দূরবীনপ্রথম প্রহর

আসন ঢাকা-১৭

জিতে আসনটি নেত্রীকে উপহার দিতে চাই

দেলোয়ার মহিনডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিতে ঢাকা-১৭ আসনটি নেত্রীকে উপহার দিতে চান ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম.এ. কাদের খান।

তিনি বলেন, ঢাকা-১৭ অভিজাত গুলশান নির্বাচনী এলাকা থেকে এমপি নির্বাচিত হলে প্রথমেই আমার কাজ হবে শুলশান অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আবাসিক এলাকার আবাসিক মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়ার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে আমার। এলাকাটি অভিজাত হলেও ভাষানটেক, কড়াইল ও সাততলার মতো বস্তি রয়েছে এখানে। বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনসহ মাদকমুক্ত বস্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সেখানকার জনগোষ্ঠীর মধ্যে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে চাই। আমার অনেক আগের ইচ্ছা, সুযোগ পেলে মাদকমুক্ত গুলশান গড়বো। সারা ঢাকার মানুষ গুলশানে কেনাকাটা করতে আসে। বিশেষ করে ব্যাংক পাড়া হওয়ায় এখানে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা প্রয়োজন।

প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য বিশেষ অবদান রেখে চলেছেন। এবার তিনি মূল্যায়ন চান দলের কাছে।

স্বাধীনতার পরে ভোলা কলেজের ভিপি এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন কাদের খান।

গুলশানকে সন্ত্রাস ও যানজটমুক্ত করা প্রয়োজন। কারণ এটি কূটনৈতিক পাড়া। ওয়াসার মাধ্যমে স্যুয়ারেজ সেবা নিশ্চিত করার ইচ্ছা রয়েছে আমার। নৌকাকে জিতিয়ে এবার দলকে বিজয় এনে দিতে চাই আমি।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ গুলশান, বনানী, ভাষানটেক নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসন। অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এলাকাটি ঢাকা-৫ আসনের অন্তর্গত ছিল। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনের আগে আসন বিন্যাসে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৫, ১৮, ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ড এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানার এরিয়া নিয়ে গঠিত হয় এ আসনটি।

অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে এমপি হয়েছিলেন বিএনপির মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) কামরুল ইসলাম। এর আগে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে গঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদে এমপি ছিলেন আওয়ামী লীগের এ কে এম রহমত উল্যাহ। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোট থেকে মনোনয়ন পান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হান্নান শাহকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন এখান থেকে। এরপর গেলো দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এ আসনে প্রার্থী দেয়নি আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টির আব্দুল লতিফ মন্ডলকে হারিয়ে এ আসন থেকে এমপি হন বিএনএফের আবুল কালাম আজাদ।

হিসেব অনুযায়ী গেলো ১৭ বছর যাবত আওয়ামী লীগ জেতেনি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই সংসদীয় আসনে। কূটনৈতিক এলাকা হিসেবে পরিচিত এই আসনে এমনকি গত দুই সংসদ নির্বাচনে নিজ দলের কাউকে মনোনয়ন দেয়নি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তাই দীর্ঘদিন ধরে হাতছাড়া এ আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চান স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

মনোনয়ন পেতে ও নির্বাচন করার জন্য এরইমধ্যে মাঠে নেমেছেন কয়েকজন প্রার্থী। তাদের মধ্যে জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন এম.এ. কাদের খান। তিনি ৭২ নম্বর ওয়ার্ড (সাবেক) শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি, গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্যও ছিলেন। গত বছর ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ আগে কখনো সংসদ নির্বাচনের জন্য দলের মনোনয়ন চাননি। তবে এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চান তিনি। নির্বাচনী প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নিয়ে ডেইলি বাংলাদেশের মুখোমুখি হন এই নেতা।

ডেইলি বাংলাদেশ: আপনার রাজনৈতিক জীবনে এই প্রথম আপনি দলীয় প্রধানের কাছে কিছু চাইলেন। এবিষয়ে কিছু জানতে চাই।

এম.এ কাদের খান: আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধানতার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমি মাঠেই আছি। আর সব সময় থাকতেও চাই। বিভিন্ন সময় নানা পদে ছিলাম। জনগণ আমার শক্তি। এই আসনের জনগণ আমাকে ভালোবাসে। জনগণ আমাকে সংসদে দেখতে চায়।

ডেইলি বাংলাদেশ: দল কেন আপনাকে নমিনেশন দেবে?

এম.এ কাদের খান: দীর্ঘদিন দলের জন্য কাজ করেছি। এখন বয়স হয়েছে, এবার আজীবনের স্বপ্ন সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে নেত্রীকে আসনটি উপহার দিতে চাই। আমার বংশধররা বলতে পারবে, আমার ত্যাগের মূল্যায়ন করেছেন নেত্রী।

ডেইলি বাংলাদেশ: মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরাসরি নির্বাচন করবেন এই আসনে। কেননা ঢাকা-১৭ বলতে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকেই বোঝায়। তাহলে কিভাবে আপনি জিতবেন?

এম.এ কাদের খান: আমার একটি নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে। যা সময়ই বলবে। গুলশানকে সন্ত্রাসমুক্ত করা হয়েছে দাবি করে কাদের খান বলেন, এখানে আমরা সাধ্যমত নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে গুলশান সোসাইটির একজন কর্মকর্তা। আমি এমপি হলে পুরো গুলশান এলাকাকে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসবো। এখানে কোনো চাঁদাবাজি থাকবে না। নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গুলশান-বনানী-বারিধারার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো। যা এখনো করে যাচ্ছি।

ডেইলি বাংলাদেশ: ভোলার সন্তান হয়েও রাজধানী থেকে নির্বাচন করার কারণ?

এম.এ কাদের খান: ভোলায় তোফায়েল আহমেদের মতো নেতার বিরুদ্ধে মনোনয়ন চাইলে এটা হাস্যকর হবে। তিনি (তোফায়েল) একজন জাতীয় নেতা। ২০১৪ সালে তোফায়েল ভাই আমাকে বলেও শেষ পর্যন্ত তার ভাইয়ের ছেলের জন্য মনোনয়ন নিয়েছেন। সে কারণে আমি ঢাকা-১৭ থেকে নির্বাচন করতে চাই।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে/আরআই