Alexa জামাই-শাশুড়ির বিয়ে দিয়ে মামলায় পড়লেন চেয়ারম্যানসহ ১১ জন

জামাই-শাশুড়ির বিয়ে দিয়ে মামলায় পড়লেন চেয়ারম্যানসহ ১১ জন

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:২১ ২৭ অক্টোবর ২০১৯  

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে মেয়ের জামাইয়ের সঙ্গে শাশুড়িকে জোর করে বিয়ে দেয়ায় হাদিরা ইউপি চেয়ারম্যান কাদের তালুকদারসহ ১১জনকে আসামি করে আদালত মামলা করা হয়েছে। 

গোপালপুর আমলি আদালতের বিচারক শামছুল হক মামলাটি আমলে নিয়ে গোপালপুর থানাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

এর আগে রোববার গোপালপুর আমলি আদালতে শাশুড়ি মাজেদা বেগম বাদী হয়ে হাদিরা ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও কাজীসহ ১১জনের নামে মামলা করেন। 

গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউপির কড়িয়াটা গ্রামের জনৈক ব্যক্তির স্ত্রী ও মেয়ের জামাতাকে মারধর করে মেয়ের জামাতার সঙ্গে কাজি ডেকে শাশুড়িকে বিয়ে দেয়া হয়। হাদিরা ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের তালুকদার ও ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম সালিশ-বৈঠকের মাধ্যমে বিচার করে শাশুড়ির সঙ্গে জামাতার বিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। শরিয়া আইন লঙ্ঘন করে বিয়ে, ধর্ম অবমাননা ও শারীরিক নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটিয়েছেন মামলার আসামিরা।

বাদীর আইনজীবী হাবিবুর রহমান জানান, রোববার আদালতে বাদী মাজেদা বেগম হাজির হয়ে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১১জনের বিরুদ্ধে মামলায় দায়েরের পর আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে গোপালপুর থানাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। 

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউপির প্রত্যন্ত এলাকার কড়িয়াটা গ্রাম। এ গ্রামের নিতান্তই দরিদ্র নরু মিয়ার মেয়ে নূরন্নাহারের সঙ্গে চলতি বছরের ৯ আগস্ট এক লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে দেয়া হয় আরেক হতদরিদ্র পার্শ্ববর্তী ধনবাড়ি উপজেলার হাজরাবাড়ীর পূর্বপাড়া গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে মোনছের আলীর সঙ্গে।

বিয়ের কিছুদিন সংসার জীবন ভালো কাটলেও কয়েকদিন পরই দেখা দেয় দাম্পত্যকলহ। বিয়ের দেড় মাসের মাথায় চলতি মাসের শুরুর দিকে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান শাশুড়ি। চলতি মাসের ৮ অক্টোবর সকালে স্ত্রী, শাশুড়িকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুর বাড়ি কড়িয়াটাতে আসে মোনছের। এসময় স্ত্রী নূরন্নাহার তার অভিভাবকদের স্বামীর সংসার আর করবেনা বলে জানায়।

আর তা নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যসহ গ্রামবাসী সালিশি বৈঠক করেন। পরে বৈঠকে স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে অস্বীকার করলে রাগ এবং ক্ষোভে মা বলে উঠেন তুই না করলে আমি করবো। আর এতেই মেয়ের জামাইয়ের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে শাশুড়ি ও মেয়ের জামাইকে বেদম প্রহার করার আদেশ দেন বৈধকে উপস্থিত চেয়ারম্যান, মেম্বার ও স্থানীয় মাতব্বররা।

এরপর শ্বশুরকে দিয়ে শাশুড়ি এবং তাকে দিয়ে স্ত্রীকে তালাক দিতে বাধ্য করে তারা। পরে একই বৈঠকে কাজী শাশুড়ির সঙ্গে মেয়ের জামাইয়ের বিয়ের রেজিস্ট্রি করানো হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ