Alexa জমি দখল করতে মার্কেট ভেঙে দিলেন শিল্পপতি

মামলা বিচারাধীন

জমি দখল করতে মার্কেট ভেঙে দিলেন শিল্পপতি

ডেস্ক নিউজ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৫৮ ১২ জুন ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ায় পৌর এলাকার বটতৈলে জমি দখলে নিতে ২২টি দোকানসহ একটি দোতলা মার্কেট ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে এক শিল্পপতির বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত কামরুজ্জামান নাসির ‘কেএনবি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রির’ মালিক। সোমবার বিকেলে ব্যক্তি মালিকানাধীন ‘প্রামাণিক সুপার মার্কেট’ গুঁড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, নিজের প্রতিষ্ঠানের সামনের ওই জমি দখল করতে মামলাও করিয়েছেন তিনি। মামলাটি এখনো বিচারাধীন। এরমধ্যেই জেলা প্রশাসন লিজ দেয় জমিটি। তখনই বুলডোজার দিয়ে মার্কেটটি গুঁড়িয়ে দেন নাসির। ওই ভবনে ২২টি দোকান ছিল।

২০১৬ সালে জমিটির স্বত্ব দখলের জন্য জেলা যুগ্ম জজ প্রথম আদালতে মামলা করে স্থিতাবস্থার আদেশ জারির আবেদন জানায় জেলা পরিষদ। কিন্তু আদালত মামলা খারিজ করে দেয়। পরে জেলা প্রশাসন জেলা জজ আদালতে আপিল করে। সেটি এখনও বিচারাধীন।

কুষ্টিয়া জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহাতাব উদ্দিন জানান, যেখানে জেলা পরিষদ নিজেই বাদী হয়ে মামলা করেছে, সেই মামলায় আদেশ না হওয়া পর্যন্ত জেলা পরিষদ নিজের বলে সম্পত্তি দাবি করতে পারে না। কাউকে লিজও দিতে পারে না। তিনি আরও বলেন, নাসিরের নামে জেলা পরিষদের দেয়া ওই লিজে দাগ নম্বর থাকলেও কোনো খতিয়ান নম্বর নেই। এর কারণ জমিটি ব্যক্তিমালিকানাধীন।

জমিটির মালিক রাকিবুল ইসলাম বলেন, আমি ১৯৯৫ সালে বটতৈল মৌজার ১০ শতাংশ জমিটি কিনে দোতলা মার্কেট বানাই। এত বছর বেশ দোকানিরা ঠিক মতোই ব্যবসা করছিলেন। কয়েক বছর আগে জমিটি কামরুজ্জামান নাসিরের নজরে পড়ে। জমিটির পেছনেই তার কারখানা। তিনি জমিটি কেনার জন্য নানাভাবে প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। রাজি না হলে নানা অত্যাচার করেন। এতেও কাজ না হলে ২০১৬ সালে মামলা করে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে জমিটি নিজের নামে লিজ করিয়ে দেন। সোমবার হঠাৎ সবার সামনেই মার্কেটটি গুঁড়িয়ে দেন তিনি।

রাকিবুল ইসলাম আরো বলেন, রেকর্ড অনুযায়ী আমি জমির বৈধ মালিক। আমি নিয়মিত খাজনাও দিয়ে আসছি। কিন্তু পেশিশক্তি প্রয়োগ করে মার্কেটটি ভাঙা হল।

অভিযুক্ত কামরুজ্জামান নাসির বলেন, জেলা পরিষদ থেকে আমাকে জমিটি লিজ দেয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছেন। এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী রুহুল আজম বলেন, ওই জমিটি কেএনবি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রির নামে লিজ দেয়া হয়েছে। তবে উচ্ছেদের সঙ্গে জেলা পরিষদের কোনো সম্পর্ক নেই। ঘটনাস্থলে আমাদের কোনো লোক অথবা মেশিন সেখানে ছিল না। কেএনবি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রির মালিকই মার্কেট ভেঙে দিয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর