Alexa জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বকে এগিয়ে আসার আহ্বান

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বকে এগিয়ে আসার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২২:১১ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

নয়াদিল্লীতে ইউএনসিসিডি কপ-১৪ সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন-বাসস

নয়াদিল্লীতে ইউএনসিসিডি কপ-১৪ সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন-বাসস

বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশের জলবায়ু ঝুঁকি কমাতে বিশ্বকে একযোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন।

মঙ্গলবার ভারতের নয়াদিল্লীতে চলমান ইউএনসিসিডি কপ-১৪ সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান। সম্মেলনে মন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সোমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

শাহাব উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। আমাদের কৃষি সম্পূর্ণ নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল। উজানের পানি প্রবহ সংকুচিত হওয়ার ফলে আমাদের কৃষি ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের ৫৭টি আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে। এই নদীগুলোতে পানি প্রবহ সচল রাখার জন্য উজানের পানির ওপর নির্ভর করতে হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল এখন মরুময়তার হুমকিতে পড়েছে। জনসংখ্যার ঘনত্বের কারণে সীমিত ভূমিতে একাধিক ফসল ফলাতে হয়, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে সেটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা চাইলে এ সব সমস্যার একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান করতে পারি।

পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে। ২০১৮ সালে পরিবেশ নীতি সংশোধন করা হয়েছে। ভূমির ক্ষয়রোধ ও নদীর প্রবাহ ঠিক রাখার জন্যও যথেষ্ট উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ দ্বারা সৃষ্ট দীর্ঘ মেয়াদী চ্যালেঞ্জের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ‘ডেল্টাপ্ল্যান ২১০০’এর আওতায় ২০২১ সালের মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে। বরেন্দ্র অঞ্চলে মরুময়তা ও খরার প্রভাব প্রশমনের জন্য আমাদের সরকার ‘বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং সফলভাবে মরুময়তাকে প্রাথমিক পর্যায়ে থামিয়ে দিয়েছে।

চলতি সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার জন্য ২০১৮-২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৩০টি সিদ্ধান্তের বিষয়ে সম্মতির মাধ্যমে বিশ্ব নেতাদের একমত হওয়ার কথা রয়েছে। এগুলো হলো মরুময়তা ও ভূমি অবক্ষয় দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জীবনের উন্নতি করা, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের উন্নয়ন করা, দুর্যোগ ও খরার প্রভাব প্রশমিত করা।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ