Alexa ছেলের জন্মদিনে তার মৃত্যু চাইলেন মা!

ছেলের জন্মদিনে তার মৃত্যু চাইলেন মা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৪১ ২২ জানুয়ারি ২০২০  

ছবিঃ সংগৃহীত

ছবিঃ সংগৃহীত

ছেলের চিকিৎসার খরচ না যোগাতে পেরে প্রশাসনের কাছে নিজের ও ছেলের স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়েছেন এক মা। মঙ্গলবার দুর্গাপুরের প্রৌঢ়া এলাকায় এমন ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, গত কয়েক বছরে যাবত অসুস্থ ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সবকিছু হারিয়েছেন স্টিল টাউনশিপ এ-জোন অঞ্চলের আটারিয়া রোডের বাসিন্দা বন্দনা সাঁপুই। সম্প্রতি তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা খুব খারাপ হয়ে পড়ার কারণে ছেলের চিকিৎসা তো দূরের কথা, সংসার চালানোর মতো টাকাও নেই বন্দনার কাছে।

ছেলের চিকিৎসার জন্য অনেকের কাছে গিয়েছিলেন। সব জায়গা থেকে খালি হাতে ফিরে কোনো উপায় না পেয়ে ছেলের জন্মদিনে মহকুমা প্রশাসনের কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়েছেন বন্দনা।

এ প্রসঙ্গে বন্দনা বলেন, বাধ্য হয়ে নিজের ও ছেলের স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন নিয়ে মহকুমা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি। আজ তুষার ৪৩ বছরে পা দিল। নিরুপায় হয়ে ছেলের জন্মদিনে মৃত্যু কামনা করেছি।

মহকুমার শাসক অনির্বাণ কোলে সেদিন দপ্তরে ছিলেন না। পরে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদনের কথা শুনে তিনি বলেন, আমি আবেদনপত্রটি দেখব। কী ভাবে পরিবারটিকে সাহায্য করা যায় দেখছি।

৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মৃগেন পাল বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি ঘটনাটি শুনেছি। এটি খুবই দুঃখজনক। আমি সমস্ত রকম ভাবে সহযোগিতা করব।

উল্লেখ্য, বন্দনার স্বামী পরিমল সাঁপুই অ্যালয় স্টিল প্লান্টের কর্মী ছিলেন। ২০১৪ সালে অবসরের পর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান পরিমল। এই দম্পতির একমাত্র ছেলে তুষারের একটি দোকান ছিল। অবসরের পর যে টাকা ছিল তাতে ভালো ভাবেই সংসার চলে যাচ্ছিলো। কয়েক বছর আগে তুষার ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হন। এরপর তার কিডনি বিকল এবং দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে যায়। ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে জীবনের সমস্ত সঞ্চয় শেষ হয়ে যায়। প্রথম দিকে আত্মীয় পরিজন ও প্রতিবেশীরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেও কেউই নিয়মিত খরচ বহন করতে চাননি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচএফ