বিচারের নামে মধ্যযুগীয় কায়দায় যুবককে নির্যাতন

বিচারের নামে মধ্যযুগীয় কায়দায় যুবককে নির্যাতন

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৪৫ ৯ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৭:৪৭ ৯ জুলাই ২০২০

ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে নিয়ে যুবককে নির্যাতন

ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে নিয়ে যুবককে নির্যাতন

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়ার এক যুবককে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে নিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে। 

ইউপি চেয়ারম্যান শেখ শফিকুল ইসলাম মোক্তারের নির্দেশে চৌকিদার- দফাদার নির্মম এ নির্যাতন করে বলে নির্যাতিত যুবক আশাদুল হকের অভিযোগ। 

মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া মিস্ত্রিপাড়ার আফসার আলী ভদা মন্ডলের ছেলে আশাদুল হক বলেন, বাবার মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে আন্দুলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোক্তারের হুকুমে চোকিদার-দফাদার মিলে আমাকে অমানসিক নির্যাতন করেছে। সৎমা ও বাবার আক্রোশের শিকার হয়েছি।

আমি হাত-পা জড়িয়ে কাকুতি-মিনতি করলেও তারা আমাকে ছাড়েনি। মারাত্মকভাবে আহত হলে লোকজন আমাকে জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এখন তারা বলছেন, বাবার মিথ্যা অভিযোগে ভুল করে নির্যাতন করা হয়েছে। আমার বাবার বিচার করবে বলে আমাকে হাসপাতাল থেকে জোর করে বাড়ি আসতে বাধ্য করেন।

এখন তারা ফেঁসে যাবে এই আশঙ্কায় আমার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা দেয়ার হুমকি দিচ্ছে।

নির্যাতনের শিকার যুবকের বাবা আফসার উদ্দিন ভদা মন্ডল বলেন, ছেলে আশাদুল জমি জায়গা নিয়ে প্রায় গালিগালাজ করে। আমাকে সে দুইদিন মেরেছে। 

প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশীরা তার অভিযোগ প্রত্যাখান করে বলেন, ভদা মন্ডল দ্বিতীয় বিয়ে করার পর তিনি প্রথম স্ত্রীর সন্তানদের প্রতি উদাসিন ছিলেন এবং আশাদুলরা কয়েক ভাই-বোন খুব কষ্ট করে বড় হয়েছেন।

ভদা মন্ডলের বড় ভাই শওকত আলী, আছের উদ্দিনসহ একাধিক প্রতিবেশীদের অভিযোগ, আশাদুল কখনও তার বাবাকে মারপিট করেনি। মারপিট করলে তারা জানাতেন। ভদা মন্ডলও কখনও তাদের কাছে অভিযোগ করেনি। 

চেয়ারম্যান মোক্তার মুলত আশাদুলের সৎ ভাইয়ের মিথ্যা অভযোগে যাচাই-বাছাই না করে প্রতিহিংসায়    আশাদুলের ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছেন। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ পরিষদে নিয়ে সালিসের নামে এমন বর্বরতা আগে কখনও দেখেনি।

ইউনিয়ন পরিষদে সালিস দরবারে উপস্থিত থাকা প্যানেল চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, আশাদুলের নামে তার সৎ মায়ের ছেলের অভিযোগ, তার স্ত্রীকে খারাপ প্রস্তাব দিয়েছে। তবে মারপিট করার সময় নিষেধ করেছিলাম।  

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান মোক্তার বলেন, আশাদুল তার বাবাকে মারপিট করে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে পরিষদে বিচারে তাকে চৌকাদাররা মারধর করেছে। তবে নিজ হাতে মারিনি।

জীবননগর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার কথা শুনেছি। সালিস দরবারের নামে নির্যাতন করা ঠিক হয়নি। ঘটনার ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে