Alexa ছেলের কাটা দুই হাত নিয়ে বাবা ঘুরছেন পথে পথে 

ছেলের কাটা দুই হাত নিয়ে বাবা ঘুরছেন পথে পথে 

রাজবাড়ী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২২:৪৪ ৫ আগস্ট ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

প্রকাশ্যে ধরে নিয়ে যুবকের দুই হাত কেটে নিয়েছে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীরা। রোববার মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ওই যুবকের দুই হাত কেটে দেয়া হয়।  এ ঘটনার পর বিচার চেয়ে ছেলের দুই কাটা হাত নিয়ে পথে পথে ঘুরছেন বাবা। আর চোখের পানি ফেলছেন। বিলাপ করে আল্লাহর কাছে বিচার চাইছেন। গেছেন পুলিশের কাছেও। 

তিনি বলেছেন, ‘যতদিন আসামিদের ধরা না হবে, ততদিন তিনি কাটা হাত তার কাছে রাখবেন এভাবে।’ এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ। ওদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ছেলে ভর্তি হাসপাতালে।

রোববার রাজবাড়ীতে কেটে নেয়া হয় ২৫ বছর বয়সী যুবক শাহিন খানের দুই হাত। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে পাঠানো হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পরে তাকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সবশেষে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক ইনস্টিটিউট বা পঙ্গু হাসপাতালে। শাহিন খান রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউপির কল্যাণপুর গ্রামের হাসেম খানের ছেলে। শোকাতুর হাসেম তার ছেলের দুই হাত পলিথিনের ব্যাগে করে সোমবার সকালে যান রাজবাড়ী সদর থানা এবং পরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে। সেখানে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে সান্ত্বনা দিয়ে আশ্বাস দেন কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার।

হাসেম বলেন, ‘আমার ছেলেরে পঙ্গু কইরা দিছে আমি তার বিচার চাই। যতদিন বিচার না হবে, আমার ছেলের হাত আমি আমার কাছে এভাবেই রাখব’ বলতে বলতে চোখের পানিতে বুক ভাসান বাবা হাসেম খান।

এদিকে, শাহিনের বাবার অভিযোগ, এলাকার এলাকায় মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতাদের কর্মকাণ্ডে বাধা হয়েছিলেন তার ছেলে। অবৈধ কাজ করতে নিষেধ করায় ক্ষিপ্ত হয় তারা।

এ ব্যাপারে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার বিকেলে তিনটার দিকে শাহিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। আধা কিলোমিটার দূরে কল্যাণপুর মহিলা মাদরাসার পাশে নিয়ে দুই হাতই কনুইয়ের উপর থেকে কেটে ফেলে। এসময় শাহীনের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

এরপর ছেলেকে হাসপাতালে পাঠিয়ে সোমবার সকালে বাবা হাসেম খান যান থানায়। মামলা করেন পাঁচজনের বিরুদ্ধে। প্রধান অভিযুক্ত ইসমাইল ও শাহীনের বিরুদ্ধে থানায় মাদকের মামলা ছিল আগে থেকেই।

এ বিষয়ে এসপি মিজানুর রহমান বলেন, ‘পুলিশে চাকরি করেছি, আমরা অনেক নৃশংস ঘটনা দেখেছি। কিন্তু এ ধরনের অভিজ্ঞতা কখনো হয়নি। বিষয়টি আমার কাছেও খুব খারাপ লেগেছে।’

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কল্যাণপুর গ্রামের শাহিন রারীকে সোমবার দুপুরে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি ওই মামলার এজাহারভুক্ত তিন নাম্বর আসামি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ