জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:২৯ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৮:৩২ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি- বাসস

ছবি- বাসস

জাতিসংঘ সদর দফতরে যথাযথ মর্যাদায় চতুর্থবারের মতো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়েছে। দিবসটিতে ভাষার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সংঘাত, অসহিষ্ণুতা ও সামাজিক উদ্বেগ মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, ক্যামেরুন, মেক্সিকো, ত্রিনিদাদ ও টোবাকো মিশন এবং জাতিসংঘ সচিবালয় ও ইউনেস্কো নিউইয়র্ক অফিসের যৌথ উদ্যোগে শুক্রবার স্থানীয় সময় বেলা চারটায় জাতিসংঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। 

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি অনুষ্ঠানটিতে অংশগ্রহণ করেন। জাতিসংঘ সদস্য দেশগুলোয় উচ্চ পর্যায়ের কূটনীতিক, জাতিসংঘের কর্মকর্তা, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সমাজকর্মীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি ছিল কানায় কানায় পূর্ণ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। আলোচনায় অংশ নেন- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি তিজানি মোহাম্মাদ বান্দে, ত্রিনিদাদ ও টোবাকোর স্থায়ী প্রতিনিধি মিজ্ পেনিলোপি আলথিয়া বেকলেস, অস্ট্রেলিয়ার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিজ টিগান ব্রিঙ্ক, ক্যামেরুনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জাকাইরি সারজে রাউল নাইয়ানিদ, মেক্সিকোর চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হুয়ান স্যানডোভাল মেনডিওলিয়া, জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষে জাতিসংঘের বৈশ্বিক যোগাযোগ বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মেলিচ্ছা ফ্লেমিং, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ও কনফারেন্স ব্যবস্থাপনা বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলের পক্ষে পরিচালক সিসিলিয়া এলিজালদে।

এছাড়া ইউনেস্কোর মহাপরিচালকের পক্ষে নিউইয়র্কের ইউনেস্কো অফিসের পরিচালক মারিয়ে পাওলি রোউডিল মহাপরিচালকের বাণী পড়ে শোনান। বরাবরের মতোই নিউইয়র্ক সিটি মেয়র বিল ডি ব্লাসিও এ অনুষ্ঠানটিতে বাণী প্রদান করেন।

স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বলেন, বাংলাদেশই বিশ্বের একমাত্র দেশ যারা মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে। ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার মাধ্যমে ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়েছে। স্বীকৃতি দানের এই পদক্ষেপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রণী ভূমিকা ও বিচক্ষণ নেতৃত্ব নি:সন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।

জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, জাতির পিতা ১৯৫২ ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, আর এই ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই ১৯৭১ সালে আমরা অর্জন করেছি মহান স্বাধীনতা।

এ বছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ভাষার কোনো সীমানা নেই’ উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, ভাষার শক্তি সীমান্ত অতিক্রম করে যায় এবং ভিন্ন ভিন্ন মানুষ ও তাদের সংস্কৃতিগুলোকে সংযুক্ত করে। লুপ্ত প্রায় ভাষা সংস্কৃতিসহ বিশ্বের সব ভাষা ও সংস্কৃতির সুরক্ষার জন্য তিনি সদস্য রাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি তিজানি মোহাম্মাদ বান্দে বলেন, উল্লেখযোগ্য হারে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ভাষাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। আর এ পরিস্থিতিতে ভাষা বৈচিত্র্য ও বহুপক্ষবাদ টেকসই উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য উল্লেখ করে ২০১৮ সাল থেকে তা এগিয়ে নিতে জাতিসংঘ নেতৃত্বশীল ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। মাতৃভাষাকে সমুন্নত রাখতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে অবশ্যই দ্বিগুণ প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে।

এ সময় অন্যান্য আলোচকরাও ভাষা ও সংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং বিশ্বের মানুষের মাতৃভাষায় কথা বলার ন্যায় সঙ্গত অধিকার সমুন্নত রাখার প্রতি জোর দেন। মাতৃভাষাকে কাজে লাগিয়ে সমঝোতা, সহিষ্ণুতা, সংলাপ ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তিকে এগিয়ে নেয়ার মাধ্যমে এজেন্ডা ২০৩০ অর্জনের উপর জোর দেন তারা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের উপর একটি প্রামাণ্য ভিডিও চিত্র পরিবেশন করা হয়। আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানটিতে নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশের বিশিষ্ট নাগরিক, মুক্তিযোদ্ধা, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগসহ আওয়ামী পরিবার, জাতিসংঘে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মকর্তা, অন্যান্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ