জাগ্রত তরুণ সংগঠনের অনন্য দৃষ্টান্ত

জাগ্রত তরুণ সংগঠনের অনন্য দৃষ্টান্ত

কুমিল্লা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:১৪ ৫ জুন ২০২০  

অনাহারির পাশে জাগ্রত তরূণ নামের সংগঠন

অনাহারির পাশে জাগ্রত তরূণ নামের সংগঠন

‘যতই আসুক আঁধার নেমে, তাই বলে কি রইবো থেমে!’ তবুও, থেমে থাকেনি অনাহারির পাশে দাঁড়ানোর অদম্য ইচ্ছা। কঠিন পরিস্থিতে আমরা যে আরো বেশি একতাবদ্ধ ও সামাজিক হয়ে চলতে পারি তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো জাগ্রত তরূণ নামের সংগঠন।

সারাদেশ যখন করোনা দুর্যোগে দিশেহারা, ঈদের আনন্দের উজ্জ্বলতা যখন অনটনের কালো মেঘে ম্লান হওয়ার অপেক্ষায়, তখনই জাগ্রত তরুণ চৌদ্দগ্রাম জুড়ে প্রায় তের শ’এর অধিক দুস্থ, গরিব ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে তিন ধাপে ত্রাণ ও ঈদ উপহার পৌঁছে দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

দেশের বহুল পরিচিত মানবিক সংগঠন ‘বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন’ চৌদ্দগ্রামের অসহায় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসে। জাগ্রত তরুণের তত্ত্বাবধানে বিদ্যানন্দের দেয়া ত্রাণ সামগ্রী ৫০০’টি অস্বচ্ছল পরিবারকে পৌঁছে দেয়া হয়। 

এছাড়া, গ্রামীণ মানুষের সুষম পুষ্টি নিশ্চয়তার পাশাপাশি প্রত্যেকটি পরিবারকে সুন্দরভাবে ঈদ উদযাপনের জন্য অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ করা হয়। 

করোনার ভয়াবহতা ও প্রতিকার সমন্ধে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সচেতন করার লক্ষ্যে চিওড়া, বাতিসা ও জগন্নাথ ইউপিসহ আশেপাশের এলাকায় তিন ধাপে মাইকিং করা হয়েছে। 

উপজেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও জনবহুল বাজারে, জনসাধারণের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রতিটি দোকানের সামনে সুরক্ষা সূচক ও দূরত্ব চিহ্ন দেয়া হয়েছে। যাতে করে সবাই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে। 

সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি নোবেল চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক কাজী শাফায়েত অনিক বলেন, জাগ্রত তরুণ শুধু বর্তমান সমস্যা নিয়েই ভাবছে না। আমরা বিশ্বাস করি সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করলে অচিরেই এই দুর্যোগ কাটিয়ে একটি সুন্দর আগামী গড়ে তুলতে পারবো। 

সাবেক সভাপতি এবং বর্তমান সাংগঠনিক সমন্বয়ক নাদিম হায়দার জানিয়েছেন, এই সময়ে প্রান্তিক মানুষের আয় রোজগার বহুলাংশে সীমিত হয়ে যাওয়ায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয়সীমার কথা চিন্তা করে তাদের চাষযোগ্য খালি জায়গাকে কীভাবে উত্তমভাবে ব্যবহার করা যায়, সেই দিকনির্দেশনা দিয়ে গ্রামবাসীকে সহায়তা করার চেষ্টা করে যাচ্ছে সংগঠনটি।

নিজেদের ফসল নিজেরা ফলাই, পরিবারের খাবার নিজেরা যোগাই- এই স্লোগানকে সামনে রেখে চৌদ্দগ্রামের বিভিন্ন  ইউপিতে এরই মধ্যেই মাইকিং করা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকার কৃষক ও উৎসাহী গৃহস্থদের প্রয়োজনীয় বীজ, সার ও উৎপাদনমূলক খাতে অর্থ ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।  

জাগ্রত তরুণ ২০০৮ সাল থেকে চৌদ্দগ্রামব্যাপী সমাজ উন্নয়ন, শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে