ছুটি শেষ হওয়ার আগেই কোলাহলপূর্ণ ঢাবির ক্যাম্পাস

ছুটি শেষ হওয়ার আগেই কোলাহলপূর্ণ ঢাবির ক্যাম্পাস

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:১৭ ১২ জুন ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ঈদুল ফিতর ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশের ছুটি এখনো শেষ হয়নি তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ফিরেছে পুরোনো চেহারায়। ক্লাস-পরীক্ষা শুরু না হলেও টিএসসি, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, কার্জন হল, শহীদ মিনার কিংবা শামসুন্নাহার হলের সামনে বেশ ভিড় হচ্ছে প্রতিদিন। ঈদের ছুটি কাটিয়ে শিক্ষার্থীরাও ফিরে এসেছে হল জীবনের গান-গল্প আর আড্ডায়।

জুলাই মাসের প্রথম দিনে শুরু হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন কার্যক্রম। তবে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরে আসায় মনে হচ্ছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডের ক্লাস-পরীক্ষা চলছে নিয়ম মতই।

মুহসিন হলের শিক্ষার্থী শেখ আশিক বলেন, এখন আর বাড়িতে থাকতে খুব একটা ভালো লাগে না, ক্যাম্পাসের জন্য কেমন একটা মায়া কাজ করে! এজন্য ছুটি শেষ হওয়ার আগেই ফিরে এসেছি। বেশির ভাগ শিক্ষার্থীরা ফিরে এসেছে। এজন্য ছুটি মনে হচ্ছে না।

অনেকদিন পর ক্যাম্পাসে ফিরে শিক্ষার্থীরা যেন বন্ধুদের সঙ্গে পুনর্মিলনীর আনন্দ ভাগাভাগি নিয়ে মেতে আছেন। ফলে সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে টিএসসি ও শামসুন্নাহার হল এলাকায়। ভিসি চত্বরেও জটলা হচ্ছে বেশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি রাস্তাতেই হাসিমুখ চেহারা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে ছাত্ররা।

সনিয়া জামান নামে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী বলেন, অনেকদিন পর ক্যাম্পাসে এসেছি। ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেয়া হয়নি। এখন থেকে ক্লাস শুরু হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন আড্ডা দেয়া চলবে। গান হবে, গল্প হবে। প্রিয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজের মতো করে চিনে নিতে হবে।

ছুটির মধ্যে শিক্ষার্থীরা না থাকায় ব্যবসায়ীদের ব্যবসা বন্ধ ছিল। এখন আবার সেগুলো খোলা হয়েছে। আগের মতো ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বিভিন্ন হল, হাকিম চত্বর, পলাশী মোড় ও নীলক্ষেতের দোকানদাররা।

হাকিম চত্বরে বিখ্যাত রমজানের দোকান, টিএসসির স্বপন মামা ও রুবেলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগের মতো বিক্রি না হলেও ঈদের পর বিক্রি বেড়েছে। ক্যাম্পাস খোলার পর বিক্রি আরো বাড়বে। তাদের মতে, ক্যাম্পাসে তিন ভাগের এক ভাগ শিক্ষার্থীরা ফিরে এসেছে। সব শিক্ষার্থী ফিরে এলেই আবার কোলাহলময় প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠবে টিএসসি ও হাকিম চত্বর।

তবে ক্যাম্পাসের দোকানপাট খুললেও খোলেনি হলের ডাইনিং। ফলে হলের খাবার খেতে যারা অভ্যস্ত তারা পড়েছেন বিপাকে। বেশ কয়েকটি হলের প্রভোস্টের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ক্যাম্পাস দাফতরিকভাবে খোলার পরই হালের ডাইনিং খুলবে। এ সময় ছাত্রদেরকে বাইরের দোকানে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এসব শিক্ষকরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট গোলাম রাব্বানী বলেন, ছাত্ররা ফিরে আসায় আমরা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন দৃষ্টি রাখছি। হলের বাইরের দোকানগুলো যেন তাদের কাছ থেকে খাবারের বিনিময়ে বেশি টাকা আদায় করতে না পারে সে ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টি আছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএসআই/এসআই