Alexa চোরাকারবারিদের ধরলেও তদন্তের ক্ষমতা নেই কাস্টমসের

চোরাকারবারিদের ধরলেও তদন্তের ক্ষমতা নেই কাস্টমসের

শফিকুল বারী ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:০২ ১৮ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৯:২৭ ১৮ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে সোনা চোরাকারবারিদের ধরলেও তাদের কাছ থেকে কোনো তথ্য বের করতে পারছে না কাস্টমস গোয়েন্দারা। জিজ্ঞাসাবাদের সীমাবদ্ধতার জন্য বেশিরভাগ মামলায় আসল রহস্য উদঘাটন করা যায় না। অনেকটা নিশ্চিতভাবে জানা থাকা সত্ত্বেও চোরাকারবারিদের মুখোশ উন্মোচনে তারা চেইনের পরবর্তী ধাপে পৌঁছাতে পারছেন না। ফলে মূলহোতারা বরাবরই থেকে যায় ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।

কাস্টমস গোয়েন্দারা আসামিকে ইন্টারোগেশন (জিজ্ঞাসাবাদ) করার ক্ষমতা না থাকাসহ নানা সীমাবদ্ধতার কথা বলছেন। এসব সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা কাস্টমস হাউজের প্রিভেনটিভ টিমের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিনিয়ত সোনা চোরাকারবারিদের কৌশলে আসে পরিবর্তন। তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে হয় গোয়েন্দাদেরও। দেশে-বিদেশে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দিতে হয় সোর্স। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে চোরাচালানিদের সোনার বাহককে ধরা হয়। কিন্তু সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের কাছ থেকে কোনো তথ্য বের করা যায় না। এর কারণ ব্যাখ্যা করে কাস্টমস কর্মকর্তা জানান, যাদের কাছ থেকে সোনা আটক করা হচ্ছে এদের সবাই শুধুমাত্র বাহক। কিন্তুু আটকদের কাছ থেকে পরবর্তীতে কোনো তথ্য আদায় করা সম্ভব হয় না। কারণ তাদেরকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের কোনো এখতিয়ার কাস্টমসের নেই। শুধু তাই নয়, আটকদের হ্যান্ডকাফ পরানোরও কোনো অধিকার নেই কাস্টমসের। আইন অনুযায়ী থানা পুলিশের কাছে মামলা দিয়ে হস্তান্তর করতে হয় আটক আসামিদের।

কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আরো জানা যায়, অনেক সময় উড়োজাহাজের এমন সব স্থান থেকে সোনা উদ্ধার করা হয়, যাতে স্পষ্ট বোঝা যায় এরসঙ্গে সংশ্লিষ্ট উড়োজাহাজ কোম্পানির প্রকৌশল বিভাগের লোকজন জড়িত। কিন্তু আটক ব্যক্তির কাছ থেকে পরে কোনো তথ্য বের করতে না পারায় অধরাই রয়ে যায় পরবর্তী ধাপের সঙ্গে সম্পৃক্ত চোরকারবারিরা।

শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, সোনা চোরাচালান, অর্থ পাচার, শুল্কমুক্ত সুবিধায় দামি গাড়ি আমদানির মতো বড় দুর্নীতিগুলোর অনুসন্ধান করতে হয় তাদের। শুল্ক গোয়েন্দাদের কাজের ক্ষেত্র দেশব্যাপী বিস্তৃত। সে তুলনায় পর্যাপ্ত জনবলসহ লজিস্টিক সাপোর্ট নেই বললেই চলে।

তবে সূত্র জানায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে চাহিদাপত্র দেয়া হয়েছে। চাহিদাপত্রে হ্যান্ডকাফ থেকে হেলিকপ্টার পর্যন্ত বেশ কিছু লজিস্টিক (যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য রসদ) সাপোর্ট চাওয়া হয়েছে। যার মধ্যে আছে উচ্চ প্রযুক্তি সম্পন্ন গোয়েন্দা সামগ্রী, ফরেনসিক ল্যাব, সশস্ত্র ইউনিট, র‌্যাবের সঙ্গে যৌথভাবে ডগ স্কোয়াড গঠনসহ নানা প্রস্তাব।

এর আগে এনবিআর এর কাছে আটক সোনা চোরাকারবারিদের হ্যান্ডকাফ পরানোর জন্য অনুমতি চেয়েছিল কাস্টমস গোয়েন্দারা। যেখানে বলা হয়েছিল, সোনাসহ আটক ব্যক্তিদের অনেক সময় থানা, হাসপাতাল কিংবা প্যাথলজিক্যাল ল্যাবে নিতে হয়। সেক্ষেত্রে তাদের বিনা হ্যান্ডকাফে আনা-নেয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি রয়ে যায়।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. সহিদুল ইসলাম ডেইল বাংলাদেশকে বলেন, রজস্ব ফাঁকি দেয়াসহ বিভিন্ন চোরাচালান ও কারবারিদের আটক করি আমরা। মামলাও করা হয়। তবে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা তদন্ত করতে পারি না। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ওই সব মামলার তদন্ত করে। আমরা যেন মামলার তদন্ত করতে পারি ও তদন্ত করতে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সার্পোট পাওয়া যায় তার জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। মামলা তদন্ত করতে পারলে মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস/এমআরকে