জাপানি প্রমোদতরীতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৫৪২

জাপানি প্রমোদতরীতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৫৪২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:১৬ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১২:৫১ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

চীনের উহান শহর থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকানোর লড়াইতে হেরে যাচ্ছে জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরে কোয়ারেন্টাইনে করা প্রমোদতরী ডায়মন্ড প্রিন্সেস। মঙ্গলবার নতুন করে জাহাজটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৮ জন। এ নিয়ে জাহাজটিতে গত ১৪ দিনে  আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৫৪২ জনে পৌঁছেছে।

মঙ্গলবার জাপানের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, জাহাজের সব যাত্রী এবং ক্রুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ হয়েছে, তবে কিছু পরীক্ষার ফল পেতে কয়েকদিন সময় লাগবে। এরইমধ্যে জাহাজটিতে নতুন করে ৮৮ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ফেব্রুয়ারি ৪ তারিখে পর্যটক ভর্তি এ প্রমোদতরীটিতে ১০ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি টের পাওয়ার পরপরই এটিকে ইয়োকোহামায় বন্দরে কোয়ারেন্টাইন করা হয়। চেষ্টা চলছে জাহাজটিতে থাকা অন্য যাত্রী বা ক্রু যেন কোনোভাবেই সংক্রমিত না হন। সে সময় ঔ জাহাজে যাত্রীর সংখ্যা ছিল ২,৬৬৬ জন যারা ৫৬টি দেশের নাগরিক। নাবিক এবং অন্যান্য কর্মচারীরা ছিলেন মোট ১০৪৫ জন।

তখন থেকেই তাদেরকে নিজ নিজ রুমে থাকার পরার্মশ জাহাজ কর্তৃপক্ষরা। যে কারণে কেবিনের ভেতর এক রকম অবরুদ্ধ সময় কাটাতে হচ্ছে যাত্রীদের, যাতে যতটা সম্ভব এক অন্যের সংস্পর্শে না আসতে পারে। এছাড়া যাদের শরীরে যখনই করোনাভাইরাস পাওয়া যাচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে তাদের তীরে নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তারপরেও কোনো কিছুতেই আটকানো যাচ্ছে না ভাইরাসের বিস্তার।

প্রতি ঘণ্টায় নতুন করে চার থেকে পাঁচজনের শরীরে এ ভাইরাস ঢুকছে। প্রতিদিনই নতুন করে কয়েক ডজন যাত্রীর শরীরে এ ভাইরাস বাসা বাঁধছে।

ডায়মন্ড প্রিন্সেসে শেফ (বাবুর্চি) হিসাবে কাজ করেন বিনয় সরকার। হোয়াটস আ্যপে তিনি বিবিসিকে বলছিলেন, যত দিন যাচ্ছে জাহাজে যাত্রী এবং ক্রুদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে যে, কে, কখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়েন!

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হেলথ ইন্সটিটিউটের পরিচালক ড. অ্যান্টনি ফাওচি সোমবার খোলাখুলি বলেছেন, কয়েক হাজার মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে রেখে যেভাবে জাহাজটিতে ভাইরাস আটকানোর চেষ্টা চলছে, তা কাজ করছে না। সম্ভবত সে কারণেই একের পর এক দেশ ঐ জাহাজে আটকে থাকা তাদের নাগরিকদের নিয়ে যেতে শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ঐ জাহাজে তাদের ৩৮০ জন নাগরিকের অধিকাংশকেই সোমবার বিশেষ একটি ভাড়া বিমানে করে নিয়ে গেছে।

মঙ্গলবার ক্যানাডার প্রশাসন জানিয়েছে, তারাও একটি বিমান ভাড়া করেছে। জাহাজে ২৫৬ জন কানাডার নাগরিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩২ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়াও তাদের চারজন নাগরিককে নিয়ে যেতে একটি বিশেষ বিমান পাঠাচ্ছে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া এবং ব্রিটেনও তাদের নাগরিকদের নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে।

জানা গেছে, কয়েকশ সৈন্য জাহাজে উঠে পুরোদমে স্যানিটাইজেশনের কাজ করছে। বিশেষ করে করে যেসব যাত্রীদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে গেছেন যারা তাদের ছেড়ে যাওয়া কক্ষগুলো জীবাণুমুক্ত করারও কাজ করছে।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসে চীনে নতুন করে আরো ১৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো দুই হাজার ৪ জনে। এছাড়া আক্রান্ত হয়েছেন ৭৫ হাজারেও বেশি মানুষ। এরমধ্যে এখনো পর্যবেক্ষণে রয়েছেন আরো তিন লক্ষাধিকেরও বেশি মানুষ ও প্রায় দুই হাজার স্বাস্থ্যকর্মী।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ/টিআরএইচ