Alexa চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

জাকারিয়া চৌধুরী, হবিগঞ্জ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:১৫ ২১ জানুয়ারি ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ১১ নম্বর মক্রমপুর ইউপির চেয়ারম্যান আহাদ মিয়ার বিরুদ্ধে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়াও ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি, অনুমতি ছাড়া জেলা শহরে নিজস্ব দোকানঘরে ইউপি কার্যালয়, অশালীন আচরণ ও একক ক্ষমতা প্রয়োগ করাসহ এন্তার অভিযোগও রয়েছে।

এর প্রতিকার চেয়ে সোমবার ১১ ইউপি সদস্য হবিগঞ্জ ডিসি, বানিয়াচং উপজেলা পরিষদ, বানিয়াচং ইউএনও, জেলা দুদক, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও এমপি হবিগঞ্জ-২সহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

অভিযোগকারীরা হলেন, মো. কবির মিয়া, মো. মহিবুর রহমান চৌধুরী, আব্দুল মন্নান চৌধুরী, মো. আরাফাত আলী, মো. মুতি মিয়া, মো. আজমান মিয়া, মো. খাইরুল ইসলাম চৌধুরী, শেখ আব্দুল মমিন, মো. আলফু মিয়া, মোছা. সাফিয়া আক্তার ও মোছা. মমিনচান। 

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া চেয়ারম্যান আহাদ মিয়া হবিগঞ্জ পৌর এলাকার কামড়াপুরস্থ তার নিজস্ব দোকানঘরকে অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার ও ক্ষমতাবলে পরিষদের মালামাল দোকানঘরে রেখে নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার, গত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের এককভাবে তালিকা করে নিজের লোকজনদের অন্তরভুক্তির মাধ্যমে নামমাত্র ৩০ কেজি করে চাল ও ৫০০ টাকা করে বিতরণের নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ, মাসিক মিটিং না করে ২/৩ জন মেম্বারকে প্রকল্পের কথা বলে ডেকে এনে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায়, দলীয় প্রভাব বিস্তার, মেম্বারদের থেকে টাকা নিয়ে পরে না দেয়া, ভিজিডি, ভিজিএফ, মাতৃত্বকালীন ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, টিআর, কাবিখা, এলজিএসপিসহ বিভিন্ন প্রকল্পের  টাকা আত্মসাৎ, ফসল রক্ষা বাঁধের টাকা আত্মসাৎ, কর্মসৃজন প্রকল্পের শ্রমিকদের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

ইউপি সদস্য মমিন মিয়া ও আলফু মিয়া জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নামের তালিকায় ৭, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কোনো কৃষকের নাম তালিকায় অন্তরভুক্ত হয়নি। চেয়ারম্যান নিজ ইচ্ছেমত নামমাত্র বিতরণ করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়াও খোয়াই নদীর ফসল রক্ষা বাঁধের টাকা চেয়ারম্যান নিজেই সভাপতি হিসেবে থেকে নামমাত্র কাজ করে আত্মসাৎ করেছেন। তাই এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তপূবর্ক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও অনুরোধ জানান ভোক্তভুগী ইউপি সদস্যরা। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বানিয়াচং ইউএনও মামুন খন্দকার জানান, অভিযোগ পেয়েছি। এখন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। তদন্তের দোষী প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

চেয়ারম্যান আহাদ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সব মিথ্যা। একটি স্বার্থন্বেষী মহলের ইশারায় মেম্বাররা আমার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। আমি ইউপির কোনো অর্থ আত্মসাৎ করিনি বা কারো সঙ্গে খারাপ আচরণও করিনি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম