Alexa জেলে হাসতে কারাবন্দীদের অন্যরকম ফুর্তি!

জেলে হাসতে কারাবন্দীদের অন্যরকম ফুর্তি!

আয়েশা পারভীন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৯:২৯ ১০ জুন ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বিভিন্ন অপরাধ চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, খুন সব অপরাধীর একটাই জায়গা কারাগার। যারা অপরাধ করে তাদের জন্য মূলত তৈরি এই কারাগার। তবে আজকাল নাকি অনেকেও বিনা অপরাধে কারাগারে স্থান পায়। যাইহোক ওইটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। তবে যারা সহজ, সরল, নিরাপরাধ তাদের কাছে কারাগার মানে একটি হতশ্রী, নোংরা, দুর্গন্ধযুক্ত ঘরে লোহার শিকল দিয়ে আবদ্ধ থাকা। 

তাদের বিশ্বাস, এই ঘরে বাসি পঁচা খাবার আর পুলিশের লাঠির মার ছাড়া হয়তো আর কিছুই জুটে না। কিন্তু সত্যি কি তাই? অপরাধীদের কাছেও কী তাই? আমার মনে হয় তাদের কাছে কারাগার একটি ফাইভ স্টার না হলেও থ্রি স্টার হোটেল। তা না হলে কীভাবে তারা সেখানে গিয়ে মদ, ফুর্তি, গান-বাজনা এমনকি বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সঙ্গমেও নাকি লিপ্ত হন।

এই যে কিছুদিন আগে খবর বেরিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার জেল থেকে পালিয়ে গিয়েছেন এক বিপজ্জনক ক্রিমিনাল। নাম তার ইবতারিনজা। এই সহ গত নয় মাসে তিনি একবার নয়, দু’দুবার জেল ভেঙে পালিয়ে গেছেন। সে খবরে আরো জানা যায়, জেলে বসে নাকি তিনি মদ, গাজা নিয়ে বিলাসী জীবন যাপন করতেন। এমনকি সে জেলের মধ্যে বিভিন্ন বান্ধবীকে নিয়েও রাত কাটাতেন তিনি।

তাই মাঝে মাঝে মনে হয়, অপরাধীদের জন্য নির্মিত এই জেল, কোন থ্রি বা ফাইভ স্টার হোটেল! এটা বলার পেছনে আরো একটি কারণ আছে। ঘটনা হল, সম্প্রতি একটি ভিডিও ও কিছু ছবি ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। যাতে দেখা গেছে, কারাবন্দীদের জীবন। যেখানে জেলে বসেই চুটিয়ে চলছে মদের আসর, খাওয়া দাওয়া, মোবাইল ফোনে অনর্গল কথা বলা, মদ্যপান ও নাচগান। আর এসব করছে জেলবন্দী অপরাধীরা। তবে এদের কাউকে সাধারণ জেলবন্দী বললে নাকি ভুল হবে। কারণ এরা সকলেই কুখ্যাত দুষ্কৃতি। 

এদিকে, সম্প্রতি জেলের গারদের মধ্যেই এমন ছবি, ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। জানা গেছে, এই ছবি নাকি তাদেরই মধ্যে কেউ একজন জেলে বসেই তুলেছেন। আর এমন ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের নৈনি সেন্ট্রাল জেলে। সংবাদ সংস্থা আইএএনএস প্রথম এই খবরটি প্রকাশ্যে আনে। তবে এমন খবর প্রকাশে এরই মধ্যে নড়েচড়ে বসেছে ভারতীয় প্রশাসন। এছাড়া খবরটি প্রকাশের পরপরই দুই জেলকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ভারতে এই নিয়ে গোটা ঘটনার তদন্তও শুরু হয়েছে। 

জানা গেছে, জেলে বসে ওই অপরাধীরা গত ৪ জুন পিকনিকের আয়োজন করে। এতে তারা মদ, নাচ-গান ইত্যাদি মজা করে। এদিকে এই ধরণের একাধিক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এতে দাউ পাসি, উদয় যাদব, রানু-র মত কুখ্যাত অপরাধীদেরও নাকি দেখা যায়। অবশ্য ওই জেলের একাধিক কর্মকর্তা এদের নাম এরই মধ্যে নিশ্চিত করেছেন। 

আরো জানা গেছে, সেদিনের ওই আসর বসেছিল, জেল থেকে আতিক আহমেদ নামের এক মাফিয়া ডন তথা রাজনীতিবিদকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার খুশিতে। সেখানে অফুরন্ত আমিষ খাবারের আয়োজন ছিল, ছিল মদের আসর। ওইদিনই আতিক আহমেদকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গুজরাটের সবরমতি জেলে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আতিক ওই জেলে আর নেই, সেই খুশিতে অন্য কুখ্যাত অপরাধীরা পিকনিকের আয়োজন করে।

আর এক প্রাক্তন জেল কর্মকর্তাই সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, এসব ক্ষেত্রে জেলের জেল কর্মকর্তাদের জন্য মাসোহারার বন্দোবস্ত থাকে। ফলে তারা এসব দেখেও দেখেন না। খাবার থেকে শুরু করে মদ, সবই আসে বাইরে থেকে। যা জেলের নিয়মের বহির্ভূত। ভিডিও ক্লিপে আরো দেখা গেছে, খাবার সাজানো রয়েছে প্লেটে। ফলে সবকিছুই হয়েছে রীতিমত সাজিয়ে গুছিয়ে। মনে করা হচ্ছে হয়তো জেলের মধ্যেও যে তারা রাজার হালেই আছে তা বোঝানোর জন্যই আনন্দ ফুর্তির ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়া হয়।

এদিকে, এরই মধ্যে ভিডিওটি তোলপাড় শুরু করেছে সর্বত্র। হয়ত এরপর থেকে আরো সতর্ক হবে ভারতীয় প্রশাসন, এমনটা মনে করছেন অনেকে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ