জামাই-শ্বশুর দ্বন্দ্বে দিশেহারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জাতীয় পার্টি

জামাই-শ্বশুর দ্বন্দ্বে দিশেহারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জাতীয় পার্টি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:০৩ ৬ জুন ২০২০  

গ্রাফিক্স: ডেইলি বাংলাদেশ

গ্রাফিক্স: ডেইলি বাংলাদেশ

একাদশ সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে জামাই-শ্বশুর দ্বন্দ্বে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জাতীয় পার্টি। যা এখনো চলমান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দুইবারের সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা। তিনি জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক আহবায়ক ছিলেন। বর্তমানে জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান পদে আছেন। তিনি সরাইল উপজেলার বাসিন্দা।

আর তার মেয়ের জামাই অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঞা ব্রাহ্মণবাড়িয়া- ৩ (সদর - বিজয়নগর) আসনের সদর উপজেলার কোড্ডা গ্রামের বাসিন্দা। দলটির ছাত্র সংগঠন ছাত্র সমাজের সভাপতি ছিলেন, বর্তমানে জাতীয় পার্টির অতিরিক্তি মহাসচিব তিনি।

আশুগঞ্জ উপজেলার জাতীয় পার্টির এক কর্মী জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দুইবারের এমপি ছিলেন মৃধা সাহেব। কিন্তু তাকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। মহাজোট থেকে মনোনয়ন দেয়া হয় তার মেয়ের জামাই রেজাউলকে। এরপর থেকেই মূলত জেলায় জাতীয় পার্টির ভাঙন শুরু। দুজনের কোন্দলে দিশেহারা জাতীয় পার্টির কর্মীরা।   

এদিকে জাতীয় পাটির জেলা কমিটির আহবায়ক ছিলেন জিয়াউল হক মৃধা ও সদস্য সচিব ছিলে মামুনূর রশীদ। এই কমিটি ভেঙে দেন দলটির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙা। চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় পার্টির কাকরাইলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ও উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দলের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের রেজাউলকে এ দায়িত্ব প্রদান করেন।

এরপর ৩ জুন নবীনগর উপজেলার জাতীয় পার্টির আহবায়ক কমিটি ভেঙে দেন জেলা আহবায়ক রেজাউল ইসলাম ভূইয়া। এ উপজেলার আহবায়ক ছিলেন কাজী মামুনূর রশীদ ও সদস্য সচিব ছিলেন মোসলেম উদ্দিন মৃধা।

রেজাউল এ উপজেলায় জাতীয় পার্টির ৬১ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করেন। এ উপজেলায় আহবায়কের দায়িত্ব দেন মোবারক হোসেন দুলুকে। এটিএম আবদুল্লাহ মাস্টারকে করেন সদস্য সচিব।

তবে উপজেলা কমিটি থেকে অব্যাহতি পাওয়া নবীনগর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সদস্য সচিব মোসলেম উদ্দিন মৃধা বলেন, উপজেলায় নতুন কমিটি নিয়ে কিছুই জানানো হয়নি। আহবায়ক মামুনূর রশীকেও জানানো হয়নি। তার সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানানো হবে।

জাতীয় পার্টির জেলা কমিটির সাবেক আহবায়ক ও রেজাউলের শ্বশুর জিয়াউল হক মৃধা বলেন, জেলার নেতাদের অভিমত ও মতামত অগ্রাহ্য করে তাকে কেন্দ্রীয় কমিটির অতিরিক্ত মহাসচিব বানানো হয়েছে। তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই আরো বেপরোয়া হয়ে গেছেন। নবীনগর উপজেলা কমিটি ভেঙে সেখানে নতুন কমিটি দিয়েছেন। অথচ এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছিলেন মামুনূর রশীদ। তার কারণে জেলায় পার্টির রাজনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।  

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, কোনো ধরনের গ্রুপিং নয়। দলকে চাঙ্গা করতে নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন। তৃণমূল শক্তিশালী করতে নেতৃত্বে পরিবর্তন না আসলে কর্মীরা মূল্যায়ন পাবে না। তাই জাতীয় পার্টির নবীনগর উপজেলা কমিটির নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন কমিটিকে দুইমাসের মধ্যে সম্মেলন করতে হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস