জমজ জন্মালেই নির্মমভাবে হত্যা করা হয় মা-সন্তানদের

উলঙ্গ উপজাতিদের আজব রীতি

জমজ জন্মালেই নির্মমভাবে হত্যা করা হয় মা-সন্তানদের

জান্নাতুল মাওয়া সুইটি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:০৪ ২২ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৪:১৭ ২২ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

আদিম যুগে মানুষ লতা পাতা জড়িয়ে শরীর ঢেকে রাখত। তবে এখন সে যুগ পরিবর্তন হয়েছে। সবাই চায় বাহারি ডিজাইনের পোশাক পরতে। তবে জানেন কি? আজো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আনাচে কানাচে থাকা উপজাতিরা নগ্ন জীবন-যাপনেই অভ্যস্ত। তেমনই কয়েকটি উপজাতি সম্পর্কে জেনে নিন-

১. জিবু উপজাতি

স্টিফেন ওসু নামক এক নাইজেরিয়ান সাংবাদিক তাদের আবিষ্কার করেছিলেন। এই উপজাতিরা এখনো আদি যুগের মতোই উলঙ্গ জীবন-যাপন করছেন। তবে অনেকেই পাতা দ্বারা লজ্জাস্থান ঢেকে রাখেন। জিবু সম্প্রদায়টি তারাবা রাজ্যের গাশাকার বিভিন্ন পাহাড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। শতাব্দী ধরে বাস করা এই উপজাতিদের কাওয়ারাফা কিংডমের বংশধর বলে অভিহিত করা হয়। ইতিহাসবিদদের তথ্যানুসারে, ফুলানি জিহাদিরা এই রাজ্য আক্রমণ করে ১৮০৭ সালে। সেই তখন থেকেই তারা সহযোদ্ধাদের সঙ্গে এই রাজ্যে একসঙ্গে বাস করা শুরু করে। 

জিবু উপজাতিবর্তমানেও পাহাড়ের চূড়ায় জিবু উপজাতিদের বাস। অন্যান্য উপজাতিদের থেকেও পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন তারা। আদিম যুগের মতোই তাদের বসবাস। তারা পুরো পৃথিবী থেকেই আলাদা। কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন জিবুরা। ছোট্ট মাটির ঘরে তাদের বাস। এসব ঘরের উপরে থাকে ঘাসের ছাউনি। নদী থেকে পানি এনে তারা মাটির পাত্রে তা সংরক্ষণ করেন। 

জিবুর পুরুষরা বিয়ের সময় কনেকে পণ দিয়ে থাকেন। তাদের বিয়ের একটি আজব প্রথা রয়েছে। বিয়ের কয়েকদিন আগে কনে পালিয়ে যায় কোনো বন্ধুর বাড়িতে। সে এমন ভান করে যেন বিয়েতে রাজি নয়! তবে ঠিক বিয়ের দিন কনে ফেরত এলেই বিবাহ সম্পন্ন হয়। তারা মুসলিম ধর্মের অনুসারী। তবে ইসলাম বিষয়ে এখনো তারা অনেক কিছুই জানে না। কারণ তাদের মধ্যে শিক্ষা নেই।

২. কোমা উপজাতি

১৮৬১ সালের দিকে উত্তর ক্যামেরুনের পুরনো প্রদেশ হিসেবে নাইজেরিয়া স্বীকৃতি পায়। উত্তরের আদামাওয়া রাজ্যের অ্যালান্টিকা পর্বত এবং আদামাওয়া রাজ্যের সীমান্তের দক্ষিণ-পশ্চিমে (ফারো ন্যাশনাল পার্ক) উত্তর ক্যামেরুন দখল করে রেখেছে নাইজেরিয়া। সেসব পর্বতেরই আদিম অধিবাসী কোমা জাতিরা। তাদের নিজেদের ভাষার নামও কোমা। তাদের লোকসংখ্যা প্রায় ৬২ হাজার। 

তারা ইসলাম ধর্মের অনুসারী। তবে এরা নিজেদের পোশাক নিয়ে ভাবেন না। কারণ উলঙ্গভাবেই বাঁচতে শিখেছে তারা। তবে পুরুষরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরলেও নারীরা উলঙ্গই থাকেন। তাদের একটি আজব প্রথা রয়েছে। বন্ধুত্বের খাতিরে কোমা পুরুষরা তাদের স্ত্রীকে বন্ধুর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের অনুমতি দেয়। 

কোমা উপজাতিকোমা উপজাতির একটি নৃশংসতম প্রথা রয়েছে, যা শুনলে শরীরের রক্ত যেন হিম হয়ে যাবে! যদি তাদের মধ্যকার কেউ জমজ সন্তানের জন্ম দেয় তবে হত্যা করা হয় মা ও জমজ সন্তানদেরকেও। কারণ তাদেরকে অভিশাপ হিসেবে ধরা হয়। জমজ সন্তানদের হত্যা করে নিজ এলাকা থেকে অনেক অনেক দূরে গিয়ে ফেলে দেয়া হয়।

৩. কামবারি উপজাতি

নাইজেরিয়ায় বসবাসরত এই উপজাতি উলঙ্গ হয়ে জীবন কাটাচ্ছে যুগ যুগ ধরে। তাদের মধ্যে মাত্র ৩ শতাংশ মানুষ লেখাপড়া জানে। এরা কৃষিকাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করে। তাদের ভাষার নাম শিশিগিনি। মোট জনসংখ্যার ১ লাখ ৫৫ হাজারই এই ভাষায় কথা বলে। তারা এতটাই প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করে যে গুগল ম্যাপেও তাদের এলাকাটি খুঁজে পাওয়া যায় না। 

সেখানকার প্রথা অনুযায়ী, একজন ৬০ বছরের পুরুষ ১৮ বছরের মেয়েকে বিয়ে করতে পারে। তবে তারা নিজেদের গোত্রের বাইরে বিবাহের অনুমতি দেয় না। সেখানে ধর্ষনের ঘটনাও তেমন ঘটে না। কারণ এমন ঘটনাকে তারা সৃষ্টিকর্তার শাস্তি হিসেবে মেনে থাকে। এজন্য ধর্ষিতা ও ধর্ষণকারী দু’জনকেই হত্যা করা হয়।  

কামবারি উপজাতিএকজন নারী উলঙ্গ হয়ে চলাফেরা করলেও নাকি সেখানকার পুরুষরা যৌন তৃষ্ণা বোধ করে না। তারা সবেচেয়ে বেশি আকর্ষিত হন নারীর শরীরের উল্কি, চুল বাধার ধরন ও ভালো ব্যবহার দেখে। সেখানকার বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয় কীভাবে জানেন? গরু বা ছাগল জবাই করে সেই মাংস রান্না করে বর পক্ষ নিয়ে যান কনের বাড়িতে। এই খাবার খেলেই বিয়ে সম্পন্ন। 

তারা বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় প্রাকৃতিক গাছ-গাছড়াকেই টোটকা হিসেবে ব্যবহার করে। মুরগি ও ছাগলের মাংসের কদর তাদের কাছে অনেক বেশি। এই মাংসগুলোর দামই নাকি সবচেয়ে বেশি। এই উপজাতিরা যত কম বয়সে কন্যাকে বিয়ে দিতে পারবেন ততই নিজেদেরকে ভাগ্যবান বলে মনে করেন। এজন্য উৎসবও করে থাকেন তারা। এছাড়াও যে বছর ফসলের অত্যাধিক ফলনে লাভবান হন তারা সেবছরও ব্যাপক আয়োজনের মাধ্যমে উৎসব পালন করেন।

সূত্র: ফেসটুফেসআফ্রিকা

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস