জুমাতুল বিদার পরিচয় ও তাৎপর্য

জুমাতুল বিদার পরিচয় ও তাৎপর্য

মাওলানা ওমর শাহ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:১৫ ২২ মে ২০২০  

জুমাতুল বিদার পাশাপাশি গোটা মুসলিম বিশ্বে এ দিনটি ‘আল-কুদস’ দিবস হিসেবেও বেশ প্রসিদ্ধ।

জুমাতুল বিদার পাশাপাশি গোটা মুসলিম বিশ্বে এ দিনটি ‘আল-কুদস’ দিবস হিসেবেও বেশ প্রসিদ্ধ।

পবিত্র রমজানুল মোবারকের শুরু থেকে শেষ অবধি প্রায় প্রতিটি মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতময়। প্রতিটি দিন, প্রতিটি রাতই মর্যাদাপূর্ণ ও তাৎপর্যমণ্ডিত। এ ছাড়া পবিত্র এ মাসে বিশেষ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতময় এবং মর্যাদাপূর্ণ ও তাৎপর্যমণ্ডিত দিন-ক্ষণ রয়েছে। এর মধ্যে জুমাতুল বিদা অন্যতম।

রমজানের শেষ জুমাবার বা শেষ জুমার দিনটি মুসলিম বিশ্বে ‘জুমাতুল বিদা’ হিসেবে পরিচিত ও প্রসিদ্ধ। জুমাতুল বিদার পাশাপাশি গোটা মুসলিম বিশ্বে এ দিনটি ‘আল-কুদস’ দিবস হিসেবেও বেশ প্রসিদ্ধ। জুমাতুল বিদা ও আল-কুদস দিবস এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সম্মিলনে রমজানের শেষ জুমার দিনটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে যুগ যুগ ধরে বিবেচিত হয়ে আসছে। গোটা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলিম উম্মাহ এ দিনে একত্র হয়ে জুমার নামাজ আদায় করেন এবং মহান আল্লাহর দরবারে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রার্থনার মাধ্যমে পবিত্র রমজানকে বিদায় জানান। পবিত্র জুমাতুল বিদার দিবসে গোটা বিশ্বময় ধ্বনিত হয় আল বিদা ইয়া শাহরু রমাদান আল বিদা দারুস সালাম।

হজরত রাসূলে পাক (সা.) জুমার নামাজের ফজিলত-মর্তবার কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন এবং এই নামাজ আদায়ে কোনো প্রকার অলসতা করতে নিষেধ করেছেন। জুমার নামাজ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘হে ইমানদররা! শুক্রবার যখন জুমার নামাজের জন্য তোমাদের আহ্বান জানানো হয়, অর্থাৎ আজান দেয়া হয় তখন তোমরা প্রস্তুত হও। ক্রয়-বিক্রয় পরিহার করো, এটা তোমাদের প্রভূত কল্যাণ ও মঙ্গল বয়ে আনবে। যদি তোমরা তা বুঝতে পারতে’। পবিত্র জুমা সম্পর্কে হজরত রাসূলে মকবুল (সা.) বলেছেন, ‘মনে রেখো, শুক্রবার সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন এবং জুমার নামাজ আদায়ে রয়েছে অশেষ কল্যাণ ও সাওয়াব’। আল্লাহর রাসূল (সা.) জুমার নামাজ সম্পর্কে আরো বলেছেন, ‘যে বা যারা অকারণে গাফিলতি করে তিন জুমা কাজা করল, সে যেন ইসলামকে অবজ্ঞা করল, আর তার অন্তরে মরিচা পড়ে গেল’।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত- রাসুল (সা.) বলেছেন, সূর্যোদয়ের মাধ্যমে যে দিনগুলো হয়, তার মধ্যে জুমার দিন হলো সর্বোত্তম। জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলমান নামাজরত অবস্থায় দোয়া করলে অবশ্যই তার দোয়া কবুল করা হয়। (তিরমিজি)। ইসলামে জুমার দিনের গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র রমজান মাসের প্রতিটি জুমার দিনের গুরুত্ব ও ফজিলত আরো বেশি। জুমাতুল বিদার মধ্য দিয়ে মূলত পবিত্র রমজানুল মোবারককে বিদায় সম্ভাষণ জানানো হয়।

রাসূলে করিম (সা.) জুমার নামাজের ফজিলত সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন ‘যে ব্যক্তি জুমার দিনে সর্বপ্রথম মসজিদে প্রবেশ করে, ফেরেশতারা তার নামে একটি উট কোরবানির সওয়াব লিখে থাকেন। অতঃপর যে ব্যক্তি প্রবেশ করে ফেরেশতাগণ তার নামে একটি গরু কোরবানির সওয়াব লিপিবদ্ধ করেন। অতঃপর যে ব্যক্তি প্রবেশ করে তার নামে একটি মুরগির ডিম সদকার সওয়াব লিপিবদ্ধ করতে থাকেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না ইমাম খুতবা পাঠের জন্য দণ্ডায়মান হন। ইমাম খুতবা পাঠ শুরু করলে ফেরেশতারা লেখা বন্ধ করে খুতবা শ্রবণ করতে থাকেন’ (সহিহ বুখারি শরিফ)।

রমজান মাসের রোজাও ইসলামের একটি স্বতন্ত্র রোকন। এমনিতেই তো রমজান মাসের সব দিনেই বরকত রয়েছে, কিন্তু রমজান মাসের জুমার দিনের মর্যাদা অন্যান্য দিনের চেয়ে অনেক বেশি। এ দিনে রমজানুল মোবারকের পাশাপাশি জুমার বিশেষ সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্বও একত্র হয়। আর যেহেতু রমজান মাসের শেষ ১০ দিনের অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা রয়েছে, এ দৃষ্টিকোণ থেকে জুমাতুল বিদা সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে নিঃসন্দেহে অপরাপর জুমার তুলনায় অনেকগুণ বেশি। এই শুভ দিনের গুরুত্ব এবং তাৎপর্য সম্পর্কে পবিত্র হাদিস শরিফে উল্লেখ আছে মহাবিচারক আল্লাহ তায়ালা রমজানের শেষ জুমার দিন ছয় লাখ বান্দাহকে দোজখের আগুন থেকে মুক্তি দেন এবং প্রতিদিন দ্বি-প্রহরে আগুন না বাড়িয়ে সমপরিমাণে কমিয়ে দেন।

পবিত্র জুমাতুল বিদার এমন সৌভাগ্যবার্তা জুমাতুল বিদার গুণে ব্যক্তি, সমাজ এবং জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে সত্য, ন্যায়, ত্যাগ-তিতিক্ষা, সংযম ও সহমর্মিতার অনুশীলনে আমরা যেন সুন্দর হয়ে উঠি এবং জুমাতুল বিদার এই পবিত্র দিনের বিদায়ী রমজান মাসের ফজিলতে আমরা যেন সর্বপ্রকার পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্তি পেতে পারি প্রতিটি রমজানের জুমা পালনে আমাদের আরো গুরুত্ব দিতে হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে