Alexa ছুরি-কাঁচি চালিয়ে নিজেরই সার্জারি করলেন

ছুরি-কাঁচি চালিয়ে নিজেরই সার্জারি করলেন

কানিছ সুলতানা কেয়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:২০ ২৫ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৫:৩২ ২৫ অক্টোবর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

দু’দিন ধরে তার সাংঘাতিক পেটে ব্যথা। সঙ্গে গায়ে জ্বর, পেটের ডান পাশের তলার দিকে ফুলে টনটন করছে। অ্যান্টার্কটিকায় একটি অভিযানের সময় রাশিয়ান সার্জন লিওনিড রোগোজভ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি নোভোলাজারেভস্কায়া মেরু গবেষণা কেন্দ্রের একজন চিকিৎসক ছিলেন। 

প্রাণহীন ওই উপত্যকায় তিনি আট মাস আগে যান। এদিকে রোগোজভের অসুস্থতা বেড়েই যাচ্ছে। অথচ রাশিয়া থেকে অ্যান্টার্কটিকায় যেতে সমুদ্রপথে ৩৬ দিন সময় লাগবে। আবার তুষার এবং বরফের ঝাঁকুনির কারণে উড়ন্ত অসম্ভব ছিলো। তাকে কোথাও নেয়ারও কোনো উপায় নেই।

লিওনিড রোগোজভরোগোজভ ষষ্ঠ সোভিয়েত অ্যান্টার্কটিক অভিযানের অংশ ছিলেন। এটি ছিলো শীতল যুদ্ধ- পূর্ব এবং পশ্চিমের সঙ্গে পারমাণবিক, স্থান এবং মেরু দৌড় প্রতিযোগিতা। যার ভার পড়েছিলো উভয় দেশ এবং ব্যক্তিদের ওপর। শিরম্যাচার ওসিসে একটি নতুন ঘাঁটি তৈরির জন্য তারা ১২ জনের একটি দল সেখানে পাঠায়। ১৯০১ সালে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে নভোলাজারেভস্কায়া স্টেশনটি চালু করা হয়। তবে তাদের মিশনটি শেষ না করায় সেখানেই ১২ জনকে বেশ কয়েক মাস কাটিয়ে দিতে হয়। 

পেঙ্গুইনের বাচ্চাকে আদর করছেন লিওনিড (ডানে)সময় বেলা দু’টো। তীব্র হিমশীতল ঠাণ্ডা, বাইরে বিরামহীন তুষারপাত সেইসঙ্গে ঝড়ো হাওয়া। ২৭ বছর বয়সী লিওনিড রোগোজভ এক প্রকার নিশ্চিত যে এটি অ্যাপেন্ডিক্স। এ এমন কিছু মারাত্মক নয়। তবে যদি ফেটে যায়, আর ফেটে গিয়ে সংক্রমণ হয়ে যায়। তবে যথেষ্ট প্রাণ সংশয় রয়েছে। একটাই উপায় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটাকে কেটে বাদ দিতে হবে। মানে সার্জারি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে সার্জারি করবে কে? 

সার্জিারির সময়আশেপাশে কোনো ডাক্তারের চিহ্ন নেই। তার এই মুহূর্তে অপারেশনের দরকার। দলের একমাত্র চিকিৎসক হিসাবে তিনি বুঝলেন, এটি নিজেকেই করতে হবে। অগত্যা, সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেললেন লিওনিড। এ যাবত কেউ যা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি। সেটাই করবেন তিনি। সঙ্গে সেখানকার দু’জনকে নিলেন। ঠিক হলো, তারা ছুরি, কাঁচি এগিয়ে দিবেন আর আয়নাটি ধরে থাকবেন। অ্যানেস্থেশিয়ার সাহায্য নিলেন লিওনিড। 

সার্জারির কাঁচি ছুরিতারপর আধ শোয়া হয়ে ডানদিকের তলপেটে প্রথমত ১০ থেকে ১২ সেন্টিমিটার পেটের চামড়া কেটে ফেললেন। নিয়মমাফিক কেটে পৌঁছে গেলেন নির্দিষ্ট স্থানে। তবে একটি ঝামেলা বাঁধলো। আয়না দেখে কাটতে গিয়ে কেটে ফেললেন বৃহদান্ত্রের কিছুটা। সেটি আবার সেলাই করতে হলো। ইতিমধ্যে তার বেশ দুর্বল লাগতে শুরু করেছে। মাথাটাও বেশ ঝিমঝিম করছে। যাই হোক, আয়নায় অ্যাপেনডিক্সটা দেখতে পেলেন এবার। আর একটু সময় গড়ালেই আর দেখতে হত না... 

আয়নার সাহায্য নেন তিনিওটাকে কেটে কুটে আবার সব সেলাই করতে চারটা বেজে গেলো। প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লেগেছিলো তার। এইভাবে পৃথিবীর প্রথম সেল্ফসার্জারির উদাহরণ তৈরী হয়ে গেল সেদিন। দুই সপ্তাহের মধ্যেই লিওনিড একেবারে সুস্থ হয়ে গেলেন। মারাত্মক ঠাণ্ডার একটা সুবিধেও আছে। সংক্রমণ হয় না অত সহজে। তবে খবরটা চাউর হয়ে গেল আর অবধারিতভাবে আলোড়ন তুললো, বিশেষত নিজের দেশে। সোভিয়েত সরকার ওই বছরই অর্ডার অব দ্য রেড ব্যানার অব লেবার সম্মানে ভূষিত করলেন তাকে। 

বিশেষ সম্মানে ভূষিত হন তিনি১৯৬২ সালের অক্টোবরে অভিযান শেষ করে দেশে ফিরলেন লিওনিড। এম ডি করলেন সার্জারিতে। পরবর্তীতে সেন্ট পিটার্সবার্গ রিসার্চ ইনস্টিটিউটে সার্জারি বিভাগের হেড অব দ্য ডিপার্টমেন্ট হন তিনি। রোগোজভ যদিও প্রচার থেকে দূরে সরে গেলেন। বাড়ি ফিরে আসার পরদিনই তিনি আবার হাসপাতালে ফিরে গিয়ে তার কর্মজীবন আবার শুরু করেন।

সূত্র: বিবিসি

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস