Alexa জরায়ু অপারেশনের নামে পায়ুপথ কাটলেন ডাক্তার!

জরায়ু অপারেশনের নামে পায়ুপথ কাটলেন ডাক্তার!

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৯:৩০ ২০ অক্টোবর ২০১৯  

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

জরায়ুর অপারেশন করতে গিয়ে রোগীর পায়ুপথ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জে মেডিপ্লাস জেনারেল হাসপাতালের কনসালট্যান্ট গাইনোকোলজিস্ট ও সার্জন ডা. কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে। সেই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার শিকার রোগীর প্রতি অবহেলারও অভিযোগও উঠেছে।

শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রোগী ডালিয়া বেগম (৪০) বন্দর উপজেলার লেজার্স এলাকার মঞ্জুরুল ইসলামের স্ত্রী।

রোগীর মা নূরজাত বেগম বলেন, কিছুদিন আগে জরায়ুর সমস্যা নিয়ে ডা. কামরুন নাহারের কাছে আসি। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তিনি রোগীর জরায়ুতে সমস্যা আছে জানিয়ে অপারেশন করতে বলেন। ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে অপারেশন করতে রাজি হন তিনি। 

শনিবার সকাল ৯টায় হাসপাতালে আসতে বললে আমরা যথা সময়ে চলে আসি। পরে দেড়টার দিকে অপারেশন শুরু হয়। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা চলে গেলেও অপারেশন শেষ হয় না। রোগীর কী অবস্থা সে বিষয়েও কিছু বলেন না।

বার বার প্রেসক্রিপশন দিয়ে বিভিন্ন ওষুধ আনতে বলেন। কয়েকবার ওষুধ আনার পর ফার্মেসির লোকেরা বলে যে আপনারা তো জরায়ুর অপারেশন করতে এসেছেন, এই ওষুধ তো পায়ুপথের জন্য। এগুলো দিয়ে কী করবেন? 

তখন আমাদের সন্দেহ হলে আমরা চিৎকার শুরু করি। এরপর তারা ভুল চিকিৎসার কথা স্বীকার করেন। পরে অপর এক ডাক্তারকে এনে অপারেশন করান।

ডাক্তার এসএম ইফতেখার উদ্দীন সাগর বলেন, আমি অন্য একটি রোগী দেখার জন্য এখানে এসেছিলাম। এখানে এসে ঘটনাটি জানতে পারি। পরে আমাকে ওই রোগীর পায়ুপথে অপারেশনের কথা বললে আমি করে দেই। আমি এর বেশি কিছু জানি না।

মেডিপ্লাস জেনারেল হাসপাতালের ম্যানেজার বলেন, এই রোগী ডাক্তার কামরুন নাহারের। তিনিই এখানে পাঠিয়েছেন। অপারেশনের সময় ডা. কামরুন নাহার আমাকে বলেন যে একটা জটিল সমস্যা হয়েছে, একজন সার্জন ডাকতে হবে। আমরা একজনকে ডাকি। 

অপারেশনের সময় মলদ্বার কেটে ফেলেছেন বলে রোগীর স্বজনদের বলে গেছেন ওই ডাক্তার। এখন ঠিক হতে একমাস সময় লাগবে। তবে এই ঘটনার পর বেশ কয়েকবার ফোন করে বলার পরও ডা. কামরুন নাহার রোগীর কোনো খোঁজ নিতে আসেননি।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই রিপন আলি খান বলেন, ভুল চিকিৎসার খবর পেয়ে এখানে এসেছি। খোঁজ-খবর নিচ্ছি। তবে এখনো কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএস