জিম্বাবুয়ের সঙ্গে অনুশীলনে বিশ্বকাপ জয়ী বোলাররাও

জিম্বাবুয়ের সঙ্গে অনুশীলনে বিশ্বকাপ জয়ী বোলাররাও

স্পোর্টস ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:০১ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টের আগে দুই দিনের প্রস্তুতিমূলক ম্যাচের প্রথম দিন ব্যাটিং অনুশীলনটা ভালোভাবেই সারলো সফরকারী জিম্বাবুয়ে। একমাত্র প্রস্তুতিমূলক ম্যাচের প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) একাদশের বিপক্ষে ৯০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৯১ রান করেছে জিম্বাবুয়ে। 

সফরকারীদের পাশাপাশি বিসিবি একাদশের হয়ে বল হাতে নিজেদের অনুশীলন সারেন সদ্য অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী দলের দুই সদস্য শরীফুল ইসলাম ও শাহাদাত হোসেন। বাঁ-হাতি পেসার শরীফুল ১টি ও ডান-হাতি অফ-স্পিনার শাহাদাত হোসেন ৩টি উইকেট নেন। বিসিবি দলে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী দলের ছয় জন থাকলেও একাদশে সুযোগ পেয়েছেন পাঁচজন। এরা হলেন- অধিনায়ক আকবর আলী, পারভেজ হোসেন ইমন, মাহমুদুল হাসান জয়, শরীফুল ও শাহাদাত। সুযোগ হয়নি তানজিদ হাসান তামিমের।

সাভারের বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে জিম্বাবুয়ে। শুরুটা চমৎকার ছিলো তাদের। দুই ওপেনার প্রিন্স মাসভাউরি ও কেভিন কাসুজা দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন। ৩০ দশমিক ২ ওভার পর্যন্ত একত্রে খেলে স্কোরবোর্ডে ১০৫ রান জড়ো করেন মাসভাউরি ও কাসুজা। এরমধ্যে ৭টি চারে ৭৭ বলে ৪৫ রান ছিলো মাসভাউরির। জিম্বাবুয়ের ওপেনিং জুটিতে ভাঙন ধরান পার্টটাইম অফ-স্পিনার আল-আমিন। গেল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) রংপুর রেঞ্জার্স ও চলমান বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) সাউথ জোনের হয়ে খেলছেন আল-আমিন। আল-আমিনের বলে মাসভাউরি উইকেটের পেছনে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক আকবর আলীকে ক্যাচ দেন।

দুই ওপেনারের ব্যাটিং-এ দুর্দান্ত শুরুর পর জিম্বাবুয়ের মিডল-অর্ডারে মিনি ধস নামান অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী দুই বোলার শরীফুল ও শাহাদাত। ৪১ রানের বিনিময়ে জিম্বাবুয়ের চার ব্যাটসম্যানকে বিদায় করেন তারা। এরমধ্যে ৩ উইকেটই ছিলো শাহাদাতের।

জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন, উইকেটরক্ষক রেগিস চাকাবা ও তিনোতেন্দা মুতুম্বোজিকে শিকার করেন শাহাদাত। আরভিন ১০, চাকাবা ১৩ ও মুতোম্বোজি ০ রান করেন। তিন নম্বরে নামা ব্রায়ান মুদজিনগানিয়ামাকে ব্যক্তিগত ১৭ রানে আউট করেন শরীফুল। ফলে ১৪৬ রানে ৫ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।

সতীর্থরা ফিরলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে দলের স্কোরকে সম্মানজনক অবস্থায় নেয়ার চেষ্টা করেন কাসুজা। হাফ-সেঞ্চুরিও তুলে নেন তিনি। তিমিসেন মারুমাকে নিয়ে মিনি ধস সামালও দেন কাসুজা। তবে বেশি দূর যেতে পারেনি কাসুজা-মারুমা জুটি। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ৩১ রান যোগ করেন তারা। ১২টি চারে ১৩০ বলে ৭০ রান করে রান আউট হন কাসুজা। ফলে দলীয় ১৭৭ রানে ভাঙে কাসুজা-মারুমা জুটি।

ষষ্ঠ উইকেট যখন পতন হয় তখন দিনের খেলার ৪৩ ওভার বাকি ছিলো। একমাত্র স্বীকৃত ব্যাটসম্যান হিসেবে উইকেটে ছিলেন মারুমা। তাই মারুমার উইকেট তুলে নিয়ে জিম্বাবুয়ের লেজ ছেটে ফেলার পরিকল্পনায় ছিলো বিসিবি একাদশ। কিন্তু মারুমার সঙ্গে উইকেটে শক্ত ভিত গড়েন ডান-হাতি পেসার কার্ল মুম্বা।

৪৯ রানের জুটি গড়েন মারুমা-মুম্বা। আল-আমিনের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ৩৪ রানে আউট হন মারুমা। আউট হওয়ার আগে ৮৯ বলের ইনিংসে ২টি চার ও ১টি ছক্কা মারেন তিনি।

দলীয় ২২৬ রানে মারুমার ফিরে যাওয়ার ক্রিজে মুম্বার সঙ্গী হন বাঁ-হাতি স্পিনার আইনসলে এনডলোভু। দিনের শেষভাগে জিম্বাবুয়েকে গুটিয়ে দেয়ার স্বপ্নে ছিলো বিসিবি একাদশ। কিন্তু সেটি হতে দেননি মারুমা-এনডলোভু। দিন শেষে অবিচ্ছিন্ন থেকে বিসিবি একাদশের বোলারদের হতাশায় পোড়ান মারুমা-এনডলোভু। ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ১০৫ বলে ৫৪ রানে অপরাজিত আছেন মারুমা। ৩টি চারে ৪৪ বলে ২৫ রান নিয়ে ক্রিজে আছেন এনডলোভু। বিসিবি একাদশের শাহাদাত ৮ ওভারে ১৬ রানে ৩টি, আল-আমিন ১২ ওভারে ৪০ রানে ২টি ও শরীফুল ১৫ ওভারে ৪৫ রানে ১টি উইকেট নেন।

প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে মিরপুরে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশের বিপক্ষে এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু করবে জিম্বাবুয়ে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এম