Alexa জরায়ু কেন ফেলছেন মহারাষ্ট্রের নারীরা!

জরায়ু কেন ফেলছেন মহারাষ্ট্রের নারীরা!

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৪৭ ৮ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১৫:০১ ১৪ জুলাই ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

পিরিয়ড প্রতিটি নারীর জন্যই পরিচিত একটি নাম। এর দ্বারা শরীর থেকে নানা রকম ক্ষতিকর জীবাণু বের হয়ে যায়। কিন্তু এই সাধারণ বিষয়টি নিয়েই কুসংস্কারের শেষ নেই ভারতে। আর তাই ভারতে হাজার হাজার নারী অস্ত্রোপচার করে তাদের জরায়ু ফেলে দিচ্ছেন। এমনকি অল্পবয়সী তরুণীরাও বাদ পড়ছেনা জরায়ু ফেলে দেয়ার এই তালিকা থেকে। ভারতীয় সংস্কৃতিতে মাসিক বা রক্তস্রাবের এই সময়টিতে নারীদের অপবিত্র ও ধর্মীয় কাজে অংশগ্রহণের অনুপযোগী বিবেচনা করা হয়। তবে, সাম্প্রতিক দু'টো প্রতিবেদন আবারো তুলে ধরেছেন, দেশটিতে ঋতুস্রাব নিয়ে নারীদের সংকট বা ভোগান্তি কথা।

জানা যাচ্ছে, আখের ক্ষেতে ভাড়াটে শ্রমিক হিসেবে কাজ করার সুবিধার্থেই তারা নিজেদের জরায়ু ফেলে দিচ্ছেন। প্রতি বছর, ওসমানাবাদ, সাংলি ও সোলাপুরসহ আরো কিছু জেলা থেকে দরিদ্র পরিবারের হাজার হাজার মানুষ, যেখানে প্রচুর পরিমাণে আখের ক্ষেত রয়েছে সেইসব জেলায় আখ কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যায়। নারীরা কাজে গেলে অনেক সময়ই স্থানীয় ঠিকাদারদের শোষণ ও নিপীড়নের শিকার হন। এমনকি তারা নারীদেরকে নিয়োগ না দেয়ার অজুহাত হিসেবে বলে, মাসিকের সময়ে নারীরা আখ কাটার জন্য যথেষ্ট পরিশ্রম করতে পারবে না। আবার পিরিয়ডের সময় ব্যথার কারণে কোনো নারী কাজে যোগ দিতে না পারলে তাদের অর্থ কাটা যায়। তাছাড়া সেই পরিবেশটিও থাকে খুবই অস্বাস্থ্যকর। এসময় বহু নারীরা সংক্রমণে আক্রান্ত হন। এমতাবস্থায় স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গেলে,অসাধু অনেক ডাক্তার নারীদেরকে ওষুধের বদলে অপারেশন করে জরায়ু ফেলে দেয়ার পরামর্শ দেন।

একইভাবে, মহারাষ্ট্রের অনেক জায়গাতেই অল্পবয়সী নারীরা বিয়ে হয়ে বয়স ২৫ হবার আগেই একাধিক সন্তানের জননী হয়ে যান। তাই নারীরা এই সমস্যার সমাধানে জরায়ু ফেলে দেয়। যার ফলে মহারাষ্ট্রের প্রায় সকল নারী জরায়ু ফেলে দেয়ায় বেশ কয়েকটি গ্রাম 'জরায়ুবিহীন নারীদের গ্রামে' পরিণত হয়েছে। অপারেশন করে জরায়ু ফেলে দিলে নারীদের কী ধরণের স্বাস্থ্য ঝুঁকি হতে পারে - সেগুলো নিয়েও চিকিৎসকরা কোনো পরামর্শ দেন না।

প্রণেতা নীলম গোড়ি বিষয়টি সংসদ সদস্যদের সামনে তুলে ধরলে মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী একনাথ সিন্ধী একমত হয়ে জানান যে, গত তিন বছরে ৪,৬০৫ জন নারী জরায়ু ফেলে দিয়েছেন। যার ফলে সেইসব নারীরা ঘাড়, কোমর ও হাঁটুতে ব্যথা অনুভব করেন। এমনকি সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর তাদের হাত পা ও মুখ ফুলে যায়। ওই সময় ছুটি কাটাতে গিয়ে মাস শেষে জরিমানার মুখে পড়তে হয় বলে অনায়াসেই নারীরা স্বাস্থ্যঝুঁকি জেনেও জরায়ু কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন।
 
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো জানান, ৩ বছরে ভারতে চার হাজার ৬০৫টি হাইসটেরেকটমি সার্জারি হয়েছে। এতে বহু নারীর প্রজননতন্ত্রের প্রায় সবই কেটে ফেলা হয়েছে। এসব অপারেশন শুধু আখ শ্রমিক নারীদের হয়েছে, তা কিন্তু মানতে নারাজ মন্ত্রী। তবে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য একটি তদন্ত কমিটি করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।   
 
ডেইলি বাংলাদেশ/এএ