জুমার নামাজের খুতবা শোনার ফজিলত

জুমার নামাজের খুতবা শোনার ফজিলত

গাজী মো. রুম্মান ওয়াহেদ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:১৯ ৫ জুন ২০২০   আপডেট: ১০:৩৫ ৫ জুন ২০২০

জুমার দিন জুমার নামাজে খতীবের খুতবা শোনা ওয়াজিব।

জুমার দিন জুমার নামাজে খতীবের খুতবা শোনা ওয়াজিব।

খুতবার শাব্দিক অর্থ বক্তৃতা করা বা ভাষণ দেয়া। জুমার নামাজের আগে খুতবা পাঠ নামাজেরই অংশবিশেষ।

ইসলামি শরীয়তের পরিভাষায় খুতবা বলা হয় এমন বক্তৃতা, যাতে আল্লাহর প্রশংসা, তাঁর একত্ববাদের ঘোষণা, প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) এর প্রতি দরুদ এবং উপস্থিত সাধারণের প্রতি উপদেশ বিদ্যমান থাকে।

মহানবী (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পর কুবার মসজিদে প্রথম জুমার নামাজ আদায় করেন। এতে রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজেই ইমামতি করেন। এদিন জুমার নামাজের আগে তিনি দু’টি খুতবা প্রদান করেন। তখন থেকেই শুক্রবারে জুমার নামাজের জামাতের আগে দু’টি খুতবা প্রদানের প্রথা প্রচলিত।

জুমার দিন জুমার নামাজে খতীবের খুতবা শোনা ওয়াজিব। খুতবা চলাকালীন মুসল্লিদের জন্য কথাবার্তা বলা নিষেধ। নিচের হাদিসটি লক্ষ্য করলে আমরা জুমার খুতবার ফজিলত সম্পর্কে ধারণা পাই- 

হজরত আবু হুরায়রাহ (রা.) হতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জুমার দিনে গোসল করল, এরপর জুমায় গেল, নির্ধারিত সালাত আদায় করল, মন দিয়ে খুতবা শেষ পর্যন্ত শুনলো, এরপর ইমামের সঙ্গে সালাত আদায় করল, তার সেই জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত এবং আরো তিন দিনের গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।’ (বুখারি-৮৮৩, মুসলিম-৮৫৭)।

জুমার দিন যে বিষয়টি আমাদের মনে রাখা জরুরি-

যারা খুতবা শুরু হওয়ার পরে এসে তাড়াহুড়া করে সামনে আসতে চেষ্টা করে, হাদিস শরিফে তাদের প্রতি কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হয়েছে। ইমাম তিরমিযী কর্তৃক বর্ণিত হাদিসে আছে, যে ব্যক্তি জুমার জামাতে পরে এসে লোকজনের কাঁধ ডিঙ্গিয়ে সামনের দিকে স্থান নিতে চেষ্টা করে সে যেন নিজের জন্য জাহান্নামে যাওয়ার একটি সেতু নির্মাণ করলো।

ইমাম আহমদ (র.) বর্ণনা করেন যে, একদা রাসূল (সা.) জুমার খুতবা দিচ্ছিলেন, এ সময় এক ব্যক্তিকে উপবিষ্ট লোকদের কাঁধ ডিঙ্গিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হতে দেখে অত্যন্ত বিরক্তির সঙ্গে বললেন, ওহে! বসে পড়, দেরিতে এসেছ এবং অন্যদের কষ্ট দিচ্ছ।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে