ছেলে তালাক দেয়া স্ত্রীকে পুনরায় বিয়ে করায় আত্মহত্যা করলেন বাবা

ছেলে তালাক দেয়া স্ত্রীকে পুনরায় বিয়ে করায় আত্মহত্যা করলেন বাবা

পাবনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:০৯ ৬ জুন ২০২০   আপডেট: ১৬:১০ ৬ জুন ২০২০

ছবিঃ সংগৃহীত

ছবিঃ সংগৃহীত

ছেলের দ্বিতীয় বিয়ে শরিয়তসম্মত না হওয়ায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক বৃদ্ধ। শনিবার ভোরে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের মধ্য পাটুলিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
 
দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দিয়ে এরপর স্ত্রীকে হিল্লা বিয়ে (তালাক দেয়া স্ত্রীকে অন্যজনের সাথে বিয়ে দিয়ে তারপর বিয়ে করা) না দিয়েই আবার বিয়ে করে ঘরে তোলেন ছেলে মিজানুর রহমান। এতে তার বাবা মকবুল হোসেন ক্ষুদ্ধ হয়ে আত্মহত্যা করেন।

নিহতের স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানান, প্রথম স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের অনুমতি না নিয়েই প্রায় পাঁচ মাস আগে প্রেম করে দ্বিতীয় বিয়ে করেন মকবুল হোসেনের ছেলে মিজানুর রহমান। তার দ্বিতীয় স্ত্রী একই গ্রামের ইয়াকুব আলীর মেয়ে জেসমিন। এ বিয়েতে দুই লাখ টাকা কাবিন করা হয়। কিন্তু তাদের মধ্যে বনি-বনা না হওয়ায় সাড়ে তিন লাখ টাকায় সমঝোতা করে জেসমিনকে তালাক দেন মিজানুর। এর কিছুদিন পর তারা আবার গোপনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

তারই সূত্র ধরে গত ২৮ মে মিজানুর রহমান আট লাখ টাকা কাবিনে আবারো জেসমিনকে বিয়ে করেন। কিন্তু ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী হিল্লা বিয়ে ছাড়া তালাক দেয়া স্ত্রীকে পুনরায় বিয়ে করা যায় না বলে ক্ষুদ্ধ হন তারা বাবা মকবুল হোসেন। এ বিয়ে মেনে না নিয়ে তিনি ছেলেকে তার বউকে বাড়িতে তুলতে নিষেধ করেন। জোর করে তার বিতর্কিত দ্বিতীয় স্ত্রীকে ঘরে তোলেন ছেলে। এ ঘটনায় তার বাবা তাকে স্ত্রীসহ বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু মিজানুর বাবার আদেশ অমান্য করেন।

এ ব্যাপারে ক্ষুদ্ধ হয়ে শনিবার ভোরে বাড়ির একটি গাছে ফাঁস দেন মকবুল হোসেন। প্রতিবেশীরা টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের ওসি মাসুদ রানা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শনিবার সকালেই পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচএফ