জেনে নিন ‘জুমা মোবারক’ বলার বিধান

জেনে নিন ‘জুমা মোবারক’ বলার বিধান

ধর্ম ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২২:৩২ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

প্রশ্ন: ‘জুমা মোবারক’ বলার বিধান কি? মোবারক শব্দের অর্থ কি?

উত্তর: মোবারক শব্দের অর্থ: বরকতময়, কল্যাণময়, শুভ। ‘জুমা মোবারক’ অর্থ: শুভ জুমা দিবস। যারা এটি বলে তাদের উদ্দেশ্য এ দিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করা।

এখন দেখি, ইসলামের দৃষ্টিতে জুমার দিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময় করা কতটুকু শরীয়ত সম্মত?

আমাদের অজানা নয় যে, জুমার দিন মুসলিমদের সাপ্তাহিক ঈদের দিন। কেননা এ মর্মে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

إِنَّ هَذَا يَوْمُ عِيدٍ جَعَلَهُ اللهُ لِلْمُسْلِمِينَ ، فَمَنْ جَاءَ إِلَى الْجُمُعَةِ فَلْيَغْتَسِلْ ، وَإِنْ كَانَ طِيبٌ فَلْيَمَسَّ مِنْهُ ، وَعَلَيْكُمْ بِالسِّوَاكِ

‘নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা মুসলিমদের জন্য জুমার দিনকে ঈদের দিন হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। সুতরাং জুমায় শরিক হওয়ার পূর্বে গোসল করে নেবে। আর সুগন্ধি থাকলে, ব্যবহার করবে। আর অবশ্যই মিসওয়াক করবে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: হা/ ১০৯৮, শাইখ আলবানী এটিকে হাসান বলেছেন- সহিহ ইবনে মাজাহ)।

তাহলে মুসলিমদের জন্য মোট ঈদ তিন দিন। বাৎসরিক ঈদ হলো, ঈদুল আজহা (কোরবানির ঈদ) এবং ঈদুল ফিতর (রমাজানের ঈদ)। আর সাপ্তাহিক ঈদ হলো, জুমার দিন। 

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ঈদুল ফিতর ও আজহার শেষে সাহাবিরা একে অপরের সঙ্গে দেখা হলে এ বলে, শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন: ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’ ‘আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের পক্ষ থেকে (নেক আমল) কবুল করুন।’ তবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিংবা সাহাবিরা জুমার দিন উপলক্ষে কোনো ধরণের শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায় না।

আর এ কথা অজানা নয়, দ্বীনের মধ্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবিদের আদর্শের বাইরে নতুন কিছু প্রচলন করা বা আমল করার নামই বিদাত। আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَة

‘তোমরা দ্বীনের মাঝে নতুন বিষয় আবিষ্কার করা থেকে বিরত থাকবে, কেননা প্রত্যেক নতুন বিষয়ই বিদাত। আর প্রতিটি বিদাতের পরিণাম গোমরাহি বা ভ্রষ্টতা।’ (সহিহ বুখারী, হা:৭২৭৭, অধ্যায়: কোরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা)।

তিনি (সা.) আরো বলেন,

مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدٌّ

‘যে ব্যক্তি দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন নতুন জিনিষ চালু করল তা পরিত্যাজ্য। (বুখারী, অধ্যায়: সন্ধি-চুক্তি)।

আর সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে,

مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ

‘যে ব্যক্তি এমন আমল করল যার ব্যাপারে আমার নির্দেশ নাই তা প্রত্যাখ্যাত।’ (সহিহ মুসলিম, অধ্যায়: বিচার-ফয়সালা)।

কিছু মানুষকে দেখা যায়, জুমার দিন এলে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ব্লগ ইত্যাদিতে ‘জুমা মোবারক’ বলে শুভেচ্ছা বার্তা দিয়ে পোস্ট দেয়! কেউ বা সামনা-সামনি দেখা হলে ‘জুমা মোবারক’ বলে শুভেচ্ছা বিনিময় করে! এগুলো থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। কেননা, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবিদের আদর্শের মধ্যেই আমাদের জন্য কল্যাণ নিহিত রয়েছে। এর বাইরে কোনো কল্যাণ আশা করা যায় না।

আল্লাহ আমাদেরকে বিদাত থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

উত্তর প্রদানে: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানী (দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব)।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে