। বাকি ১৯টি চলছে অবৈধভাবে। এদের না আছে কোনো লাইসেন্স, না আছে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র। 

বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার অধিকাংশ ইটভাটায় কাজ করছেন ৭০-৮০ জন শ্রমিক। করোনা ভাইরাস নিয়ে এদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কিছুই নেই। তাদের চিন্তা একটাই কাজ না করলে খাব কী?

আরো দেখা যায়, অধিকাংশ ইটভাটাতেই জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কাঠ। প্রশাসনকে দেখানোর জন্য কয়লাও রাখা হয়েছে। তবে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। ফলে একদিকে যেমন বৃক্ষনিধন হচ্ছে, অন্যদিকে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। 

আরো লক্ষ্য করা যায়, সব ই্টভাটা গড়ে উঠেছে তিন ফসলি জমি নিধন করে বা আবাসিক এলাকায়। ফলে ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়ছে। ভবিষ্যতে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়ছে জনস্বাস্থ্য।

ইট পোড়ানো (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন আইনে আবাসিক এলাকা, উপজেলা সদর, ফলের বাগান, ফসলি জমি, বনাঞ্চল, লোকালয় ও জনবসতি এলাকার তিন কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। অনেকেই মানছেন না এই আইন। দিনের পর দিন এভাবেই চলে আসছে ইটভাটা ব্যবসা।   

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এইসব ইটভাটা মালিকরা অনেক প্রভাবশালী। তারা টাকার বিনিময়ে প্রশাসন ম্যানেজ করে। আবার আশেপাশের জমির মালিকদের টাকার লোভ দেখিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে নিয়ে যায় ইটভাটাতে। ফলে দিন দিন ফসলি জমি কমে যাচ্ছে। 

উপজেলার পাহারপুর ইউপির মেসার্স আদিল ব্রিক এর ম্যানেজার রাব্বি বলেন, করোনার কারণে ইটভাটা বন্ধ করলে শ্রমিকরা খাবে কী? তাই ইট ভাটা চালাচ্ছি। তবে দুই এক দিনের মধ্যে বন্ধ করে দেব। 

এমবিএফ ইটভাটার ম্যানেজার চঞ্চলের কাছে কাঠ পোড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ইটভাটার মালিক এনামুলের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। দুটি ইটভাটার মালিক এনামুলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

উপজেলার খোজাগারি গ্রামের সততা ব্রিক এর অংশীদার বকুল বলেন, দুই তিন দিনের মধ্যে ভাটা বন্ধ করা হবে। কাঠ কেন পোড়াচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে চলে যান। 

ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ জানান, সমিতির পক্ষ থেকে সব ইটভাটা মালিককেই বন্ধ করতে বলেছি। সবাই বন্ধ করেছে। কাঠ পোড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, দুই তিনটা ইটভাটা আছে যারা গোপনে কাঠ পোড়ায়। অধিকাংশ ইটভাটা জ্বালানি হিসেবে কয়লা ব্যবহার করে। 

পরিবেশ অধিদফতর নওগাঁ এর সহকারী পরিচালক মকবুল হোসেন জানান, বদলগাছীতে বর্তমানে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র কারোরই নেই। দুই তিনটি ইটভাটার ছাড়পত্র থাকলেও তাদের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। জেলা প্রশাসকের নিয়োজিত ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া ভ্রাম্যমাণ পরিচালনা করতে পারি না। যদি ভ্রাম্যমাণ অভিযান চালানোর মতো কোনো অনুমতি আসে তবে ব্যবস্থা নেব। 

বদলগাছীর ইউএনও মুহাঃ আবু তাহির বলেন, ইটভাটা মালিক সমিতিকে নিষেধ করেছি শ্রমিকদের এখন কাজ না করাতে। কাঠ পোড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, অন্যায় কাজ করলে কেউ ছাড় পাবে না। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে