Alexa চোখ মেলেছে রাবেয়া, এখনো অচেতন রোকেয়া

চোখ মেলেছে রাবেয়া, এখনো অচেতন রোকেয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৩৪ ১০ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ২১:৩০ ১০ আগস্ট ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও হাঙ্গেরির একদল চিকিৎসক ৩৩ ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পাবনার জোড়া মাথার রাবেয়া-রোকেয়া দুই বোনকে আলাদা করেন গত ২ অগাস্ট। নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর শুক্রবার সকালে জেগে উঠে রাবেয়া ইসলাম। মাকে চিনতে পেরে কোলে উঠতে চেয়েছে। তবে ওর বোন রোকেয়া ইসলাম এখনো অচেতন, তাকে রাখা হয়েছে ভেন্টিলেশনে।

শনিবার ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তিন বছর বয়সী এই দুই বোনের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানাতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসময় চিকিৎসকরা বলেন, জটিল এসব অস্ত্রোপচার খুবই ঝঁকিপূর্ণ, তবে এখন পর্যন্ত তারা সফল।

রাবেয়া শুক্রবার সকালে চোখ মেলেছে জানিয়ে তাদের মা তাসলিমা খাতুন বলেন, ও আম্মু বলে ডেকেছে, কোলে নিতে বলেছে।

পাবনার চাটমোহর উপজেলায় মূলগ্রাম ইউনিয়নের শিক্ষক দম্পতির সন্তান রাবেয়া ও রোকেয়ার জন্ম ২০১৬ সালের ১৬ জুলাই। বাবা রফিকুল ইসলাম ও মা তাসলিমা খাতুন ওই এলাকার অমৃতকুণ্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

এই দুই বোনের চিকিৎসায় সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় তারা রাবেয়া-রোকেয়াকে আলাদা জীবন দেয়ার কঠিন চেষ্টায় হাত দেন। আর এই চেষ্টায় তাদের সঙ্গী হয়েছেন হাঙ্গেরির একদল চিকিৎসক।  

কেবল হাঙ্গেরির অ্যাকশন ফর ডিফেন্সলেস পিপল ফাউন্ডেশনের (এডিপিএফ) এই চিকিৎসকরই এ জটিল কাজে হাত দিতে রাজি হয়েছিলেন।  

সামরিক চিকিৎসা মহাপরিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. ফসিউর রহমান জানান, জোড়া মাথার শিশুদের আলাদা করার জন্য বিশ্বে এ ধরনের অস্ত্রোপচার হয়েছে এ পর্যন্ত ১৭টি।  তার মধ্যে মাত্র পাঁচজোড়া শিশু এখনো বেঁচে আছে।

রাবেয়া-রোকেয়াকে আলাদা করার পর তাদের ত্বক ও টিশু যাতে দ্রুত বেড়ে উঠতে পারে সেজন্য ‘ইমপ্ল্যান্টিং এক্সপান্ডার’ নামের নতুন একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা বিশ্বে প্রথম।

উল্লেখ্য, কয়েক দফায় ৪৪ ধরনের অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে তাদের আলাদা করার কাজটি শেষ হয়, যার মধ্যে কয়েকটি অস্ত্রোপচার হয় হাঙ্গেরিতে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস