ছোট্ট একটি ঘর থেকে আজকের হলিউড
Best Electronics

ছোট্ট একটি ঘর থেকে আজকের হলিউড

সৌমিক অনয়  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:১৫ ১৫ মে ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সিনেমা দেখতে কে না পছন্দ করে? সকলেই কমবেশি সিনেমা পাগল। কেউ রোমান্টিক সিনেমা পছন্দ করে আবার কেউবা অ্যাকশন। আর এসকল সিনেমা তৈরি করে থাকে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি। প্রায় সকল দেশেরই নিজস্ব সিনেমার ইন্ডাস্ট্রি রয়েছে। তবে পুরো পৃথিবীর সিনেমাপ্রেমীদের খুব কম ইন্ডাস্ট্রিই মাতিয়ে রাখতে পেরেছে। এসকল সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় হয় হলিউড। হলিউড শুধু জনপ্রিয়ই নয় বরং পৃথিবীর সবথেকে বড় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিও বটে। 

সিনেমার উন্নয়নের শুরু থেকেই রাজত্ব করছে হলিউড। এমনকি সিনেমা তৈরির বেশিরভাগ শিল্প ও উন্নয়ন হয়েছে হলিউডে। সিনেমার শুরু থেকেই প্রতিনিয়ত হলিউড দর্শকদের দিয়ে যাচ্ছে নিত্য নতুন চমক। সেই শব্দহীন সিনেমা থেকে শুরু করে আজকের মিলিয়ন ডলারের তৈরি আধুনিক সিনেমা জগৎ পর্যন্ত হলিউড দর্শকদের উপহার দিয়েছে হাজার হাজার মুগ্ধ করা সিনেমা। তবে জানেন কি কীভাবে শুরু হয়েছিল হলিউডের? কীভাবেই বা লাভ করে এতটা জনপ্রিয়তা? তাহলে দেরি না করে জেনে নেয়া যাক হলিউডের ইতিহাস-

হলিউডের প্রতিষ্ঠা সিনেমা জগৎ সৃষ্টির আগেই হয়েছিল। ১৮৫৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার লস এন্সেলেসের বাইরে একটি ছোট ঘর তৈরি করা হয়। সেখানে প্রথম থেকেই চাষাবাদ শুরু হয়। ১৮৭০ নাগাত হলিউড একটি চাষাবাদের কমিউনিটিতে পরিণত হয় এবং পুরো ক্যালিফোর্নিয়া থেকে চাষীরা হলিউডে আসতে থাকে। কিন্তু হলিউডের নাম এই চাষীদের কাছ থেকে আসেনি। ১৮৮০ সালে হার্ভি অ্যান্ডারসন উইলিক্স নামক একজন রিয়েল স্টেট ব্যবসায়ী হলিউডে ১৬০ একর জায়গা লিজ নেয় এবং সেখানে একটি আবাসিক এলাকা তৈরির উদ্যোগ নেয়। জায়গাটির নাম হলিউড রাখার সিদ্ধান্ত নেয় উইলিক্স এর স্ত্রী ডেইডা। তিনি অবশ্য হলিউডের নাম হলিউডল্যান্ড রাখেন। যা বিবর্তনের মাধ্যমে হলিউডে পরিণত হয়। 

১৮৮৭ সালে উইলিক্স হলিউডল্যান্ড নামের নতুন শহরের ম্যাপ লস এন্সেলেস কাউন্টি অফিসে জমা দেয়। এটিই হলিউডল্যান্ডের প্রথম কোন দাপ্তরিক নথি। ধীরে ধীরে উইলিক্স এর পরিকল্পনা মাফিক হলিউডল্যান্ড গঠিত হতে থাকে। ১৯০০ সাল নাগাত হলিউড ল্যান্ডে একটি পোস্ট অফিস, দুইটি মার্কেট, একটি হোটেল এবং একটি নিউজপেপার এর অফিস প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন হলিউড ল্যান্ডের জনসংখ্যা ছিল ৫০০। যেখানে পার্শ্ববর্তী শহর লস এঞ্জেলস এর জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখ। এছাড়াও লস এঞ্জেলস এর জনসংখ্যা এতটাই বেড়ে যায় যে সেখানকার সিটি কর্পোরেশন জনসংখ্যার জন্য পানি, গ্যাস ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা দিতে ব্যর্থ হয়। ফলে ১৯০৪ সাল নাগাত মানুষ হলিউডল্যান্ডের দিকে ধাবিত হতে থাকে। ফলে হলিউডল্যান্ডের রাস্তাঘাট এবং অন্যান্য পরিষেবার উন্নয়ন হতে শুরু করে। ১৯০৫ সাল নাগাত হলিউডের জনসংখ্যা ৫০০ থেকে ২০ হাজারে পরিনত হয়। 

পরবর্তীতে হলিউডের জনসংখ্যা আরো বাড়তে শুরু করে। ১৯২৩ সালে হলিউড ল্যান্ডের রিয়েল স্টেট প্রচারের হলিউডের বিখ্যাত সাইন হলিউডল্যান্ড তৈরি হয়। যা বিবর্তিত হয়ে হলিউড সাইনে পরিনত হয়। কিন্তু একটি কৃষিভূমি এবং আবাসিক এলাকা থেকে হলিউড কীভাবে রুপালি পর্দার রাজধানীতে পরিনত হয়? বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি হলিউডকেন্দ্রীক হলেও সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি এর শুরুতে তা ছিলনা। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি শুরু হয় নিউ জার্সিতে। কিন্তু নিউ জার্সিতে সিনেমা তৈরির ক্ষেত্রে নতুন স্টুডিওগুলো এক সমস্যায় পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত প্রথম ফিল্ম স্টুডিও টমাস এডিসনের মোসন পিকচার্স। নিউ জার্সিতে কোনো প্রতিযোগিতা ছাড়াই মোসন পিকচার্স সিনেমা জগৎ এ রাজত্ব করছিল। 

এছাড়াও মোসন পিকচার্স এর রাজনৈতিক এবং আইনি সহায়তাও ছিল। ফলে নতুন কোনো নির্মাতা সিনেমা তৈরি করলেই মোসন পিকচার্স তাদের বিরুদ্ধে কপিরাইট মামলা করত এবং আইনি সহায়তায় তাদের সিনেমা বন্ধ করে দিত। যে কারনে অন্যান্য স্টুডিও ও নতুন নির্মাতারা কোনঠাসা হয়ে পড়ে। মুক্তির পথ হিসেবে নতুন নির্মাতারা ক্যালিফোর্নিয়াকে দেখতে শুরু করে। কারন নিউ জার্সির তুলনায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন কিছুটা শিথিল এবং সেখানে মোসন পিকচার্স এর প্রভামুক্ত। ফলে একে একে নতুন স্টুডিও এবং নির্মাতারা ক্যালিফোর্নিয়ার লস এঞ্জেলেসে পাড়ি জমায়। হলিউড ল্যান্ডে শুটিং এবং স্টুডিও তৈরির জন্য প্রচুর জায়গা ও পরিবেশ থাকায় প্রথম থেকেই হলিউড ল্যান্ড নির্মাতাদের প্রিয় স্থানে পরিণত নয়। হলিউডে প্রতিষ্ঠিত প্রথম স্টুডিও বায়োগ্রাফ। এর তৈরি প্রথম সিনেমা ইন ওল্ড ক্যালিফোর্নিয়া সফলতা লাভ করলে ১৯১১ এবং ১৯১৩ সালে সেখানে যথাক্রমে প্রতিষ্ঠিত হয় সেলিগ পলিস্কোপ কম্পানি এবং চার্লি চাপলিন স্টুডিও এর মত বিখ্যাত সিনেমা প্রোডাকশন কোম্পানি। যা একে একে হলিউডল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেমা জগৎ এর রাজধানীতে পরিনত করে।

১৯৪৯ সাল নাগাত শব্দহীন সিনেমা যুগের সমাপ্তি ঘটে। ততদিনে হলিউড এমজিএম, ওয়ার্নার ব্রো, প্যারামাউন্ট এবং ২০ সেঞ্চুরি ফক্স এর মত বড় বড় স্টুডিও প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এসকল স্টুডিও পুরো যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী বড় বড় থিয়েটারগুলো ক্রয় করতে শুরু করে এবং এসকল থিয়েটারে শুধুমাত্র স্টুডিগুলোর তৈরি ছবিই দেখাতে শুরু করে। যে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য প্রান্তে অবস্থিত স্টুডিওগুলো ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হতে থাকে। ফলে  যুক্তরাষ্ট্রের পুরো সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিই হলিউড ভিত্তিক হয়ে যায়। ১৯৫০ সাল নাগাদ হলিউড তার পূর্ণতা লাভ করে এবং হলিউড ১২ এংরি ম্যান এর মত বিখ্যাত সিনেমা দর্শকদের উপহার দিতে শুরু করে। ১৯৫০ এবং ১৯৬০ এর দশককে হলিউডের স্বর্নযুগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই দুই দশকেই মুক্তি পাওয়া বিখ্যাত সব সিনেমা  হলিউডকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়িয়ে পুরো বিশ্বে পরিচিতি দান করে। সিনেমা তৈরির এই যুদ্ধে হলিউডকে আরো এগিয়ে নেয় ১৯২৭ সালে শুরু হওয়া অস্কার এওয়ার্ড এবং ১৯৪৭ সালে শুরু হওয়া হল অফ ফেইম। এভাবেই ধীরে ধীরে হলিউড পরিণত হয় পৃথিবীর সবথেকে বড় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির শহরে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস

Best Electronics