Alexa জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে উল্লসিত কাব শিশুরা

জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে উল্লসিত কাব শিশুরা

গাজীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২২:১৬ ১২ অক্টোবর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গাজীপুরের মৌচাকে জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উল্লসিত ছোট ছোট কাব স্কাউট শিশুরা। শনিবার কাব ক্যাম্পুরির তৃতীয় দিন কেন্দ্রটি মুখরিত ছিল। 

প্রতিদিনের মতো কাব স্কাউটরা ভোরে উঠে নিজের প্রয়োজনীয় কাজ সেরে, শরীরচর্চার উপযোগী পোশাক পরে ‘কিচির মিচির’ এ অংশগ্রহণ করে। ভোর ৬ টায় সাব ক্যাম্প ভিত্তিক একটি নির্দিষ্ট স্থানে উপস্থিত হয়ে মিউজিকের মাধ্যমে কাব স্কাউটরা সুশৃঙ্খলভাবে নিজেদের মেলে ধরে। সুস্থতার জন্য ব্যায়াম করে। বিপির পিটি ও নানা ধরনের শারীরিক কলাকৌশল চর্চা করে ও শিখে। এভাবেই নির্মল আনন্দের মাধ্যমে সূর্যোদয়ের সময়কে অতিক্রম করে দিনের কর্মকাণ্ডের সূচনা করে। এরপর নিজের তাবুর আশেপাশের এলাকা সাজিয়ে গুছিয়ে ও পরিষ্কার করে। সবাই মিলে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে নিজেদের কাপড়, ব্যাগ, থালা, মগ বিছানা, ইউনিটের সব জিনিস গুছিয়ে রাখে। পতাকা উত্তোলন করে অন্যান্য নির্ধারিত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে। সাব ক্যাম্প ১ ও ৩, দূরন্ত -৪ এ এবং সাবক্যাম্প ২ ও ৪ , দূরন্ত-৩ এ অংশগ্রহণ করে।

দূরন্ত -৪ হলো ‘রাজার দেশে’ -এর মাধ্যমে নিজেদের নানা সাজে সজ্জিত হয়ে আনন্দদায়ক ও চিত্তাকর্ষক করছে কাব স্কাউটরা। কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে। মূলতঃ এই ‘দুরন্ত’ হচ্ছে ‘কাব কার্নিভাল’। ইউনিটের সবাই বর্ণিল সাজে সজ্জিত হয়ে যেকোনো একটি বাহনের (নৌকা, লঞ্চ, বাস, রেলগাড়ী, অ্যাম্বুলেন্স) ডাক ডাকতে কার্নিভাল পয়েন্টে কার্নিভাল চিফের পেছনে এসে সমবেত হয়। কার্নিভাল চিফের পেছনে পেছনে বাদ্যের তালে তালে কার্নিভাল মাঠে উঁচু একটি মঞ্চকে ঘিরে বৃত্তাকারে অবস্থান গ্রহণ করে। 

নির্দিষ্ট এন্ট্রি ফির মাধ্যমে কাব স্কাউটরা স্টেশনে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। যারা সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে তারা পুরস্কৃত হয়। বেশ কয়েকটি স্টেশনে ভাগ করে তারা আনন্দের মাঝে শেখে। স্টেশনসমূহ হচ্ছে- টার্গেট, শাপলা, বেলুন দিয়ে ডিসকাস থ্রো, কৌটায় বল ফেলা,  ভারসাম্য রক্ষা, মৎস শিকার, ধারাবাহিক গেরো বাঁধা ইত্যাদি।

দূরন্ত-৩ হলো অদম্য যাত্রা, অজানাকে জানার, অদেখাকে দেখার রোমাঞ্চকর ও আকষর্ণীয় এক অভিযাত্রা। যা কাবদের কাছে “কাব অভিযান” হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত। যার মাধ্যমে একজন কাব নিজেদের স্বপ্নকে সার্থক করার সুযোগ পায়। চিন্তাকে মুক্তাঙ্গনে উড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়। কাব স্কাউটরা নির্দিষ্ট ট্রেইল ধরে অজানা দর্শনীয় স্থানের পথে পাড়ি জমায়। পথিমধ্যে তাদের নানা রকমের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখী হতে হয়।  কতগুলো স্টেশনের মাধ্যমে কাবদের শিক্ষা দেয়া হয়। স্টেশন গুলো হচ্ছে- শুনে লেখা, আলোর বর্ণালি, লক্ষ্য অর্জন, কোরাস গান, ঠিকানা খোঁজা, নৃত্যের তালে, গুপ্তধন উদ্ধার ইত্যাদি। যাত্রা পথে কাব স্কাউটরা কতগুলো জিনিস সংগ্রহ করে যেমন-শুকনো পাতা, শুকনো ফুল, পাখির পালক। অভিযান শেষে ৫/৬ ইউনিট একত্রে গোল হয়ে বসে এক ইউনিট অন্য ইউনিটের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে। সর্বশেষে সংগৃহীত দ্রব্যাদির গুণাগুণ অন্য ইউনিটের সদস্যদের জানায়। এভাবে সব ইউনিট পর্যায়ক্রমে তাদের সংগৃহীত সঙ্গে দ্রব্যাদির গুণাগুণ সবাইকে জানায়। এর মাধ্যমে কাব স্কাউটরা প্রকৃতির অনেক অজানাকে জানতে পারে। 

বাংলাদেশ স্কাউটস ঢাকা অঞ্চলের আয়োজনে ঢাকা মেট্রোপলিটনসহ ঢাকা বিভাগের ১৪টি জেলার প্রায় ৩ হাজার কাব স্কাউট, কাব লিডার ও কর্মকর্তা এতে অংশ নেন। বৃহস্পতিবার কাব শুরু হলেও শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ