জৌলুস ফিরেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে

জৌলুস ফিরেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে

মুকুল কান্তি দাশ, চকরিয়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:০৭ ৮ জুলাই ২০২০  

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের প্রকৃতি ও প্রাণচাঞ্চল্য

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের প্রকৃতি ও প্রাণচাঞ্চল্য

করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় চার মাস ধরে দর্শনার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ কক্সবাজারের ডুলাহাজারার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে। এতে দূষণ কমেছে পার্কের, ফিরে এসেছে হারানো জৌলুস।

জানা গেছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মার্চ মাস থেকে দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে পার্ক। এ কারণে দূষণ কমার পাশাপাশি অবাধে বিচরণের সুযোগ পাচ্ছে নানা জাতের বন্যপ্রাণী। চারদিক মুখর হয়ে উঠেছে পাখির কিচিরমিচিরে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে পার্কটি এখন যেকোনো প্রাণীর জন্য উপযুক্ত।

বন্যপ্রাণীর অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পার্কে প্রবেশের পরই তৈরি করা হয়েছে নয়নাভিরাম বাগান। বাগানে ফুটেছে নানা প্রজাতির ফুল। বাগানের ভেতরেই ফাঁকে ফাঁকে বানানো হয়েছে পাথর-সিমেটের বাঘ-সিংহ-হরিণসহ নানা প্রাণী।

আরো দেখা গেছে, পরিচ্ছন্ন পার্কে বিশাল আকৃতির গাছে গাছে গজিয়েছে বাহারি রঙের নতুন ফুল-পাতা। আপন মনে খেলছে ময়ূরের দল। গাছে গাছে ছুটে বেড়াচ্ছে কাঠবিড়ালি-বানর। লেকের স্বচ্ছ পানিতে সাঁতার কাটছে একদল সাদা বক। একটু পর পর পানির নিচ থেকে উঁকি দিচ্ছে জলহস্তীরা। শব্দ পেলেই বনের ভেতর থেকে উঁকি দিচ্ছে হরিণের দল। খাবারের খোঁজে এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াচ্চগে সাদা-কালো ডোরার জেব্রাগুলো। খাঁচার ভেতর অলস সময় কাটছে বাঘ-সিংহের।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ফুলবাগান। লেখে সাঁতার কাটছে সাদা বক ও জলহস্তী

চোখ জুড়ানো এসব দৃশ্য দেখতে দেখতে খুঁটিনাটি বিষয়ে কথা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের কর্মকর্তা মিন্টু সেনের সঙ্গে। ডেইলি বাংলাদেশের প্রতিবেদককে তিনি বলেন, আমি প্রায় ১০ বছর ধরে এ পার্কে আছি। এত সুন্দর পরিবেশ কখনো দেখিনি। পরিবেশ এতটাই সুন্দর যে, কাজ না থাকলেও পার্কের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়াই।

ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ইনচার্জ ফরেস্টার মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে কয়েক মাস ধরে সাফারি পার্ক দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ। এ কারণে প্রকৃতি ফিরে পেয়েছে হারানো জৌলুস। পশু-পাখিগুলোও পেয়েছে নিরাপদ আবাসস্থল।

তিনি আরো বলেন, বন্ধের সময়টাতে পার্কে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুনভাবে সাজানো হয়েছে পার্ককে। মিউজিয়ামে বেশ কিছু ভাস্কর্য প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। আশা করি, পার্ক খোলার পর দর্শনার্থীরা অনেক নতুনত্ব পাবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর