Alexa জুনিয়র খেলোয়াড়দের ধারের টাকা ফেরত দিচ্ছে না ফেডারেশন!

ব্যাডমিন্টনের হালচাল-১ 

জুনিয়র খেলোয়াড়দের ধারের টাকা ফেরত দিচ্ছে না ফেডারেশন!

এস আই রাসেল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৪৩ ২৭ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ২০:২০ ২৭ জানুয়ারি ২০২০

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

গত ডিসেম্বরে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়া অনূর্ধ্ব-১৭ ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে দল পাঠায় বাংলাদেশ। খেলোয়াড় নির্বাচন করে অফিসে ডেকে বিমান ভাড়া ধার চায় বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশন। অনেকেই ধার দিলেও ফেরত পায়নি সে টাকা। এমনকি যে ধার দেয়নি এখন তাকেও টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে ফেডারেশন। ডেইলি বাংলাদেশের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

চট্রগ্রাম থেকে উঠে আসা কিশোর ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় আকিব। ফেডারেশনের এমন হীন কাজের শিকার অনূর্ধ্ব ১৭ জাতীয় দলের এ খেলোয়াড়।

আকিব ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ‘ফেডারেশন জাতীয় দলকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়ার পর বলে তোমরা এয়ার টিকেটের ৩৬ হাজার টাকা ফেডারেশনকে ধার দাও এবং ইন্দোনেশিয়ায় টুর্নামেন্ট খেলতে যাও। টুর্নামেন্টে সাবসিডি বাবদ দুই হাজার দুইশ ডলার পাওয়া যাবে এবং সেই টাকা থেকে তোমাদের পাওনা পরিশোধ করে দেয়া হবে’।

আকিবের সঙ্গে কথা হয় ফেডারেশনের সদস্য জাহিদুল হক কচির। সাবেক কৃতী এ ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় অনেক বছর ধরে আছেন ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের বিভিন্ন পদে। ব্যাডমিন্টনে ঘটন আর অঘটন যাই ঘটুক না কেন সেখানের জাহিদুল ইসলাম কচির নাম আসবেই।অন্য খেলোয়াড়রা ফেডারেশনকে টিকেট কাটার জন্য ধার দিলেও আকিব টাকা দিয়ে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে যেতে অপারগতা প্রকাশ করে। তারপরও তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

তবে আরো দুই খেলোয়াড় মাঙ্গাল ও গালিবের সঙ্গে টাকার ব্যাপারটা কথা হয় দলের টিম ম্যানেজার ও কোচ ইঞ্জি: সরোয়ার আলমের। 

গালিবের ভাই সাজ্জাদ জানান, তাদের সঙ্গে কথা হয় সরোয়ার আলমের। তাদের বলা হয় খুব বেশী হলে ৫-৬ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। সে হিসাবে ৩০ হাজার টাকা করে ফেরত দেয়ার কথা।  

সাজ্জাদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে আরেক খেলোয়াড় মাঙাল ও একই কথা বলেন।

দল ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার পর দলের ম্যানেজার কাম কোচের হাতে ব্যাডমিন্টন এশিয়া সাবসিডি বাবদ দুই হাজার দুইশ ডলার তুলে দেয়। দলের কোচ সেখান থেকে টিকেটের ৩৬ হাজার টাকার মধ্যে ১৩ হাজার টাকা করে ধার প্রদানকারী খেলোয়াড়দের হাতে তুলে দেন, বাকী টাকার এখনো কোন খবর নেই।

তাদের জানানো হয় যে খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে অনেক খরচ হয়েছে তাই তাদের ১৩ হাজার টাকাই ফেরত দেয়া হলো। তবে প্রথম দিকে এমন কোন কথা ছিল না। 

এদিকে আকিব যেহেতু ৩৬ হাজার টাকা দিয়ে যায়নি, এখন তাকে ১৮ হাজার টাকা দেয়ার জন্য চাপ দেয়া হচ্ছে। এমনিতে বয়স কম, তার উপর এত ঘোর প্যাঁচ বোঝে না সে। বাধ্য হয়ে আকিব রক্তক্ষয় করে খেপ খেলার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছে এবং বাকি টাকা দেয়ার জন্য এখনো চাপে আছে।

এদিকে অন্য দুই খেলোয়াড় অপেক্ষায় আছে তাদের দেয়া টিকেটের বাকী টাকার জন্য। ফেডারেশনের কোন কর্মকর্তা সেই পাওনার বিষয়ে দায় নিচ্ছেন না।

তবে একটা ব্যাপার লক্ষণীয় জয়, সোয়াদ ও বাবু এই তিন শাটলার সারোয়ার ব্যাডমিন্টন ক্লাব ও একাডেমির খেলোয়াড়। তাই তাদের দায়িত্ব কোচ সরোয়ার আলম নিজেই নিয়েছিলেন।

এ ব্যাপারে দলের ম্যানেজার কাম কোচ ইঞ্জি: সরোয়ার আলম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ফেডারেশন থেকেই জাহিদুল হক কচি আমাদের জানায় টাকা ধার দেয়ার ব্যাপারটা। আমি আমার একাডেমির টাকা দিয়েছি। তারাও এমন ১৩ হাজার করেই ফেরত পেয়েছে। তবে ফেডারেশন থেকে আগেই বলা হয়েছিল ১৫ হাজার টাকা করে লাগতে পারে। ফেডারেশন থেকে আমাদের অনেক ভুল তথ্য দেয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। ট্রেনে ১০ ঘন্টা জার্নি করে খেলতে যেতে হয়েছে যা বলা ছিলো না। সে খরচও আমাদের বহন করতে হয়েছে। ফেডারেশন থেকে আমাদের জানানো হয়েছিল থাকা ও খাওয়া সব বহন করবে ব্যাডমিন্টন এশিয়া। কিন্তু তারা শুধু থাকার ব্যাপারটার দায় নিয়েছে। আমাদের নিজেদের টাকাতেই খাওয়ার ব্যয় বহন করতে হয়েছে’। 

তিনি প্রতিবেদক কে সকল হিসেবের খরচের ডকুমেন্টও দিতে চেয়েছেন।

তিনি আরো জানান, ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক যাওয়ার আগে ৭ জন খেলোয়াড়কে ৭০০ ডলার দেন। 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন বাহার জানান, তিনি টাকা ধার নেয়ার কোন কিছুই জানেন না। তাকে এমন কোন কিছুই জানানো হয়নি।

এই সকল কার্যক্রম যার হাত দিয়ে ঘটেছে ফেডারেশনের সেই সদস্য জাহিদুল হক কচি বলেন, খেলোয়াড়দের সকলকে জানানো হয়েছে এ টুর্নামেন্টে আমাদের আগ্রহ কম। আমরা সব খরচ দিতে পারবো না। তবে কেউ যেতে চাইলে নিজেদের খরচে যেতে পারে। ব্যাডমিন্টন এশিয়া থেকে সাবসিডি হিসেবে দুই হাজার দুইশ ডলার দিবে। যা দিয়ে তারা খরচ নিয়ে নিতে পারবে। বরং ফেডারেশন থেকে ৬ খেলোয়াড় ও ম্যানেজার কাম কোচকে ৭০০ ডলার দেয়া হয়েছে।

খাওয়া দাওয়া ও টাকা ফেরতের ব্যাপার জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ট্যুর থেকে এসে কোন খেলোয়াড় এখনো আমাদের কোন কিছুই লিখিতভাবে জানায়নি। যদিও আমাদেরকে ম্যানেজার কাম কোচ শুধু একটা লিখিত হিসাব দিয়েছেন, যা নিয়ে এখনো আমরা মিটিংয়ে বসিনি। তবে সামনের মিটিংয়ে এ নিয়ে আলোচনা করবো। আর খেলোয়াড়রা যদি জানাতো তাহলে এর সমাধান আমরা করতাম। আমাদের লিখিত জানালে আমরা সমাধানের ব্যবস্থা করবো। এটা জাস্ট একটা ভুল বুঝাবুঝি’।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএস/এএল