দরজায় ছেলে লাগালো তালা, বাইরে মায়ের নির্ঘুম রাত

দরজায় ছেলে লাগালো তালা, বাইরে মায়ের নির্ঘুম রাত

বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৪৫ ৮ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৭:৫২ ৮ আগস্ট ২০২০

দরজায় তালা, বাইরে মা

দরজায় তালা, বাইরে মা

সন্তানকে পরম মমতার চাদরের উষ্ণতায় বড় করে তোলেন মা। হাসিমুখে মেনে নেন সন্তানের সব আবদার। সেই সন্তানই বড় হয়ে মাকে লাঞ্ছিত করে। বের করে দেয়া হয় ঘর থেকে। এবার জমি লিখে না দেয়ায় মাকে ঘর থেকে বের করে দরজায় তালা লাগিয়ে দিয়েছেন ছেলে। এভাবে টানা চার রাত মানুষের বাড়িতে নির্ঘুম কাটিয়েছেন হতভাগ্য মা নয়ন তারা সেন।

ঘটনাটি ঘটেছে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল গ্রামে। অবশেষে বালিয়াকান্দির ইউএনওর মধ্যস্থতায় শনিবার দুপুরে ঘরের চাবি বুঝে পেয়েছেন ওই মা।

জানা গেছে, জঙ্গল গ্রামের ভবেন্দ্রনাথ সেন একজন ভূ-সম্পত্তির মালিক। তার এক ছেলে সুমন সেন আর দুই মেয়ে। ছেলে ও মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। মৃত্যুর আগে স্ত্রী নয়ন তারা সেনের নামে কিছু জমি রেজিস্ট্রি করে দেন ভবেন্দ্রনাথ সেন। কিন্তু ছেলে সুমন সেন পছন্দ মতো মেয়েকে বিয়ে করায় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মেনে নিতে পারেননি বাবা। সুমন সেন পাংশায় একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরির পাশাপাশি পাংশাতেই থাকেন। জমি লিখে না দেয়ায় ৩ আগস্ট মাকে বাইরে রেখে ঘরে তালা দিয়ে চলে যান সুমন সেন।

নয়ন তারা সেন জানান, তার স্বামীর এখনো কোটি টাকার বেশি সম্পত্তি রয়েছে। একমাত্র ছেলে সুমন সেন ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করায় স্ত্রীকে নিয়ে পাংশায় থাকে। স্বামীর মৃত্যুর পর সব জমি বাৎসরিক বন্ধক দিয়ে টাকা নিলেও মায়ের খাবার খরচও দেয় না। উল্টো জমি লিখে দেয়াসহ দুই মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখার জন্য চাপ সৃষ্টি করে ছেলে।

তিনি বলেন, আমাকে পাংশায় বাসায় নিতে চায় ছেলে সুমন সেন। পরে দুইদিন পর যেতে চাই। কিন্তু সোমবার আমাকে ও মালামাল বাইরে রেখে ঘরে তালা মেরে চলে গেছে। বিষয়টি জঙ্গল ইউপি চেয়ারম্যানকে জানানো হয়।

অভিযুক্ত সুমন সেন বলেন, মাকে আমি তালা দেব না, বাইরে রাখব, এটা আমার ব্যাপার। আপনাদের ব্যাপার না। আমি তাকে পাংশা আসতে বলেছি, তিনি না এলে কি করবো।

বালিয়াকান্দির ইউএনও একেএম হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, সুমনকে দ্রুততার সঙ্গে মায়ের ঘরের চাবি ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যে কারণে জঙ্গল ইউপি চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের সহায়তায় সুমন চাবি ফেরত পাঠায় এবং তার মায়ের হাতে দুপুরেই পৌঁছে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে সুমনের মা নয়ন তারা সেন নিজ ঘরেই রয়েছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর