Alexa জাতীয় লিগের তৃতীয় দিন পেসারদের

জাতীয় লিগের তৃতীয় দিন পেসারদের

ক্রীড়া প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:০৯ ১২ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৯:১০ ১২ অক্টোবর ২০১৯

বরিশাল বিভাগের পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি

বরিশাল বিভাগের পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি

জাতীয় ক্রিকেট লিগের ২১ তম আসর শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার। তৃতীয় দিনটি ছিল পেসারদের। বরিশাল বিভাগের পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি তুলে নিয়েছেন ৬ উইকেট। রাজশাহী বিভাগের প্রথম ইনিংস থেকে ৫ উইকেট তুলে নিয়েছেন ঢাকা বিভাগের পেসার সুমন খান।

ঢাকা-রাজশাহী

ফতুল্লায় টায়ার-১ এর ম্যাচটিতে প্রথম ইনিংসে ২৪০ তুলে অলআউট হয়েছিল ঢাকা বিভাগ। জবাব দিতে নেমে রাজশাহী বিভাগ দ্বিতীয় দিন শেষ করেছিল ১৭৩ রান নিয়ে ৬ উইকেট হাতে রেখে।

শনিবার ১৯৭ রানে নিজেদের প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে গেছে রাজশাহী। পরে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ২০৬ রান তুলে তৃতীয় দিন শেষ করেছে ঢাকা। রাজধানীর দলটি লিড নিয়েছে ২৪৯ রানের।

রাজশাহীর প্রথম ইনিংস থেকে ৫ উইকেট তুলে নিয়েছেন ঢাকার ১৯ বর্ষী পেসার সুমন খান। সালাউদ্দিন শাকিল নিয়েছেন ৩টি উইকেট।

দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে রনি তালুকদার ২০, জয়রাজ শেখ ৩০, রাকিবুল হাসান ৬৫, তাইবুর রহমানের অপরাজিত ৬৭ রানে বড় লিড জমায় ঢাকা।

প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নেয়া রাজশাহীর স্পিনার তাইজুল এই ইনিংসে ৩ উইকেট ঝুলিতে জমিয়েছেন, ২টি উইকেট গেছে ফরহাদ রেজার দখলে।

সিলেট-বরিশাল

রাজশাহীতে টায়ার-২ এর ম্যাচটিতে দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত খেলা হয়েছিল সবে ৩১ ওভার। তাতে ৩ উইকেটে ৬৮ রান তোলে সিলেট বিভাগ। তৃতীয় দিনে রাব্বির তোপে সেই দলটি প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে যায় মাত্র ৮৬ রানে।

আগেরদিনের অপরাজিত জাকির হাসান আগের দিনের ৩২ রানেই ঘরে ফেরেন। অধিনায়ক অলক কাপালি আরও ১০ রান যোগ করে ১৮ রানে থামেন। বাকিদের মধ্যে চলে আসা-যাওয়ার মিছিল।

বরিশালের পেসার রাব্বি আগেরদিন ২ উইকেট নিয়েছিলেন। এদিন নিয়েছেন আরও ৪টি। সবমিলিয়ে ১৬.১ ওভারে ২৪ রানে ৬ উইকেট দখলে ২৭ বছর বয়সী পেসারের। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার সেরা বোলিং। আগের সেরাটি ৬৫ রানে ৫ উইকেটের।

বৃষ্টিতে প্রথম দুদিনের অনেকটা খেলা ভেস্তে যাওয়ায় পরে ব্যাট করতে নেমে দ্রুত রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছে বরিশাল বিভাগ। ৫০.৩ ওভারে ৮ উইকেটে ২৩১ তুলে ইনিংস ছাড়েন অধিনায়ক ফজলে মাহমুদ।

ওপেনার শাহরিয়ার নাফীস ৬৩, রাফসান আল ৩৩, অধিনায়ক ফজলের ৭০ রানে এই সংগ্রহ জমায় বরিশাল। সিলেটের হয়ে রেজাউর রহমান ৩টি ও অলক কাপালি ২টি করে উইকেট নিয়েছেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেও অবশ্য স্বস্তিতে নেই সিলেট। তৌফিক খান (০) ও রাহাতুল ফেরদৌসকে (১১) হারিয়ে শেষবেলায় আবারও চাপে দলটি। এ দুই উইকেটের একটিও অবশ্য রাব্বি পাননি, গেছে নুরুজ্জামান ও তৌহিদুলের ঝুলিতে।

৮ উইকেট হাতে নিয়ে এখনও ১১৮ রানে পিছিয়ে আছে সিলেট। বরিশাল শেষদিনে চাইবে ঝটপট উইকেট। হাতে পুরো একটি দিন।

ঢাকা মেট্রো ও চট্টগ্রাম

মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে টায়ার-টু’র ম্যাচে লড়ছে ঢাকা মেট্রো ও চট্টগ্রাম বিভাগ।

এই ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় চট্টগ্রাম। ১২২ ওভার ৫ বল ব্যাটিং করে ২৯০ রান তুলে তারা। তামিম ইকবাল ৩০ রানে সাজঘরে ফিরলেও পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে আসা তাসামুল হক ১০ রানের জন্য মিস করেন এই মৌসুমের প্রথম শতক।

যদিও চট্টগ্রামের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেন স্পিনার আরাফাত সানি। তিনি ৩৯ ওভার ৫ বলে ৮৭ রান দিয়ে তুলে নেন ৬ উইকেট।

এদিকে ঢাকা মেট্রো নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম (৬) ও রাকিন আহমেদকে (৮) ২২ রানে হারিয়ে হোঁচট খেলেও তৃতীয় দিন শেষে চট্টগ্রামের ২৯০ রান ছাপিয়ে ৭ উইকেটে ৩৪৯ রান সংগ্রহ করেছে।

ঢাকা মেট্রোর হয়ে অর্ধশত রানের ইনিংস খেলেছেন শামসুর রহমান শুভ, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, যাবিদ হোসেন ও শাহিদুল ইসলাম।

শুভর ১১৩ বলে ৫৫ রান, রিয়াদের ব্যাটে ১৩৪ বলে ৬৩ রান করলেও অপরাজিত আছেন ৮১ রানে যাবিদ হাসান ও ৮২ রানে শাহিদুল ইসলাম।
ঢাকা মেট্রোর ব্যাটাররা রান তুললেও চমক দেখিয়েছেন চট্টগ্রামের লেগ স্পিনার মিনহাজুল আবেদীন আফ্রিদি। ৩০ ওভার বোলিং করে নিয়েছেন ৩ উইকেট। এছাড়া একটি করে উইকেট নেন নোমান চৌধুরী, রনি চৌধুরী ও মাসুম খান।

এই ম্যাচের বাকি আছে একদিন। তার মানে নিশ্চিত ড্রয়ের পথেই এগুচ্ছে ঢাকা মেট্রো বনাম চট্টগ্রাম বিভাগের ম্যাচটি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএস