Alexa চৌগাছায় মেছোবাঘ আটক করে বিপাকে কৃষক

চৌগাছায় মেছোবাঘ আটক করে বিপাকে কৃষক

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:২৩ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

যশোরের চৌগাছায় একটি মেছোবাঘ আটক করেছে কৃষকরা। তিনদিন ধরে মেছোবাঘটি আটক করে রাখলেও বন বিভাগের কর্মকর্তারা এটি উদ্ধারে কোনো ব্যবস্থা নেননি।

বুধবার রাতে উপজেলার স্বরূপদাহ ইউপির তিলকপুর গ্রাম থেকে মেছোবাঘটিকে আটক করেন কৃষকরা। এরপর থেকে বস্তায় ভরে রাখা হয় সেটিকে। পরে শুক্রবার একটি মুরগি রাখার খাঁচায় বাঘটিকে রেখেছেন তারা। 

এ বিষয়ে শুক্রবার সকালে উপজেলা বন কর্মকর্তা ওমর আলী গাজী এবং বেনাপোল স্থল বন্দর বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের বন কর্মকর্তা মামুন-অর-রশিদকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানানো হলেও তারা বাঘটিকে উদ্ধারে কোনো ব্যবস্থা নেননি। এদিকে মেছোবাঘটিকে আটক করে ওই কৃষক পড়েছেন বিপাকে। ধরার সময়ে বাঘটি একজনকে কামড়ে দেয়। এখন ছেড়ে দিলে অন্য কাউকে যদি কামড়ে দেয় অথবা কেউ বাঘটিকে মেরে ফেলে এই ভয়ে তারা ছাড়তেও পারছেন না।

তিলকপুর গ্রামের কৃষক ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম লতামিয়া জানান, গত বুধবার রাত ১০টার দিকে নিজের বাড়িতে প্রবেশের মুখে গেটেই তিনি বাঘটিকে দেখতে পান। তখন তিনি কিছুটা ভয় পেয়ে চিৎকার করলে গ্রামের লোকজন জড়ো হয়। এ সময় বাঘটি লতামিয়ার মেঝে ভাই সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে ঢুকে পড়ে। সেখান থেকে সবাই মিলে বাঘটিকে ধরে ফেলেন তারা।

লতা মিয়া বলেন, ধরার সময় মেছোবাঘটি আহমদ আলী নামে একজনকে কামড়ে দেয় এবং আমাকেও কয়েকবার কামড়াতে যায়। পরে বাঁশদিয়ে বাড়ি দিয়ে বাঘটিকে কাবু করা হয়। এরপর তারা সেটিকে প্লাস্টিকের বস্তায় বন্দী করে রাখেন। পরে শুক্রবার দুপুরে তারা স্থানীয়ভাবে একটি মুরগি রাখার খাঁচায় বাঘটিকে আটকে রেখেছেন।

তিনি বলেন, বাঘটি ছেড়ে দিলে মানুষ বা গৃহপালিত পশুকে কামড়াতে পারে অথবা বাঘটি হত্যা করা হতে পারে সেই ভয় থেকে আমি বাঘটি আটকে রেখেছি। 

লতামিয়া বলেন, ভারত সীমান্ত লাগোয়া আমাদের গ্রাম। সীমান্তের ওপারে রয়েছে বনজঙ্গল। সেখান থেকেই হয়ত বাঘের বাচ্চাটি এদিকে চলে এসেছে। মেছোবাঘটি আনুমানিক ১ফুট উচ্চতা ও ৩০ ইঞ্চি লম্বা হবে।

এদিকে চৌগাছা উপজেলা বন কর্মকর্তা ওমর আলী গাজী এবং বেনাপোল স্থল বন্দর বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের বন কর্মকর্তা মো. মামুন-অর-রশীদকে মোবাইলের মাধ্যমে অবগত করা হয়। 

মামুন-অর-রশিদ বেলা ১১টার দিকে বলেন, বিষয়টি আমি দেখছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ